৪২ দিনে সংক্রমণের শিখরে পৌঁছাবে বাংলাদেশ: বিবিসি বাংলা

0
7

দেশে গত ৮ মা’র্চ প্রথম করো’না ভাই’রাসে প্রথম রোগী শনাক্ত হয়েছিল। তারপর থেকে মাত্র ১০৪ দিনের মা’থায় আ’ক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে। এদিকে এই হিসাবে বাংলাদেশে আ’ক্রান্ত ও মৃ’তের সংখ্যা পিক বা সর্বোচ্চ শিখরে পৌছাতে আরও দেড় মাসের মতো লাগতে পারে বলে আশ’ঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশে যেভাবে বাড়ছে আ’ক্রান্তের হার- দেশে মা’র্চে প্রথম করো’না রোগী শনাক্তের পর বেশ কয়েকদিন এই আ’ক্রান্তের সংখ্যাটা খুব কম (এক অংকের ঘরে) ছিল। অবশ্য তখন টেস্টের হারও ছিল বেশ কম। পরে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শনাক্তের সংখ্যাও ক্রমশ বাড়তে থাকে। এভাবে মোট আ’ক্রান্তের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়ায় গত ২ জুন।

অর্থাৎ, বাকি ৫০ হাজার রোগী শনাক্ত হয়েছে শেষ ১৬ দিনে। আগামী দিনগুলোতে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে এবং এভাবেই বাংলাদেশ করো’নাভাই’রাস সংক্রমণের শিখরে পৌঁছাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক বেনজির আহমেদ বলেন, জুন মাসের শুরু থেকেই গ্রাফটা সোজা ওপরে উঠছে। এটা সামনের দিনগুলোতে আরও বাড়তে থাকবে।’

এরইমধ্যে করো’নায় আ’ক্রান্তের দিক থেকে শীর্ষ ২০ দেশের তালিকায় ঢুকে গেছে বাংলাদেশ। এশিয়ার মধ্যে শীর্ষে ও বিশ্বের মধ্যে চতুর্থ সর্বোচ্চ আ’ক্রান্ত এখন ভা’রতে। তবে প্রতিবেশী দেশটিতে আ’ক্রান্তের সংখ্যা এক লাখে পৌঁছাতে সময় লেগেছিল ১০৯ দিন, সেখানে বাংলাদেশে লেগেছে আরও কম।

এছাড়া, অনন্য দেশে যেভাবে সংক্রমণের বি’স্ফোরণ দেখা গিয়েছিল, বাংলাদেশেও কোনও একটি জনপদে তেমন ভ’য়াবহ সংক্রমণের আশ’ঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন আরেকজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ঘনবসতিপূর্ণ একটি দেশ। এখানে স্বল্প আয়ের মানুষেরা গাদাগাদি করে বসবাস করে। এমন পরিবেশে আ’ক্রান্তের সংখ্যায় বি’স্ফোরণ হওয়ার আশ’ঙ্কা থেকেই যায়- অনেকটা ব্রাজিলের সাও পাওলো বা রিও ডি জেনিরোতে যেমনটা দেখা গেছে।’

বাংলাদেশে পিক টাইম আসবে কবে

যু’ক্তরাজ্যে করো’না সংক্রমণের পিক টাইম স্থায়ী ছিল প্রায় ৪২ দিন। ইউরোপের আরেক দেশ ইতালিতে পিক টাইম স্থায়ী হয়েছিল আরও কম। সেখানে আ’ক্রান্তের সংখ্যা যেমন দ্রুতগতিতে বেড়েছে, তেমন দ্রুত কমেও গেছে।

ইতালিতে প্রথম করো’না রোগী শনাক্ত থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছে ধীরে ধীরে নেমে আসা, এর পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে দুই মাসের মধ্যে।

তবে বাংলাদেশে প্রথম রোগী শনাক্তের তিন মাস পার হলেও এখনও দৈনিক আ’ক্রান্তের সংখ্যা ঊর্ধ্বমুখী। দেশে করো’না সংক্রমণ কবে নাগাদ শিখরে পৌঁছাবে সেটাও নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কেউ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে করো’না সংক্রমণের পিক টাইম কখন আসবে এবং সেটা কতদিন স্থায়ী হবে তা নির্ভর করছে কত টেস্ট করা হচ্ছে, মানুষ কতটা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে, সরকার কতটা কড়াকড়ি আরোপ ও তার বাস্তবায়ন করছে- এসবের ওপর।

তারা বলছেন, চীন ও ইতালির মতো বাংলাদেশও যদি শুরু থেকেই লকডাউনের কড়াকড়ি আরোপের পাশাপাশি কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশন সঠিক ব্যবস্থাপনায় নিয়ে আসত, তাহলে এতদিনে সংক্রমণ চূড়ায় পৌঁছে আবার নিচে নামা শুরু হয়ে যেত।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here