হস্তমৈথুনের কারণে শক্তি একদমই কমে গেলে, কী করে শক্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব?

0
13

আমাদের কৈশোরে এরকম প্রশ্ন উত্তর বেশ চালু ছিল। চটি বই, দেশী বিদেশী বাংলা ইংরেজি মাসিক পত্রিকা যার প্রকাশকের কোনো হদিস নেই বা থাকলেও কাল্পনিক, “পোস্টকার্ড” এর মত ছবির বই, লুকিয়ে চুরিয়ে ফুটপাথে মিলত প্রচুর।সুলভ ইন্টারনেটের যুগে এখন এমএমএস ধর্মী ক্লীপিংস সে জায়গা নিয়েছে। “রম্য রচনা” ও এখন অ্যাপএ সেয়ার করা হয়। তাছাড়া আগোনি আঙ্কেল বা আণ্টির জায়গা নিয়েছে অনলাইন নানা কলাম। একটু আধটু ইংরেজি জানলেই কেল্লা ফতে।

ইংরেজি কোড়ায় যা নিতান্তই জলভাত/ পানিভাত, গোদা বাংলায় সেটাই বেশ ….. হয়ে দাঁড়ায়। খুব সম্ভব আজন্ম পালিত ভিক্টোরিয়ান মরালিটির “ঐতিহ্য”। যাই হোক , খসড়া তৈরি ছিল। এবার লিখেই ফেললাম।

আমার উত্তর দেখে উভয় মতালম্বী মুরুব্বিগণ হেভি খচে যাবেন কিন্তু, কি আর করা !আমার উত্তর দেখে লজ্জা পেয়ে প্রশ্নকর্তা অনুরোধ প্রত্যাহার ও করে নিয়েছেন☺️(◔‿◔)

প্রশ্নকর্তার বযস কত লেখেন নি। আন্দাজ করছি মধ্য বিশ বা সদ্য ত্রিশ। কারণ তিনি যৌণ “শক্তি” নিয়ে চিন্তিত!🥺 হয়ত শক্তি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। 🌞অর্থাৎ শুভ পরিণয়ের সম্ভাবনা আছে। প্রশ্নটির উত্তর কিন্তু আমি সামাজিক পরিপ্রেক্ষিত মাথায় রেখে দেবার চেষ্টা করব। সোজা কথায় হস্ত মৈথুন ক্ষতিকারক নয়। অবিবাহিত ( উপমহাদেশ অনুযায়ী যৌণ জীবন বিহীন বা অতি অকস্মাৎ এক আধবার ঘটে এমন) যুবকদের জন্য বেশ স্বাস্থ্যকর। এমনকি বিবাহিত বা বিবাহ বিচ্ছিন্ন, বিপত্নীক, লং ডিসটেন্স সম্পর্কে আছেন তাদের জন্যও খারাপ নয়। কোনো অতিপ্রাকৃত উপায় অবলম্বন না করলে হস্ত মৈথুনে কোনো আঘাত বা ক্ষতির সুযোগ নেই।

আরেকটি বিতর্কিত বিষয় হল এই যে প্রায় সব পুরুষ এবং অধিকাংশ মহিলাও নাকি হস্ত মৈথুন করে থাকেন, কোনো না কোনো সময়ে।এই নিয়ে অনেক গবেষণা মূলক কাজ ও হয়েছে।

আর, বিবাহিত ( যৌণ জীবন যাপন কারী) কারো “শারীরিক দুর্বলতা” যেমন erectile dysfunction ( উত্থান সমস্যা), “শীঘ্র পতন” ইত্যাদি সমস্যা থাকলে তার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন ব্যক্তিগত ভাবে। যদিও এসবের বেশিরভাগই মানসিক সমস্যা, বিশেষত যুবকদের ক্ষেত্রে। অহেতুক দুশ্চিন্তা হিতে বিপরীত করে।

ওজন নিয়ন্ত্রণ, গুরুভোজন না করা, পুষ্টিকর সহজলভ্য খাবার খাওয়া, সম্ভব হলে ব্যায়াম, ধূমপান বর্জন(😁), ইত্যাদি যথেষ্ট। কুমড়োর বীজ, বেদানার সরবৎ, কালো আঙ্গুর, বিদেশী খেজুর , “কলকাতার” স্পেশাল হার্বাল টনিক, জিনসেং ক্যাপসুল এসব না খেলেও, বা কোরিয়ান/ জাপানিজ/চাইনিজ কিছু না মাখালেও চলবে।😁

আর দুঃসাহসী হয়ে টি ২০ প্র্যাক্টিস গেম খেলতে গিয়ে ক্লিন বোল্ড হবার চান্স আছে কিন্তু ( এস টি ডি/যৌণ রোগ)!!!

অকারণে পর্ণগ্রাফি দেখাবেন বা দেখবেন না। শরীরকে সুস্থ ভাবে , সহজ ভাবে নিন। আর হ্যাঁ, বাড়ির ছাদের পানি ট্যাংকির মতোই আমাদের ট্যাঙ্কিও কিন্তু ওভারফ্লো হয়, কল না খুললে, অর্থাৎ মৈথুন বা হস্তমৈথুন না করলে । সেটাই হল সুপ্তি স্খলন বা “নাইট ফলস”।☺️অনেকে এটাকেই স্বপ্ন দোষ বলে থাকেন।🤔👍

আর সব ট্যাংকে জলধারণ ক্ষমতা এক নয় , কমবেশি হয়। বয়েস, ঋতু বা মেজাজ ভেদে ট্যাংকের ধারণ ক্ষমতা বা জলের ফ্লো বাড়ে কমে। আর একফোঁটা বীর্য একফোঁটা রক্ত থেকে তৈরি নয়। এই বীর্যের বেশিরভাগ সহায়ক শুক্র গ্রন্থির নিঃসরণ। মাত্র ১% বা ২% হল ” ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে” বা সোজা ভাষায় শুক্রাণু! বেশিরভাগ “জীবন দায়ী দামী প্রোটিন জাতীয় তরল নয়, ফ্রাক্টোজ।!!”

আসলে রজ স্রাব নিয়ে অনেক আলোচনা হলেও ছেলেদের অনেক বিষয় ট্যাবু রয়ে গেছে।

শেষ করি, আমার এক বন্ধু, সহপাঠীর কথায়। সে “অতিরিক্ত”হস্ত মৈথুন করত বলে ছাত্রাবস্থায় কয়েকবার স্যারদের কাছে পরামর্শ নিতে গিয়েছিল।😅

আরেক মাতব্বর গোছের সহপাঠী প্রথম বর্ষের শেষে এক প্রকৌশলী ছাত্র বন্ধুকে নিয়ে সে যুগের সুবিখ্যাত Dr লোধের কাছে দেখাতে নিয়ে গিয়েছিল বন্ধুটির সেলফ ডায়াগ্নসড শীঘ্র পতনের চিকিৎসার জন্য !!!!( সে সময় রাস্তায় রাস্তায়, দেওয়ালে দেওয়ালে ওই “প্রসিদ্ধ” “চিকিৎসকের” পোস্টার সাটা থাকত 🤣)।

ব্রিটেনের “মুসলিম সেক্স ডক্টর” ইমাম ইলিয়াস কার্মানির সাইটও ঘুরে দেখতে পারা যায় নিতান্তই অপরাধবোধ জাগলে। কামসুত্র ইতিহাস, সংস্কৃতি চর্চার জন্য ভালো। তবে সহজ ও সুন্দরভাবে জানার জন্য জয় অফ সেক্স, পারফিউমড গার্ডেন, লাজ্জাতুন্নেছা পড়ে দেখতে পারাই যায়। শেষ দুটি যথা ক্রমে আরবের কামসুত্র আর দ্বিতীয়টি বাৎসায়নের পুস্তকের মধ্যযুগীয় আপডেটেড সংস্করণ বলা যায়।

খানিকটা স্ট্রেস হালকা করে👉

চিত্র: ইন্টারনেট সূত্রে প্রাপ্ত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here