সৈয়দপুরে স্বামীর বাড়ি থেকে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

0
146

মিজানুর রহমান মিলন
সৈয়দপুর প্রতিনিধি:
———————
নীলফামারীর সৈয়দপুরে এক পল্লীতে গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে রীনা আক্তার রানী (২৬) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছে। আজ শনিবার সকালে উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের প্রামানিকপাড়ার স্বামীর বাড়ি থেকে তাঁর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সৈয়দপুর থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে। পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে,উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের প্রামানিকপাড়ার সফি উদ্দিন প্রামানিকের ছেলে খাজা মঈনুদ্দিনের (২৭) সাথে ঢাকায় একটি বিউটি পার্লারে কাজ করা নোয়াখালীর মেয়ে রীনা আক্তার রানী সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আর এই প্রেমের পরিসমাপ্তি ঘটে গত ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তাদের বিয়ের মাধ্যমে। বিয়ের পর স্বামী খাজা মঈনুদ্দিন একটি ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কুমিল্লায় অবস্থান করে। আর তাঁর স্ত্রীর একটি বিউটি পার্লারের দোকান রয়েছে নারায়নগঞ্জে। বিয়ের পর সে সেখানেই অবস্থান করছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে গত মার্চ মাসে রীনা আক্তার রাণী সৈয়দপুরে আসে। তখন থেকেই স্বামীর বাড়িতে শশুর শাশুড়িসহ অন্যদের সাথে বসবাস করছিলেন। এরই মধ্যে তাঁর স্বামী ঈদের ছুটিতে গত ২৭ জুলাই বাড়িতে এসে ২ আগষ্ট কর্মস্থলে চলে যান।
ঘটনার দিন গতকাল শুক্রবার রাতে গৃহবধূ রীনা আক্তার রানী রাত ১১টার দিকে স্বামীর বাড়ির নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। রাতে স্বামীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে শেষ করা হয় তাঁর। ভোরে ঘুম থেকে উঠে রীনা আক্তার রানী প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে নিজের মোবাইল ফোনের সিম খুলে তার শ্বাশড়ীকে দিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে পুনরায় ঘুমিয়ে পড়ে সে। আজ সকাল ৯ টা পর্যন্ত ঘুম থেকে না ওঠায় বাড়ির লোকজন ঘরের ভেল্টিলেটর দিয়ে দেখেন গৃহবধূ রীনা আক্তার রাণী ঘরের তীরের সঙ্গে গলায় ওঁড়না পেঁচিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলছেন। বিষয়টি পরিবারেরর লোকজন ক্ষেতে কাজ করতে যাওয়া গৃহকর্তা শফি উদ্দিন প্রামানিককে জানান। সাথে সাথে তিনি ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হেলাল চৌধুরীকে ঘটনাটি জানালে তিনি সৈয়দপুর থানায় খবর দেন। পরে খবর পেয়ে সৈয়দপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আতাউর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উপস্থিতিতে বাড়ির অন্য রুমের সিলিং উঠিয়ে ওই ঘরের দরজা খোলা হয়। পরে তারা লাশটি নিচে নামান। এরপর গৃহবধূর লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। এসময় ঘর থেকে একটি মোবাইল ফোন ও সিম আলামত হিসেবে সংগ্রহ করা করে পুলিশ। এসময় পুলিশ প্রয়োজনীয় তদন্তের স্বার্থে ঘরটি তালা দিয়ে বন্ধ করে দেন।
সৈয়দপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। স্বামীর বাড়ি থেকে গৃহবধূর লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সৈয়দপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আতাউর রহমান। তিনি ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে গৃহবধূর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
এদিকে গৃহবধু রীনা আক্তার রানী ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকের ধারণা টাকা পয়সাকে কেন্দ্র করে পারিবারিক কলহের কারনে সে আত্মহত্যা করতে পারে। এলাকাবাসি বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here