সৈয়দপুরে ভিটেবাড়ি দখল

0
58

মিজানুর রহমান মিলন
সৈয়দপুর প্রতিনিধি:
————-
নীলফামারীর সৈয়দপুরে এক ব্যক্তির ভিটেবাড়ির জায়গা জবর দখল করে ৩২টি ফলজ গাছ কেটে ফেলাসহ ভিটেমাটি ও প্রাণ বাঁচাতে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে হুমকি প্রদর্শন করা হয়েছে বলে অভিযোগ মিলেছে। উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাখুলী তহশীলদারপাড়ায় গত সোমবার (৩ আগষ্ট) দুপুর বেলা এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ডা. মে. বাবুল হোসেন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বসতভিটা জবর দখল ও ফলজ গাছ কেটে ফেলাসহ এক লাখ চাঁদা দাবিসহ নানা রকম হুমকি-ধামকি করা হয়েছে জানিয়ে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগে জানা গেছে, বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাখুলী তহশীলদার পাড়ার মৃত. আফান উদ্দিন সরকারের ছেলে ডা. মো. বাবুল হোসেনের শহরের নিয়ামতপুর বাস টার্মিনালে সাথী ফার্মেসী নামে একটি ওষুধের দোকান রয়েছে। ঘটনার দিন গত সোমবার বেলা ১১টার দিকে তাঁর প্রতিপক্ষ একই এলাকার মৃত. সামসুল হকের ছেলে আনিছুর রহমান মুকুলের নেতৃত্বে মৃত মোশাররফ হোসেনের মো.সেলিম হোসেন ও মো. লিটন হোসেনসহ আরো ৪/৫জন সংঘবদ্ধ হয়ে ডা. মো. বাবুল হোসেনের বাড়ির প্রধান ফটকের সামনের ২ শতক বসতভিটার সীমানা পিলার জোরপূর্বক ভেঙ্গে পাশের পুকুরে ফেলে দেয়। এছাড়াও তাঁর ৩২টি ফলজ গাছ কেটে দরজা সঙ্গে ড্রেনের ন্যায় গর্ত করে দেয়। এ সময় ডা. বাবুল ও তাঁর ছেলে বাঁধা দিতে গেলে প্রতিপক্ষ আনিছুর রহমান মুকুল ও তাঁর সঙ্গীয় সেলিম ও লিটন লাঠিসোটা, কোদাল ও বল্লম নিয়ে তেড়ে আসে। এ সময় প্রতিপক্ষরা ভিটেমাটি ও প্রাণ বাঁচাতে ডা. মো. বাবুল হোসেনের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদাও দাবি করে হুমকি প্রদর্শন করে। এঘটনায় প্রতিবেশিদের সহযোগিতায় বাবুল ও তাঁর ছেলে হিমেল হোসেন কোন রকমে প্রতিপক্ষের হাত থেকে রক্ষা পান। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ডা. বাবুল হোসেন একজন হৃদরোগী। তিনি প্রায় ১০ মাস যাবৎ রংপুরের চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে বিশ্রামে রয়েছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তাকে ভারতে চিকিৎসার নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু চলমান মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতে পারছেন না তিনি। এছাড়াও তাঁর ছেলে প্রতিদিন বাড়ি থেকে সৈয়দপুর শহরে এসে ওষুধের দোকান পরিচালনা করেন। তাই তিনি (বাবুল) ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রতিপক্ষের হুমকি-ধমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন । এ অবস্থায় ডা. মো. বাবুল হোসেন গত ৩ আগষ্টের ঘটনার বিবরণ দিয়ে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

গত মঙ্গলবার সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবুল হাসনাত খানের নির্দেশে উপ-পরিদর্শক দীলিপ চন্দ্র রায় তদন্ত করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি বলেন, দুই ভাই ও ভাজিতার মধ্যে জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে বিরোধে জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here