সৈয়দপুরে প্রাণি সম্পদ দপ্তরের দুই মাঠকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

0
76

মিজানুর রহমান মিলন
সৈয়দপুর প্রতিনিধি :
*-*–*-**********
নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা প্রাণি সম্পদ কার্যালয়ের দুই মাঠকর্মীর বিরুদ্ধে গৃহপালিত গবাদিপশুকে (গরু-ছাগল) মেয়াদোর্ত্তীণ ভ্যাকসিন (টিকা) দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আজ মঙ্গলবার উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের অসুরখাই এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় ভ্যাকসিন দিতে আসা ওই দুই মাঠকর্মীকে আটক করে রাখে গবাদিপশুর মালিকেরা। পরে সৈয়দপুর উপজেলা প্রশাসন ও প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
জানা যায়, উপজেলায় প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের পিপিআর রোগ নির্মূল এবং ক্ষুরারোগ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প এবং ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গবাদিপশুর অ্যানথ্রাক্স (তড়কা), খুড়া এবং পিপিআর রোগের ভ্যাসকিন দেওয়া হয়ে থাকে। এসব ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য সৈয়দপুরে প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে ইউনিয়ন ভ্যাকসিনেটর এবং একজন করে এলএসপি কর্মরত রয়েছেন। তারা গ্রামে গ্রামে গিয়ে গবাদিপশুকে অ্যানথ্রাক্স (তড়কা) খুরা এবং পিপিআর রোগের ভ্যাকসিন প্রয়োগ করাসহ লালন-পালনে পরামর্শ প্রদান করেন। আর এসব ভ্যাকসিন উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

এজন্য কামারপুকুর ইউনিয়নে অসুরখাই এলাকায় গবাদিপশুকে ভ্যাকসিন দেয়া হবে জানিয়ে গতকাল সোমবার রাতে স্থানীয় দুটি মসজিদের মাইক থেকে প্রচার করা হয়। আজ মঙ্গলবার প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের পিপিআর রোগ নির্মূল এবং ক্ষুরারোগ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প মাঠ কর্মী ইউনিয়ন ভ্যাকসিনেটর মো. সাখাওয়াৎ হোসেন এবং ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের মাঠ কর্মী এলএসপি মোছা. নাজমুন নাহার অসুরখাই গ্রামে ভ্যাকসিন দিতে যান। ওই এলাকার অসুরখাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এলাকার গবাদিপশুকে (গরু-ছাগল) ভ্যাকসিন দেওয়া কাজ শুরু করেন দুইটি প্রকল্পের মাঠ কর্মী। সকালে ওই এলাকার মশিউর রহমান, রজবআলী, আব্দুল জলিল,শরীফ, সুলতান ও নাইমের ১০/১২টি গরুকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। এর এক পর্যায়ে এলাকার জনৈক লতা মতিন নামের এক গৃহকর্ত্রীর একটি বাছুর গরুর (বকনা) ভ্যাকসিন প্রয়োগ করেন মাঠ কর্মী সাখাওয়াৎ হোসেন। আর ওই ভ্যাকসিন প্রয়োগের পর পরই বাছুর গরুটি ছটফট করতপ করতে ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এতে গরু মালিকরা হতভম্ব হয়ে পড়েন। এ সময় সেখানে উপস্থিত অপর গরুর মালিক রাশেদুল ইসলামের মনে ভ্যাকসিনের মান নিয়ে সন্দেহ হয়। পরে তিনি প্রাণি সম্পদ দপ্তরের মাঠ কর্মী সাখাওয়াৎ হোসেনের নিয়ে আসা ছয়টি ভ্যাকসিনের বোতল হাতে নিয়ে দেখতে পান সবগুলোরই মেয়াদোর্ত্তীণ। এ অবস্থায় গরু-ছাগলের মালিকরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেন। তারা দুই মাঠকর্মীকে আটক করে রাখেন। পরে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাসিম আহমেদ এবং উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রাশেদুল হককে বিষয়টি অবহিত করে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, প্রাণি সম্পদ দপ্তরের দুই মাঠ কর্মীর নিয়ে আসা একটি হটপটের মধ্যে ছয়টি ভ্যাকসিনের মধ্যে তড়কা রোগের প্রতিষেধক টিকার একটি বোতলে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। প্রাণি সম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান, মহাখালি, ঢাকা ও কুমিল্লা লেখা রয়েছে। পরিমাণ ১০০ মি.লি। মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ লেখা রয়েছে মে ২০১৫ইং। আরো লেখা রয়েছে টিকার বোতল রেফ্রিজারেটরে (৪ডিগ্রী-৮ডিগ্রী সে. গ্রেড) তাপমাত্রায় রাখা বিধেয়। অথচ তা রাখা হয়েছে একটি ভাত রাখার হটপটের মধ্যে। ছাগলের পিপিআর রোগের ভ্যাকসিনের বোতলে আবার কোন তারিখ উল্লেখ নেই। আর অ্যানথ্রাক্স রোগের ভ্যাকসিনের বোতলের গায়ে সাটানো লেভেল ঘষে তুলে ফেলা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাণি সম্পদ দপ্তরের ইউনিয়ন ভ্যাকসিনেটর মো. সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন,আমাকে সৈয়দপুর উপজেলা প্রাণি সম্পদ দপ্তর থেকে ভ্যাকসিনগুলো সরবরাহ করা হয়েছে। তবে তিনি উৎপাদন ও মেয়াদোর্ত্তীণের তারিখ দেখেননি জানিয়ে নিজের ভূল স্বীকার করে বলেন গরু-ছাগলকে দেওয়ার আগে ভ্যাকসিনের বোতলের লেভেলে লেখা উৎপাদন ও মেয়াদোর্ত্তীণ তারিখ দেখা উচিত আমার।

সৈয়দপুর উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রাশেদুল হক বলেন, ওই ইউনিয়ন ভ্যাকসিনেটরকে অফিস থেকে কোন ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়নি। তিনি আরো জানান, গত দেড় মাস আগেই অফিসে সরবরাহকৃত ভ্যাকসিন (টিকা) শেষ হয়ে গেছে। আমার অফিসের স্টোরে কোন ভ্যাকসিন নেই। ভ্যাকসিনে জন্য আমি চাহিদা দিয়েছি। তবে উদ্ধারকৃত ভ্যাকসিনগুলো সরকারি। ওই মাঠ কর্মী সে সব মেয়াদোর্ত্তীণ ভ্যাকসিন কোথায় পেল কিভাবে পেল তা তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে সে দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর বিরুদ্ধে দাপ্তরিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাসিম আহমেদ বলেন, বিষয়টি গুরুতর অপরাধ। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে বলে জানান তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here