সরকার খালেদা জিয়ার প্রতি যে মহানুভবতা দেখিয়েছে তা তুলনাহীন: তথ্যমন্ত্রী

0
64

সরকার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি যে মহানুভবতা দেখিয়েছে তা তুলনাহীন বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।


‘জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে সরকার মিথ্যাচার ছড়াচ্ছে’- বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর এ মন্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী বলেন, ‘পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট ও ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট হত্যাকাণ্ডে জিয়া, তারেক রহমানের সংশ্লিষ্টতা ও খালেদা জিয়ার প্রশ্রয় দেওয়ার ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ায় বিএনপির গাত্রদাহ শুরু হয়েছে।’

হাছান মাহমুদ আরও বলেন, ‘একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় তারেক জিয়ার শাস্তি হয়েছে, দুর্নীতি মামলায়ও তার শাস্তি হয়েছে। খালেদা জিয়া এতিমের টাকা আত্মসাৎ করার কারণে শাস্তিপ্রাপ্ত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নজিরবিহীনভাবে খালেদা জিয়ার প্রতি মহানুভবতা দেখিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাবলে প্রশাসনিক আদেশে একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে তিনি ছয় মাসের জন্য মুক্তি দিয়েছেন। বাংলাদেশে এরকম আগে ঘটেনি। সুতরাং সরকার খালেদা জিয়ার প্রতি যে মহানুভবতা দেখিয়েছে তা যেমন তুলনাহীন, তেমনি বিএনপি যেভাবে পেট্রোলবোমা ছুঁড়ে মানুষের প্রতি হিংস্রতা দেখিয়েছে, সেটিও তুলনাহীন।’

‘এক-এগারোর সরকার খালেদা জিয়াকে মাইনাসের চেষ্টা করেছিল’- বিএনপি মহাসচিবের এমন বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে বিএনপি সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি-দুঃশাসনের কারণেই এক-এগারোর সরকার সৃষ্টি হয়েছিল। আপনারা জানেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল বিএনপি কিভাবে দেশ পরিচালনা করেছে। সেসময় দেশ দুর্নীতিতে পরপর পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, বাংলা ভাই, শায়খ আব্দুর রহমানের সৃষ্টি হয়েছে, দেশের ৬৩ জেলার ৫০০ জায়গায় একযোগে বোমা বিস্ফোরিত হয়েছে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। হাওয়া ভবন সৃষ্টি করে সমান্তরাল সরকার পরিচালনা করা হয়েছে। অর্থাৎ দুর্নীতি ও চরম অপশাসনের কারণেই এক-এগারোর সরকার সৃষ্টি হয়েছিল। সেই সরকারের মূল উদ্দেশ্য যদি খালেদা জিয়াকে মাইনাস করা হতো, তাহলে সেই সরকার প্রথমে এসে তাকে গ্রেপ্তার করার কথা ছিল। সেটি কিন্তু তারা করেনি বরং এক-এগারোর সরকারের সময় ঘটা অন্যায়ের প্রতিবাদকারী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাদের উদ্দেশ্য ছিল মূলত জননেত্রী শেখ হাসিনাকে মাইনাস করা। পরে দেশের মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই মাঠে নেমেছিল, বিএনপির কর্মীরা নয়।’ ‘রাজপথে নামতে পারলে গণতন্ত্র বিরোধীদের সরাতে পারবো’- মির্জা ফখরুলের এ বক্তব্যের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘প্রথম কথা, বিএনপি রাজপথে নামতে তো বাধা নেই। এটি গণতান্ত্রিক দেশ, এখানে যে কেউ রাজপথে নেমে প্রতিবাদ করতে পারে, মিছিল-মিটিং করতে পারে। প্রেসক্লাবের সামনে আপনারা প্রতিদিন দেখছেন, সেখানে মিছিল-মিটিং-মানববন্ধন হয়, অবস্থান ধর্মঘট হয়, দেশের অন্য জায়গাও হয়। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি বিএনপি যেখানেই মিটিং করছে, সেখানেই নিজেরা মারামারি করছে। রিজভী সাহেব ক’দিন আগে উত্তরবঙ্গে মিটিং করতে গেছেন, সেখানে নিজেরা মারামারি করে মিটিং বন্ধ করে দিয়েছে। মির্জা ফখরুল সাহেব নিজে ক’দিন আগে বলেছেন, এখন প্রয়োজন হচ্ছে বিএনপি’র ভেতরে ঐক্য। তার বক্তব্য অনুযায়ী অনুরোধ জানাবো, বিএনপি ভিতরের ঐক্যটা একটু প্রতিষ্ঠা করার জন্য। আর তাদের বিভিন্ন আলটিমেটাম আমরা গত সাড়ে ১১ বছর থেকে শুনে আসছি। এখন জনগণ অনেক সময় প্রশ্ন করে তাদের এই আলটিমেটাম কোন বছরের জন্য। তাদের এ বক্তব্যগুলো আসলে হাস্যকর।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here