শুক্রবারই অধিনায়কত্ব ছাড়ছেন মাশরাফি

0
13

গত বিশ্বকাপের পরই অধিনায়কত্ব ছাড়ার কথা ছিল মাশরাফি বিন মুর্তজার। কিন্তু বিভিন্ন কারণে এ ডানহাতি পেসার সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না। তবে বৃহস্পতিবার সেই সিদ্ধান্তই জানিয়ে দিলেন। শুক্রবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ওয়ানডে দিয়েই বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব ছাড়বেন তিনি। তবে এখনই অবসর নিচ্ছেন না। যতদিন সম্ভব খেলা চালিয়ে যেতে চান নড়াইল এক্সপেস। 

সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডের আগের দিন অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণা নিজেই দেন মাশরাফি, ‘আমি প্রফেশনালি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অধিনায়কের দায়িত্বটা সবসময় চ্যালেঞ্জিং। চেষ্টা করেছি দলকে সর্বোচ্চটা দেয়ার। আশা করি, সামনে যাকে অধিনায়ক করা হবে তাকে ২০২৩ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় দেয়া হবে।’

সব সময় চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করেন মাশরাফি। যে কারণে কখনই অধিনায়কত্ব নিজের কাছে চাপ মনে হয়নি তার। এ ব্যাপারে ম্যাশ বলেন, ‘আমি সবসময় চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করি। কারণ, আপনি যদি ঘুম থেকে উঠে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সবকিছু রেডি পান তাহলে তো আর আপনার কোনো কিছু করার আখাঙ্ক্ষা থাকে না। আমি চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করি।’

অধিনায়কত্ব ছাড়লেও সব সময় সতীর্থের প্রতি শুভকামনা থাকবে বলে জানিয়েছেন মাশরাফি, ‘আমি আমার পরিবারের সদস্যদের যেমন ভালোবাসি, শ্রদ্ধা করি সতীর্থদেরও তেমন ভালোবাসি, শ্রদ্ধা করি। ভবিষ্যতেও তাদের প্রতি ভালোবাসা থাকবে। তাদের জন্য সবসময়ই শুভকামনা থাকবে।’

এরআগে ২০০১ সালে দেশের জার্সি জড়িয়ে ছিলেন মাশরাফি। এর ৯ বছর পর এ ডানহাতি পেসার পান অধিনায়কের দায়িত্ব। কিন্তু চোটের কারণে সে সময় সেই দায়িত্ব বেশিদিন পালন করতে পারেননি তিনি। যে কারণে তার ক্যারিয়ারও পড়েছিল হুমকির মুখে। তারপরও দমে যাননি নড়াইল এক্সপ্রেস। ঠিকই ঘুরে দাঁড়িয়ে জাতীয় দলে ফিরেন বীরদর্পে। তাইতো আবার ২০১৪ সালের নভেম্বরে ওয়ানডে নেতৃত্ব পান তিনি। 

মাশরাফি নেতৃত্বে ফেরায় বাংলাদেশ দলের চেহারাও যেন বদলে যায়। তাইতো ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে টাইগাররা জায়গা করে নেয় নকআউট পর্বে। এরপর প্রথমবারের মতো ওয়ানডেতে পাকিস্তান, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ জয় করে লাল-সবুজ প্রতিধিরা। এদিকে ২০১৭ সালে তার নেতৃত্বে টিম বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ওঠে সেমিফাইনালে। 

এখন পর্যন্ত ৮৭ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশকে ৪৯টি ম্যাচ জিতেছেন মাশরাফি। এরমধ্যে ৩৬ ম্যাচে হেরেছে দল। তবে ঠিকই ম্যাচ জয়ে বাংলাদেশের সেরা অধিনায়কের রেকর্ডটা নিজের করে নিয়েছেন মাশরাফি। এমন একজন অধিনায়কের নেতৃত্ব সত্যিই মিস করবে টিম টাইগার্স, তা বলায় যায়। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here