রিমা’ন্ডে সাবরিনা আরিফের ঝগ’ড়াঝাঁটি বারবার থামাচ্ছেন পু’লি’শ

0
45

মিন্টো রোডের গোয়েন্দা দফতরে রি’মান্ডে থাকা ডা. সাবরিনা এবং তার স্বামী আরিফ চৌধুরীর ঝগড়াঝাঁটিতে বির’ক্ত গোয়েন্দা কর্মক’র্তারা।

যখনই সাবরিনার সামনে আরিফকে নিয়ে আসা হচ্ছে, তখনই একজন আরেকজনকে দোষারোপ করছিলেন। তুমি থেকে একপর্যায়ে তুই তাকারিতে চলে যাচ্ছিল তাদের এই ঝগড়া।

সাবরিনা যখন বলছিলেন, তুই আমা’র জীবন, ক্যারিয়ার, চাকরি-সব শেষ করে দিয়েছিস। তখন আরিফ বলেন,

তোর বুদ্ধিতেই করো’নাভাই’রাসের নমুনা পরীক্ষার কাজ নিয়েছিলাম। জেকেজির চেয়ারম্যান হয়ে তুইতো ব্যবসার টাকা আর বেতনও নিয়েছিস।

গোয়েন্দা পু’লিশের একটি সূত্র এসব তথ্য দিয়ে বলেছে, যখনই তাদের কোনো তথ্য যাচাইয়ে মুখোমুখি করা হয়, তখনই দুজনে ঝগড়াঝাঁটি শুরু করে দেন। তাদের বারবার থামাতে হয়েছে।

ত’দন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নমুনা পরীক্ষার জালিয়াতির কথা আরিফ স্বীকার করেছে। সাবরিনাও জালিয়াতির সঙ্গে যু’ক্ত থাকার বিষয়টি কবুল করেছেন। আজ শুক্রবার সাবরিনাকে আ’দালতে হাজির করে প্রয়োজনে ফের রি’মান্ডের আবেদনও করা হবে।

সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে সাবরিনা বলেছে, জেকেজি ও ওভাল গ্রুপের অনেকেই এই দুষ্কর্মের সঙ্গে যু’ক্ত।

তবে তিনি আরিফ চৌধুরীকেই দোষারোপ করেছেন বারবার। তার দাবি এসব কারণে তিনি তাকে ডিভোর্সও দিয়েছেন। তবে আরিফ বলেছেন, সাবরিনার কারণে এই অ’পকর্মে জড়িয়েছেন তিনি।

সাবরিনা আরিফ চৌধুরী ও তার স্বামী আরিফুল হক চৌধুরীকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদে নমুনা পরীক্ষার নামে জালজালিয়াতিতে জ’ড়িত আরও কয়েকজনের নাম

পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পু’লিশ (ডিবি)। তাদের অ’পকর্মে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদফতর ও স্বাচিপের নেতাসহ এদের সংখ্যা পাঁচ থেকে সাতজন।

তারা জানতেন, সাবরিনা এবং আরিফের ওভাল গ্রুপ একটি নাম সর্বস্ব প্রতিষ্ঠান। এরপরও স্বাস্থ্যের সব ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কাজ বাগিয়ে নিতে সহযোগিতা করতেন।

এখন প্রশ্ন উঠেছে, এসব সহযোগিতায় ওইসব কর্মক’র্তাদের কী’’ ধরনের স্বার্থ জ’ড়িত ছিল, তা নিয়েও ত’দন্তে নেমেছে ডিবি পু’লিশ।

গোয়েন্দা পু’লিশের এক কর্মক’র্তা জানান, গত ১৪ ও ১৫ জুলাই ওভাল গ্রুপের গুলশান অফিসে তল্লা’শি চালিয়ে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক ডা. সাবরিনা শারমিন হুসাইন ওরফে সাবরিনা আরিফ চৌধুরীর জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান

হিসেবে মাসে মাসে বেতন নিতেন। বেতনের স্লিপও পাওয়া গেছে। এরকম তিনটি বেতনের স্লিপ তাদের হাতে রয়েছে। জেকেজি থেকে সাবরিনা চেয়ারম্যান হিসেবে প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা করে নিতেন।

সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জেকেজির চেয়্যারম্যান হয়ে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা ভঙ্গ করায় ইতিমধ্যে সাবরিনাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্বাস্থ্য

মন্ত্রণালয়। গত ২৩ জুন আরিফুলকে গ্রে’ফতার করার পর তার স্ত্রী’’ সাবরিনাকে গ্রে’ফতার করা হয় গত ১২ জুলাই।

ডিবি পু’লিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) গো’লাম মোস্তফা রাসেল এ প্রতিবেদককে বলেন,

তাদের জাল জালিয়াতির বিষয়টি অনেকটা প্রমাণিত। আমাদের এখন মূল টার্গেট এভিডেন্স কালেক্ট (তথ্য-প্রমাণ) করা। যার ভিত্তি করে আম’রা

শক্তভাবে ত’দন্ত সম্পন্ন করতে পারি। আম’রা সাক্ষ্য-প্রমাণগুলোকে শক্তভাবে উপস্থাপন করছি। তবে তারা নকল করো’নার রিপোর্ট দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করতে পারেননি।

গতকাল সাবরিনার তিন দিনের রি’মান্ড শেষ হয়েছে। আজ শুক্রবার তাকে ফের আ’দালতে হাজির করে রি’মান্ড আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন ত’দন্ত কর্মক’র্তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here