যে ৫ শর্তে লন্ডন যাবেন খালেদা

0
2

গত ২৫ মার্চ ছয়মাসের জন্য বিশেষ বিবেচনায় জামিন পেয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। জামিন পাওয়ার পর তিনি তার গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় রয়েছেন। তাকে এখন পর্যন্ত কোন প্রকাশ্য রাজনৈতিক তৎপরতায় জড়াতে দেখা যায়নি। যদিও ঈদ উপলক্ষে তিনি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং নাগরিক ঐক্যের নেতাদের সঙ্গে দেখা করেন। কিন্তু সে সমস্ত সাক্ষাতের কোন বিবৃতি প্রকাশিত হয়নি। তিনি দেশ এবং দেশের পরিস্থিতি নিয়ে কোন আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও এখন পর্যন্ত রাখেননি।

বেগম জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে, তিনি ভিসা নিয়ে ব্যস্ত এবং শারীরিকভাবে তিনি অসুস্থ। এখন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর কোন অভিপ্রায় তার নেই। তবে বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সূত্রগুলো বলছে, তার দেশে যে চিকিৎসা হচ্ছে তা পর‌্যাপ্ত নয়। এই চিকিৎসায় তার সুস্থ হয়ে উঠার সম্ভাবনা আপাতত নেই। কিন্তু যখন তিনি মুক্তি পেয়েছেন তখন সারাবিশ্ব জর্জরিত থাকায় আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এখন আন্তর্জাতিক কিছু কিছু যোগাযোগ চালু হয়েছে। সেই চালু হওয়ার প্রেক্ষিতেই বেগম খালেদা জিয়াকে লন্ডনে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে তার পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের একজন সদস্য বলেছেন, আমরা সরকারের কাছে বেগম জিয়ার উন্নত চিকিৎসার স্বার্থে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার জন্যই আবেদন করেছিলাম। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতেই সরকার ‘মহানুভবতার’ পরিচয় দিয়ে বেগম জিয়াকে মুক্ত করেছিলেন। কিন্তু সেই সময় পরিস্থিতি অনুকুল ছিলো না। এখন আমরা বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছি। জানা গেছে লন্ডনে এখন বিদেশিদের নেওয়া হলেও অনেক শর্ত সাপেক্ষে নেওয়া হচ্ছে। এ সমস্ত শর্তের মধ্যে রয়েছে করোনার নেগেটিভ রিপোর্ট এবং ওই দেশে গিয়ে

নিজ দায়িত্বে নিজ খরচে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকা। আর এই শর্তগুলো পূরণ করেই বেগম খালেদা জিয়া বিদেশ যাবেন বলে জানা গেছে। কেবল লন্ডনের শর্ত পূরণ করলেই হবে না। যেহেতু বেগম জিয়া দুটি মামলায় দণ্ডিত এবং একাধিক মামলা রয়েছে। এজন্য তার বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারেরও শর্ত পূরণ করতে হবে।

সরকার যে জামিন দিয়েছে সেখানে বিদেশ যাওয়ার কোন উল্লেখ নেই। তবে এটা নিয়ে ভিন্নমত পাওয়া গেছে। অনেকে মনে করছেন যে, যেহেতু তিনি জামিন পেয়েছেন, সেহেতু তিনি চাইলে বিদেশ যেতে পারেন। আবার অনেক আইনজীবী বলছেন যে, বিদেশে যেতে হলে বেগম খালেদা জিয়াকে আবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আলাদা আবেদন করতে হবে এবং আবেদনের প্রেক্ষিতে যদি সরকার মনে করে যে তাঁর বিদেশ যাওয়া উচিত তখন তাঁকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে।

অবশ্য বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা বলছেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার যে ব্যক্তিগত চিকিৎসক টিম রয়েছে তাঁরা গত ২৫শে মার্চ থেকেই নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন এবং এখন তাঁর ডায়বেটিস, আর্থাইটিসের ব্যথাসহ আরো কিছু রোগের উপকার হচ্ছেনা। এই প্রেক্ষিতেই তাঁরা মনে করছেন যে, তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো উচিত। এই বিষয়টি তাঁরা সরকারকে জানিয়েছেন বলেও একটি সূত্র দাবি করেছে। সরকারের একাধিক সূত্র বলছে যে বেগম খালেদা জিয়াকে যদি লন্ডনে যেতে হয় তাহলে তাঁকে কতগুলো শর্ত পূরণ করে যেতে হবে এবং এখন পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার পরিবার আর সরকারের ভেতর এই শর্ত নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে বলেও একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। যে শর্তগুলোর সাপেক্ষে বেগম খালেদা জিয়া লন্ডনে যেতে পারবেন সেই শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে-

১. শুধু চিকিৎসাই নিতে যাবেন, চিকিৎসা শেষে আবার দেশে ফিরে আসবেন।২. চিকিৎসা সম্পর্কে নিয়মিত রিপোর্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করতে হবে।৩. কোন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তিনি জড়াবেন না।৪. বিদেশে কোন বক্তব্য/বিবৃতি দিবেন না; এমনকি কোন প্রকাশ্য সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।৫. বিদ্যমান মামলা চলবে, তাঁর অনুপস্থিতিতেই বিচারকাজ অব্যহত থাকবে।বেগম খালেদা জিয়ার পরিবার অবশ্য বলছেন যে, বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হোয়ার মতো মানসিক বা শারীরিক কোন অবস্থাই নেই। আর একারণেই বেগম খালেদা জিয়ার বোন বলেছেন যে, এখন তাঁদের লক্ষ্য একটাই। তা হলো বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা করা। আর এই সুচিকিৎসা দেশে সম্ভব হচ্ছেনা বলেই তাঁকে বিদেশ নিয়ে যেতে আগ্রহী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here