যেসব খাবার খেলে মন ভালো থাকে

0
98

এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, প্রক্রিয়াজাত বা প্যাকেটজাত খাবার খাওয়ার চেয়ে টাটকা শাকসবজি ও ফলমূল, সামুদ্রিক মাছ বা ভূমধ্যসাগরীয় (Mediterranean) এলাকার বাসিন্দাদের মতো খাবার (Diet) খেলে মনের বিষন্নতার উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাছাড়া নিজের পছন্দের কিছু খাবার খেলে মন ভালো হয়ে যায় কারণ পছন্দের কিছু খেলে মস্তিষ্কে ‘সেরেটেনিন’ নামক ভালোলাগার হরমোন উৎপন্ন হয়।

মন ভাল করার খাবার :

১) শাকসবজি ও ফলমূল : গবেষকরা জানাচ্ছেন, ফলমূল ও সবজিসমৃদ্ধ সুষম খাবার মানুষের বিষণ্ণতা দূর করতে পারে মাত্র দুই সপ্তাহেই। প্রত্যেক ধরনের শাক জাতীয় খাবারে প্রচুর পরিমান ভিটামিন, খনিজ পদার্থ বা মিনারেল সহ নানা ধরনের পুষ্টি উপাদান থাকে। বিশেষ করে সবুজ শাকে পুষ্টি উপাদানের মাত্রা বেশি।

ফল ও সবজিতে আছে প্রচুর পরিমানে ফাইটোকেমিক্যাল যা আমাদের দেহকে সুস্থ রাখে ও মস্তিষ্কের উর্বরতা বৃদ্ধি করে। এর মধ্যে বিশেষ কিছু শাকসবজি ও ফলমূল আছে যা আমাদের মনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। যেমন:

  • পালংশাক : এতে রয়েছে ফলিক অ্যাসিড এবং প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেশিয়াম যা বিষণ্ণতা কমাতে সাহায্য করে।
  • টমেটো : এতে রয়েছে লাইকোপেন, ফলিক অ্যাসিড এবং আলফা লিপোক অ্যাসিড যা হতাশা দূর করতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে যারা হতাশায় ভুগে থাকেন তাদের নিয়মিত টমেটো খাওয়া হতাশা দূর করতে সাহায্য করে।
  • মিষ্টি আলু : এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে বিটা ক্যারটিন এবং ভিটামিন বি৬ রয়েছে যা মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। এটি হতাশা দূর করতেও বেশ কার্যকর।
  • পেঁয়াজ এবং রসুন : পেঁয়াজও রসুন অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি ও এগুলো অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ সবজি যা আমাদের মুড পরিবর্তন করতে সাহায্য করে।
  • বিটরুট : এতে রয়েছে ফলেট এবং ম্যাগনেসিয়াম যা বিষণ্ণতার বিরুদ্ধে কাজ করে এবং আমাদের মস্তিষ্কে ভালোলাগার হরমোন সেরেটেনিন উৎপাদনে সাহায্য করে।

  • কমলা বা মাল্টা : ভিটামিন সিতে ভরপুর টক জাতীয় ফলে থাকে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা দ্রুত মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
  • কলা : কলার মধ্যে রয়েছে উচ্চ পরিমাণ অ্যামাইনো এসিড ও ট্রিপটোফেন। এসব উপাদান মনকে শিথিল করতে সাহায্য করে এবং এতে ঘুম ভালো হয়। এটি মস্তিষ্কে সেরোটোনিন নামক রাসায়নিক পদার্থ তৈরি করে, এতে সুখী বোধ হয়।
  • নারিকেল : নারকেলে বর্তমান ট্রাইগ্লিসেরাইডস মন ভাল রাখতে সাহায্য করে। এতে যে ফ্যাট থাকে তা মন-মেজাজ এবং মস্তিষ্ককে সতেজ রাখতে সাহায্য করে। তবে নারকেলের দুধ এবং নারকেল দিয়ে তৈরি মিষ্টি শরীরের পক্ষে খুব একটা ভাল নয়। তাই কাঁচা নারকেল খাওয়াই সব থেকে ভাল।
  • কালোজাম/ ব্লুবেরি : ব্লুবেরির বেগুনি রঙটা আসে অ্যান্থোসিয়ানিন নামক একটি উপাদান থেকে যার রয়েছে মেজাজ ভালো করে দেয়ার ক্ষমতা।
  • আপেল : মনোবিজ্ঞানী দূরে রাখতে চাইলে প্রতিদিন একটি করে আপেল খাওয়ার অভ্যাস করা খুবই মঙ্গল জনক। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট।
  • অ্যাভোকাডো : আপনি যদি প্রতিদিন ১/২ টি Avocado আপনার খাবারের সাথে গ্রহণ করেন তাহলে আপনার মস্তিষ্ক অনেকটা সুপার হিরোদের মস্তিষ্কের মত কাজ করবে।

২) মাছ : মাছ হল আনন্দে থাকার জন্য খুবই উপযুক্ত একটি খাবার। এতে বর্তমান ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড মুড ভাল রাখে। এছাড়াও যদি আপনি মাছ খেতে খুব একটা ভাল না বাসেন তাহলে ওমেগা-৩ এর অনেক ট্যাবলেট পাওয়া যায়, যা খেলেই ভাল থাকবে আপনার মুড। তাছাড়া প্রতিদিন মাছ খেলে ৫০ শতাংশ উপসর্গ যেমন, ঘুম রোগ, বিষণ্ণতা, আত্মঘাতী চিন্তা কমে যায়। তাই মন ও দেহ ভালো রাখতে মাছ রাখুন প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায়।

৩) চকোলেট : চকোলেটের মধ্যে অ্যানানডামাইড নামক এক ধরনের উপদান রয়েছে। এটি বিষণ্ণতা দূর করে মনকে ভালো করে। তবে ভালো মানের চকোলেট এবং কালো চকোলেটে এই উপাদান পাওয়া যায়। তাই মন খারাপ হলে খেয়ে নিতে পারেন চকোলেট।

৪) বাদাম : বিভিন্ন ধরণের বাদামে রয়েছে প্রোটিন, ভিটামিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড। এগুলো উদ্বেগ এবং মন খারাপের বিরুদ্ধে কাজ করে।

৫) Green Tea বা সবুজ চা : গ্রিন টি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, অ্যামিনো অ্যাসিড এবং থিয়ানিন এ সমৃদ্ধ, যা মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমানোর জন্য পরিচিত। তাই মন খারাপ থাকলে এবং হতাশার সময় গ্রিন টি পান করা অনেক উপকারী।

৬) Cheese বা পনীর : এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে জিংক যা হতাশা ও বিষন্নতা দূর করে থাকে। তবে অতিরিক্ত পনীর খাওয়া দেহের জন্য ক্ষতিকর।

৭) টকদই : দই/টকদই খাওয়ার পর তা মস্তিষ্কে ডোপামিন এবং নোরিপাইনেফ্রিন নামক দুইটি রাসায়নিক উপাদান নিঃসরণ করে যা মানসিক অবস্থা ভাল করতে সাহায্য করে। তাছাড়া এতে রয়েছে অ্যামিনো অ্যাসিড ট্রিপ্টোফ্যান, যা সেরোটোনিন উৎপাদনে সাহায্য করে মন ও শরীরকে শান্ত রাখে।

৮) মধু : চিনির থেকেও বেশি ভাল মধু। মধু খাওয়ার ফলে মন বেশ চাঙ্গা থাকে। এতে বর্তমান কেমফেরল এবং কুয়েরসেটিন মস্তষ্কের উত্তেজনা কমিয়ে বিষণ্ণতা কমাতে সাহায্য করে।

৯) ওটস : ওটস আরও একটি কার্যকরী মুড বুস্টিং খাবার। এটি রক্তে শক্তি সরবরাহ করে এবং রক্তে সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রেখে আমাদের মানসিক স্থিরতা বজায় রাখে। এছাড়া ওটস মন চাঙ্গাকারী উপাদান সেলেনিয়াম বহন করে।

১০) বীজ জাতীয় খাবার : তিল এ রয়েছে প্রচুর পরিমাণে জিঙ্ক যা বিবাহিত জীবনকে সুখময় করে তোলে। সূর্যমুখী ‘র বীজে রয়েছে এমাইনো এসিডের একটি ভালো উৎস। এটি মস্তিষ্কে সুখী রাসায়নিক পদার্থ তৈরি করতে কাজ করে এবং বিষণ্ণতার দূর করে।

১১) পানি : অনেক সময় ডিহাইড্রেশনের জন্য আমাদের মানসিক চাপ বেড়ে যায় এবং মন খারাপটি আরও বেশি করে আমাদের সামনে চলে আসে। তাই মন খারাপ দূর করতে পানি পান করে নিন এক নিঃশ্বাসে ১ গ্লাস। পানি পানের ফলে অনেকটা হালকা হয়ে যাবে মন।

ক্যাফেইন, অতিরিক্ত চিনি জাতীয় খাবার, প্রক্রিয়াজাত খাবার বা ফাস্টফুড জাতীয় খাবার খাওয়া থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে। কারণ এগুলো আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। আর শরীর ভালো না থাকলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে আমাদের মনের স্বাস্থ্যের ওপর। তাই স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here