মনকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়?

0
16

জ্ঞানীগুনী মানুষরা যা বলেন তা হলো মন বলে আসলে নাকি কোনও বস্তু নেই। সবই মস্তিস্কের এবং তার সাথে কিছু হরমোনের ( যেমন ডোপামাইন, সেরোটোনিন, এন্ডোরফিনস, অক্সিটোসিন ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি) কারসাজি। তাই বলে সব ভার হরমোনের ওপর চাপিয়ে আমরা তো নিশ্চিন্ত হয়ে থাকতে পারিনা । মস্তিষ্কই হোক বা মন— নিজেদের নিয়ন্ত্রনে আনাটা খুবই দরকার। এক্ষেত্রে আমি যে পন্থাগুলি অনুসরণ করি সেগুলি হল:—

  • সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়ম প্রতিনিয়ত মেনে চলা । যেমন রোজ নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়া ও ঘুমানো, খাবার সময় দূরদর্শন না চালানো, সারাদিনে অন্তত একটা সময় বাড়ির সবাই একসাথে খেতে বসা, ন্যুনতম ঘুমের সময় বজায় রাখা । শরীর সুস্থ থাকলে মনও সুস্থ ও নিয়ন্ত্রিত থাকে।
  • সারাদিনে বাড়ীর ছোট থেকে বড় সবার সাথে একবার অন্তত যোগযোগ করা, কথা বলা।
  • সারাদিনে কিছুটা সময় ( অল্প হলেও ) যোগ বা প্রানায়াম করা। কিছু না হোক চোখ বন্ধ করে কিছুক্ষণ বসে থাকলেও উপকার দেয়। নিজেকে একটু সময় দেওয়া।
  • ভাল বই পড়ার অভ্যাস তৈরী করা। প্রতিটি বই থেকে কিছু ভাল শিক্ষা নিজের জীবনে প্রয়োগ করার চেষ্টা অন্তত করা।
  • নিজেকে গঠনমূলক কাজে ব্যস্ত রাখা।
  • অযথা গুজবে কান না দেওয়া ও গুজব সৃষ্টি না করা।
  • পরনিন্দা পরচর্চা করার সময় মাত্রাজ্ঞান রাখা। সম্ভব হলে না করাই কাম্য।
  • লোকের কথায় কান না দেওয়া।নিজের ক্ষতি করে অন্যের উপকার করা থেকে নিজেকে বিরত করা।
  • পরিবারকে প্রাধান্য দেওয়া।
  • “ঘরের খেয়ে বনের মোষ ” না তাড়ানো ।
  • নিজেকে ব্যতিক্রমী প্রমানের চেষ্টায় অকারণ কলহ—অশান্তি সৃষ্টি না করা। মুর্খের সাথে তর্ক না করা।
  • জীবনের প্রতিটি ধাপে নিজেকে ও পরিবারকে অর্থিকভাবে সুরক্ষিত করা।
  • নিজের উপর আস্থা রাখা ও প্রয়োজনে পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেকে বদলানোর মানসিকতা রাখা ।
  • আশাবাদী হওয়া এবং নিরাশাবাদীর থেকে দুরত্ব তৈরী করা।
  • নিজের মত অন্যের ওপর চাপিয়ে দিয়ে অপরকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা না করা।
  • সংবেদনশীল ব্যাপারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না জানানো।ধৈর্যশীল ও সহনশীলতার পরিচয় দেওয়া।
  • অসুস্থ ও ক্ষতিকর চিন্তা থেকে নিজেকে দুরে সরিয়ে রাখা।
  • নিজে উস্কানিমূলক কাজ না করা এবং অপরের উস্কানিতে সায় জানিয়ে কাজ না করা।
  • সঠিক সময়ে সঠিক ভাবে সঠিক মাত্রায় অন্যায়ের প্রতিবাদ করা।
  • অন্যের সাথে অকারণ তুলনা করে নিজের পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি না করা।
  • পুরোনো তিক্ত স্মৃতির কবল থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্ঠা করা। স্মৃতি সততই সুখের হয় না।
  • অতিরিক্ত চিন্তা করে সুস্থ মনকে অসুস্থ না করা। নিয়তি নামক বস্তটির অস্তিত্ব স্বীকার করা।
  • Social Platform / Virtual world কে জীবনের ধ্যান জ্ঞান বানিয়ে না ফেলা।
  • বর্তমানে বাঁচতে শেখা। অতীত বা ভবিষ্যতের কোনও কিছুই আমরা নিয়ন্ত্রিত করতে পারিনা। তাই কি করলে কি হতো সেই ভেবে বা এটা করলে ওটা হবে ভেবে অযথা সময় ও মানসিক শান্তি নষ্ট না করা । বর্তমান সুন্দর ও সুস্থ হলে বাকি কালেও তার প্রভাব থাকতে বাধ্য।
  • ক্ষমাশীল হওয়া। ইংরেজিতে একটা প্রবাদ আছে । ” Forgive others, not because they deserve forgiveness, but because you deserve PEACE” । এটা জীবনের আপ্তবাক্য বানিয়ে ফেলা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here