ভিন্ন এক রমজানের অপেক্ষায় বিশ্বের ১৮০ কোটি মুসলিম

0
7

বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই মুসলমানের পবিত্রতম রমজান মাস শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) থেকে, কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এবার বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের যে ধরণের কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে রোজা পালন করতে হবে, তার নজীর ইতিহাসে বিরল।

বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই মুসলিমরা এবার প্রথামত আত্মীয়-পরিজন-প্রতিবেশিদের নিয়ে সন্ধ্যায় ইফতারি করতে পারবেন না এবং রাতে দল বেঁধে মসজিদে গিয়ে তারাবির নামাজ পড়তে পারবেন না। ‘‘এমন এক পরিস্থতি অতীতে কখনো হয়েছে – আমার জানা নেই’, ন্যাশনাল ইউনিভার্টি অব মালয়েশিয়ার গবেষক ফাইজাল মুসাকে উদ্ধৃত করে বলছে আল জাজি’রা।

‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ গেছে, অনেক প্রাকৃতিক দুর্যোগ এসেছে, কিন্তু অতী’তের কোনো লেখালেখিতে বা সাহিত্যে বর্তমান পরিস্থিতির মত কিছু পাওয়া যায় না। যুদ্ধের সময়, দুর্যোগের সময়েও মুসলমানরা রমজানের সময় একসাথে হয়ে তাদের ধর্মীয় আচার পালন করেছে।’

ব্রিটেনে মুসলিমদের সবচেয়ে বড় সংগঠন মুসলিম কাউন্সিল অব ‘ব্রিটেন এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘এবারের রমজান হবে মুসলমানদের জন্য একদম ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা, এবং পরিবর্তিত এই পরিস্থিতির সাথে তাদের খাপ খাইয়ে নিতে হবে।’”সন্দেহ নেই এবারের রমাজন মাস হয়তো মুসলিম ইতিহাসে একে’বারে ভিন্ন, ব্যাতিক্রমী ঘটনা হিসাবে জায়গা পাবে।

মক্কা ও মদিনার মসজিদে তারাবি

ধর্মীয় আচার পালনে দিক-নির্দেশনার জন্য মুসলিম বিশ্বের এ’কটি বড় অংশ যে দেশটির দিকে তাকিয়ে থাকে, সেই সৌদি আরব বুধবার (২২ এপ্রিল) রমজান উপলক্ষ্যে বিধিনিষেধ কিছু শিথিল করেছে।

সৌদি বাদশাহ মক্কা ও মদিনায় মুসলমানদের দুই পবিত্রতম মস’জিদে তারাবি নামাজের অনুমতি দিয়েছে বলে রিয়াদ থেকে রয়টরস বার্তা সংস্থা জানিয়েছে। তবে সাধারন নামাজিরা যেতে পারবেন না।”এ’ছাড়া, সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরে জারী করা কারফিউ সকা’ল ৯টা থেকে বিকলে পাঁচটা পর্যন্ত কিছুটা শিথিল থাকবে। তবে বিশ্বের বহু মুসলিশ দেশে সেই ছাড়টুকুও দেয়া হচ্ছেনা।

মিশরে রমজান মাসে জামাতে নামাজসহ যে কোন ধর’নের জ’মায়েত নিষিদ্ধ। ইরানে আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই রমজান মাসে জনগণকে জামাতে নামাজ না পড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ‘জেরুজালেমে ইসলামের তৃতীয় পবিত্র মসজিদ আল আ’কসাতেও রমজানে নামাজ হবেনা শুধু দিনে পাঁচবার আজান হবে।

মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া সিঙ্গাপুর, ব্রুনেইতেও এখন ম’সজিদে গিয়ে নামাজ পড়ার ওপর যে বিধিনিষেধ চলছে, রমজান মাসে তার কোনো ব্যাতিক্রম হবেনা।যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের অধিকাংশ দেশেই মসজি’দে গিয়ে না’মাজ পড়া এখন বন্ধ, এবং রমজান মাসে তার কোনো ব্যাতিক্রম এবার হবে – কোনো ইঙ্গিত নেই। ব্রিটেনে মসজিদগুলো রোজার সময় নামাজ, দোয়া-দরুদ, খুতবা ভিডিওতে লাইভ-স্ট্রিমিং করবে।

মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন রমজান উপলেক্ষে জন্য যে পরামর্শ জারী করেছে তাতে বলা হয়েছে – জামাতে নামাজ হবেনা, মসজিদের গিয়ে তারাবি হবেনা, এবং কোনো ইফতার পার্টি করা যাবে না।

পাকিস্তান কিছুটা ব্যাতিক্রমী অবস্থান নিয়েছে। সেদেশে রোজা’র সময় তারাবি নামা অনুমোদন করা হয়েছে, তবে শর্ত দেওয়া হয়েছে নামজিদের একজনের সাথে আরেকজনের ছয় ফুট ব্যবধান রাখতে হবে।বাংলাদেশে রমজান মাসে সামাজিক দূরত্ব শিথিল করা হবে কিনা, মসজিদে গিয়ে তারাবি নামাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হবে কিনা- তা এখনও নিশ্চিত নয়।

এবারের ইদও কি ভিন্ন হবে ?

রোজার শেষে মুসলমানরা কি এবার তাদের সেব’চেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ইদুল ফিতর প্রথাগতভাবে উদযাপন করতে পারবে? এখনও করোনাভাইরাসের সংক্রমণের যে গতি-‘প্রকৃতি তাতে ইদ উদযাপন কেমন হবে – তা নিয়েও বিস্তর সন্দেহ রয়েছে।”সৌদি গ্রান্ড মুফতি পাঁচদিন আগে ইঙ্গিত দিয়েছেন, ‘এবারের ইদের নামাজও ঘরে বসে পড়তে হতে পারে।

ইন্দোনেশিয়ায় ইদের আগে শহর থেকে যে লাখ লাখ মানুষ’ তা’দের গ্রামে যায়, তা এবার নিষিদ্ধ থাকবে।মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীও তার দেশে একই সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন।”তাছাড়া, পুরো রমজান মাস ধরে দক্ষিণ-পূর্ব এশি’য়ার দেশগুলোতে রা’স্তায় যে মেলা হয়, তা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ধর্ম পালনে, বিশেষ করে রোজা বা ইদে, ‘এ ধরনের ‘সামজিক বিচ্ছিন্নতা ইসলামের ঐতীহ্যের একেবারে পরিপন্থী। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বের কোটি কোটি মুসলি’মকে এবার আপস করতে হচ্ছে।

রমজানের আদর্শ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না

ব্রিটেনে ইসলামি আইনের এ’কজন বিশেষজ্ঞ ড. ইনাম আল বাদাওয়ী অবশ্য বিবিসিকে বলেছেন, রমজানের মূল আধ্যাত্মিক শিক্ষা-আদর্শ তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেনা।”‘একসাথে জড় না হয়েও মা’নুষ রমজানের আধ্যাত্মিক আদর্শের অনেকটাই অর্জন করতে পারে। নানা দিকে মনোনিবেশ না করতে হলে বরঞ্চ বেশিই পারে।’

তিনি বলেন, একসাথে’ মিলিত হ’ওয়ার যে আনন্দ তা হয়তো এবার তেমন থাকবেনা, কিন্তু বিকল্প পন্থায় প্রিয়জনদের সাথে সেই যোগাযোগের রাস্তা তো তৈরি হচ্ছে।

খবর: বিবিসি বাংলা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here