ব্যবসায়ীদের ২১ কোটি টাকা যেভাবে আত্মসাৎ করেন শাহেদ!

0
55

প্রতারক শাহেদের প্রতারণার জাল ছিল সর্বত্র। তার প্রতারণার শিকার হয়েছে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। ব্যবসার নামে অনেক ব্যবসায়ীর সঙ্গেও প্রতারণা করে শাহেদ হাতিয়ে নিয়েছে বিপুল অর্থ। এ পর্যন্ত ১৬ জন ব্যবসায়ীর অ’ভিযোগ এসেছে তার বি’রুদ্ধে। তাদের দাবি অন্তত ২১ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে শাহেদ।

চুক্তিতে ব্যবসা করা, কোম্পানি খোলা, অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ব্যবসা, বড় বিজনেসের ট্রেড লাইসেন্স করে দেয়ার নাম করে প্রায় ১৬ ব্যবসায়ী তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন। অনেকেই তার কাছে টাকা চাইতে এসেছিলেন। কিন্তু, তাদের টাকা দেয়ার বদলে হু’মকি দিয়েছে।

কাউকে রিজেন্ট হাসপাতা’লের একটি কক্ষে অনেকক্ষণ বসিয়ে রেখে মানসিক নি’র্যাতন করেছে। অথবা পাওনাদারকে তার গ্যাং বা’হিনী দিয়ে এক রুমে নিয়ে টর্চার করেছে। কাউকে ভু’য়া চেক দিয়েছে। গত জানুয়ারি মাসে গাজীপুর জে’লার এক পাথর ব্যবসায়ী তার ৭৫ লাখ টাকা নেয়ার জন্য রিজেন্ট হাসপাতা’লে যান।

সেখানে তিনি গাজীপুর জে’লার এক যুবলীগের নেতাকে নিয়ে যান যাতে টাকা’টা দ্রুত উ’দ্ধার হয়। এসময় শাহেদ নিজ হাতে দুইজনকে লা’ঞ্ছিত করে। তখন যুবলীগের নেতা ভ’য়ে রিজেন্ট হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়ে যান। ১৬ ব্যবসায়ীর মধ্যে ইতিমধ্যে একাধিক ব্যবসায়ী যারা শাহেদের কাছে প্রতারণার শিকার হয়েছেন তারা পু’লিশ ও র‌্যা’­বের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।

প্রতারিত ব্যবসায়ীরা অধিকাংশই থাকেন ঢাকার বাইরে। তারা দূর-দূরান্ত থেকে এসে শাহেদের হু’মকিতে অনেকটা ভী’ত হয়ে যেতেন। ওইসব ব্যবসায়ীর বাড়ি চট্টগ্রাম, বরগুনা, গাজীপুর, কুমিল্লা, ফেনী, টাঙ্গাইল ও মানিকগঞ্জ জে’লায় বলে জানা গেছে। মা’মলার ত’দন্তকারী কর্মক’র্তা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত ৬ই জুলাই রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থা’না এলাকার রিজেন্ট হাসপাতা’লে অ’ভিযান চালায় র‌্যা’­বের ভ্রাম্যমাণ আ’দালত। লাইসেন্সবিহীন হাসপাতাল পরিচালনা ও ভু’য়া ক’রোনা সার্টিফিকেট দেয়ার কারণে হাসপাতালটি সিলগালা করে দেয় ভ্রাম্যমাণ আ’দালত। সূত্র জানায়, এ ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থা’নায় ১৭ জনকে আ’সামি করে একটি মা’মলা দায়ের করে র‌্যা’­ব।

গত বুধবার সাতক্ষীরার দেবহাটা এলাকায় অ’ভিযান চালিয়ে শাহেদকে গ্রে’প্তার করা হয়। পরে পু’লিশ তাকে আ’দালতে হাজির করলে আ’দালত ১০ দিনের রি’মান্ডের আদেশ দেন। শাহেদ এখন ঢাকা মহানগর উত্তর গোয়েন্দা পু’লিশের রি’মান্ডে আছেন। মা’মলার মুখ্য ত’দন্তকারী কর্মক’র্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পু’লিশের (উত্তর) এডিসি বদরুজ্জামান জিল্লু জানান, শাহেদ জি’জ্ঞাসাবাদে যেসব তথ্য পু’লিশকে জানাচ্ছে তা আম’রা ত’দন্ত করছি। তার তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

মা’মলার ত’দন্তকারী কর্মক’র্তা সূত্রে জানা গেছে, শাহেদ ত’দন্তকারী কর্মক’র্তার অনেক প্রশ্ন এড়িয়ে যাচ্ছে। কোনো কোনো প্রশ্ন কৌশলে উত্তর দিচ্ছে। প্রতারক শাহেদের অ’ভিনব কৌশল প্রতারণার কাহিনী শুনে ত’দন্তকারী কর্মক’র্তারা নিজেরাই আঁতকে যাচ্ছেন। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অ’ভিনব ভাবে প্রতারণা করতো শাহেদ।

তার বিভিন্ন মাধ্যম দিয়ে সে আগে তথ্য নিতো যে, কোন ব্যবসায়ী সরল বিশ্বা’সে লেনদেন করেন এবং অগ্রিম পণ্য সরবরাহ করেন। এরপর তিনি নিজেই ওই ব্যবসায়ীর কাছে নিজেকে সাবেক সে’না কর্মক’র্তা বা বিশেষ একটি কার্যালয়ে কাজ করেন পরিচয় দিয়ে ওই ব্যবসায়ীকে ফোন দিতো। সূত্র জানায়, শাহেদ তার কাছে নিজেই যেতো।

ওই ব্যবসায়ী শাহেদের গাড়ি, গ্যানমান এবং চলাফেরা দেখে বিশ্বা’স করে তার সঙ্গে চুক্তিতে ব্যবসা করতে রাজি হতেন। এরপর ওই ব্যবসায়ীকে সে অগ্রিম টাকা দেয় যাতে দ্রুত পণ্য সরবরাহ করে। ব্যবসায়ী তার কথা শুনে দ্রুত পণ্য পাঠান। সূত্র জানায়, এটা ছিল শাহেদের প্রতারণার অন্যতম অংশ। দ্বিতীয় চালানে ঘটতো অন্য ঘটনা।

ওই ব্যবসায়ী যখন দ্বিতীয় চালান তাকে ঢাকায় পাঠাতেন তখন ওই চালানের টাকা সে দিতো না। নানারকম টালবাহানা শুরু করতো। চট্টগ্রামের শামসুল হক, বরগুনার মাইনুল হক, কুমিল্লার সবুজ, মানিকগঞ্জের রহমত আলী বিশ্বা’স, টাঙ্গাইলের সারোয়ার হোসেন সুমন ও নেত্রকোনার আরিফুল ই’সলাম শাহেদ তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

সূত্র জানায়, যেসব ব্যবসায়ী শাহেদের প্রতারণার শিকার হয়েছেন তারা পাথর, বালু, সুতা ও রড ইত্যাদি ব্যবসার সঙ্গে যু’ক্ত। অ’ভিনব কৌশলে ব্যবসায়ীদের কাছে টাকা আ’ত্মসাতের বিষয়ে ত’দন্তকারী কর্মক’র্তাদের কাছে শাহেদ স্বীকার করেছে। তবে সে এসব ঘটনার জন্য অনুতপ্ত না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here