বেশিরভাগ সামরিক অভিযান, ক্ষেপণাস্ত্র হামলাগুলো (অফেন্সিভ) রাতের বেলা হয় কেন?

0
17

স্বাভাবিকভাবে ভাবলে রাতে বেশিরভাগ মানুষ ঘূমন্ত অবস্থায় থাকে বা শত্রুপক্ষ নিরাশ থাকে। কেন? প্রথমটা হলো বেসামরিক লোকদের জন্য দ্বিতীয়টা হলো সামরিক ব্যাক্তি বা সন্ত্রাসী ঘোষ্ঠিদের জন্য।

ধরুন আপনি রাশিয়ার স্পেতনাজ স্পেশাল বাহিনীর অপারেশন প্লানার। আপনি আজ রাতে শত্রুপক্ষের উপর হামলা করবেন। ঠিক করা হলো প্রথমে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে শত্রুদের দূর্ভেদ্য দূর্গতে হামলা চালানো হবে এতে অপারেশন ফোর্স সুড়ঙ্গ দিয়ে সহজে হামলা করতে পারবে। এখন প্রশ্ন সময়? দেখুন পৃথিবীর ইতিহাসে অনেক বড় বড় অপারেশন দিনেও হয়েছে, অবস্থা প্রেক্ষাপটে এই সময় পরিবর্তন হয় আর একটা সাফল্যসূচক অপারেশনে সময় বা টাইমিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এখন, শত্রুপক্ষের মধ্যে পাহাড়ায় একটা বিশেষ নিয়ম থাকে, নাইট এবং ডে ডিউটি। স্বাভাবিক যে একজনের পক্ষে ২৪ ঘন্টা না ঘুমিয়ে পাহাড়া দেওয়া অসম্ভব যা অনেক ট্রেইনড সৈন্যদের জন্য “ক্লান্তি” আনে। তো আপনার সৈন্যদের তো সেটা হবে না, কারন আপনি তাদের ইনফর্ম করে রাখবেন।

এখন কাজ হবে এই অপারেশনের সংবাদ লিক করা শত্রুপক্ষের মধ্যে! কেননা তাহলে সম্ভাব্য হামলার আশংকায় ২৪ ঘণ্টা টানা পাহাড়া দেবে (এমনকি ডে ডিউটিয়ানদেরও) এতে তারা মানসিক শারীরিক উভয় ভাবে ” বিরক্ত” হবে ক্লান্ত না হলেও আর রাত হবে উপযুক্ত সময় স্বভাবতই এসময়ে মানুষের বিরিক্তির সাথে ক্লান্তি বেড়ে যায়। তাহলে হঠাৎ রাতে আক্রমন আসলেই সুবিধাজনক।

রাতে রাডার কাজ করে কোনরুপ ত্রুটি ছাড়াই তবে রাতটা ফগি থাকলে এতে অসুবিধা “হতে” পারে। মিলিটারি কোড অনুসারে কমান্ড অপারেশনে সাধারনত হেলিকপ্টার সাপোর্ট দেওয়া হয়। বেশিরভাগ বিদ্রোহী ঘাটিতে থাকে ম্যানপ্যাড, অর্থাৎ মনুষ্য বহনে সক্ষম এয়ার ডিফেন্স বা এন্টি এয়ার অব্জেক্ট লাঞ্চার । স্পেতনাজদের বহনকারী মিলিটারি হেলিকপ্টারগুলো স্পেশালাইজড হয় এবং খুব নিজ দিয়ে উড়ে যেতে পারে যার আর্মরের বিপক্ষে ২০ মিমি রাউন্ডও কাজ করে না। এছাড়া নিচ থেকে উড়ায় গুলি করার টাইমিংয়ে কম সময় পাওয়া যায়।

আমি কানাডিয়ান, রাশিয়ান বিশেষ বাহিনীদের অপারেশনে দেখেছি শক্তিশালী ডিফেন্স থাকেলে তারা আগে ক্ষেপনাস্ত্র, এয়ার টু গ্রাঊন্ড মিসাইল, সারফেস টু সারফেস মিসাইল ব্যবহার করে শত্রুপক্ষের ভিত্তি দূর্বল করে অতঃপর বুট ফেলে।

বলে রাখা ভাল অপারেশনের সংবাদ সবসময় লিক করা হয়না এটা চাহিদা বুঝে করা হয়।

নম্বার দুই, মিডিয়া প্রোপাগান্ডা।

রাত ২ টা নাগাদ যদি পৃথিবীর কোথাও হামলা হয় তাহলে সেই খবর আগে পাবে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এই প্রেক্ষাপট নিজেদের পক্ষে নিয়ে মিডিয়ায় প্রচার করা যাবে নিশ্চিন্তে কিন্তু দিনে যেহেতু চোখ বেশি খোলা থাকে বেশি লোকের প্রত্যক্ষদর্শী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। হ্যা, সংশ্লিষ্ট সবাই জানবে কিন্তু রাজপ্রাসাদের ভিতরের সবাই জানলেও প্রজারা তার আংশিক জানে। এখানেও এই একই নীতি। মিডিয়া হলো বর্তমানে সবচেয়ে ভয়ংকর হাতিয়ার।

আমেরিকার ফক্স নিউজ, সিএনএন, এমসডিএনসি এই চ্যানেলগুলো হল হোয়াইট হাউসের চামচা।

সর্বোপরি রাতে লোকচক্ষু আড়াল করা সম্ভব বেশি হয় যদি এটি “বিচ্ছিন্ন” অপারেশন হয় আর ক্ষেপনাস্ত্র হামলা তারই অংশ। তাছাড়া দিনের চেয়ে রাতে মানুষের উত্তেজনা ও ভয় এবং অপ্রস্তুত বিষয়গুলো বেশি কাজ করে যা বৈজ্ঞানিকভাবে বেশ প্রমানিত।

তাছাড়া নাইট গগলস, জিপিএস সিস্টেম এবং বৈদ্যুতিক সরবরাহ বন্ধ করে শত্রুপক্ষকে কাবু করার কাজ সহজ হয় , ক্ষেপনাস্ত্র হামলার ব্যাপারটা কনভেনশনাল হলে দিনে বা রাতে করলেও পার্থক্য আসে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here