বাড়িতে প্রিপেইড মিটার, তাহলে জেনে নিন এর সুবিধা আর অসুবিধা

0
17

রতিবছর যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় তার যথাযথ হিসাব রাখা অনেক ক্ষেত্রেই অসম্ভব হয়ে যায়। আবার কখনো কখনো গ্রাহক পর্যায়ে নানা কারণে ৫ থেকে ৭ শতাংশ বিদ্যুৎ নষ্ট হয়। এ সমস্যা সমাধানে ও গ্রাহকসেবার মান বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ বিল শতভাগ আদায়ের লক্ষ্যে প্রিপেইড মিটার স্থাপন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সারা দেশে প্রিপেইড মিটারের মাধ্যমে বিদ্যুৎসেবা দেওয়া হবে। প্রিপেইড মিটার সিস্টেম বিদ্যুৎসহ অন্যান্য সব ক্ষেত্রে অপচয় প্রায় শূন্য ভাগে নামিয়ে আনবে।

প্রিপেইড মিটারের সুবিধাগুলো হলো-

১। প্রিপেইড মিটারিং ব্যবস্থায় গ্রাহক ব্যবহারের আগেই বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে থাকেন। যার ফলে বিদুৎ কোম্পানির মিটার রিডিং, বিল প্রণয়ন এবং আদায়ের কোন ঝামেলা থাকে না। আগের মতো অতিরিক্ত বিল আসার অভিযোগ কাউকে শুনতে হবেনা।

২। মিটারে প্রিপেইড সিস্টেম থাকায় গ্রাহক নির্দিষ্ট সীমার উপরে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারবেন না। তাই মোবাইলে কথা বলার সময় আমরা যেমন সতর্ক থাকি,তখন বিদুৎ ব্যবহারে আমরা একইরকম সতর্ক থাকব।

৩। গ্রাহক প্রয়োজনে মোবাইল কার্ডের মত কার্ড কিনে বা দরকার পড়লে বিদুৎ স্টেশনে গিয়ে নিজেই রিচার্জ করে নিতে পারবেন। রিচার্জ অনেকটা মোবাইলে রিচার্জের মতোই ।

৪। মিটারে টাকা শেষ হয়ে যাওয়ার আগেই গ্রাহককে মিটার সংক্রিয়ভাবে সংকেত দিবে, ফলে বিদ্যুৎ সঞ্চয়ে গ্রাহক আরও বেশি সচেতন হবে।

৫। প্রিপেইড মিটারের ক্ষেত্রে বিল দেয়ার জন্য অতিরিক্ত ঝামেলা পোহাতে আর হবে না। আপনি চাইলে একসাথে অনেক টাকা রিচার্জ করে রাখতে পারেন।

৬। যেকোন সময়ে গ্রাহক দেখতে পারবেন তার কত টাকার বিদ্যুৎ খরচ হয়েছে আর কত টাকা অবশিষ্ট আছে। ফলে এখানে কোনপ্রকার লুকোচুরি নেই।

৭। বিতরণ কোম্পানি বিদ্যুৎ দেওয়ার আগেই সব টাকা পেয়ে যাবে। ফলে বিল তৈরি ও বিতরণের ঝামেলা ও ব্যয় কম হবে।

৮। বিদ্যুৎ বিল বকেয়া হবে না, ফলে লাইন কাটার ভয় থাকবে না।

৯। গ্রাহকরা তাদের বিদ্যুৎ বিলের উপর ২% ডিস্কাউন্ট পাবেন।

১০। প্রিপেইড মিটার ব্যবহারে, অযথা ভোল্টেজ উঠা-নামার ফলে বাসার বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির উপর প্রভাব পড়বে না। কারন প্রিপেইড মিটার অনেক উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে।

১১। প্রিপেইড মিটারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ বিলের রেকর্ড থাকবে।

১২। প্রিপেইড মিটারের ব্যবহারের ফলে বিদ্যুৎ বিল জমা দেওয়ার কোনো দুশ্চিন্তা নেই। এক্ষেত্রে বিল বকেয়া থাকবে না। এই বিষয়টি বাড়ির মালিকদের জন্য একটি বাড়তি সুবিধা। ভাড়াটেদের কোনো বিল বকেয়া হবে না। তারা বিদ্যুৎ ব্যবহারের আগেই বিল পরিশোধ করে ফেলবেন।

১৩। প্রিপেইড মিটার রিচার্জ করা যেমন সহজ, তেমনই মিটারে টাকার পরিমাণ কমে সর্বনিম্ন পর্যায়ে এলে মিটার স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংকেত দেবে। এ পর্যায়ে কার্ডের মাধ্যমে টাকা রিচার্জ না করলে মিটার তথা সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে। তবে সাপ্তাহিক বা অন্যান্য ছুটির দিনে মিটার বন্ধ হবে না। টাকা একেবারে শেষ হয়ে গেলেও সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত মিটার চালু থাকবে। এই বিদুৎ সেবা দেয়াকে হ্যাপি আওয়ার হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে মিটার রিচার্জ করতে হবে।

অসুবিধা :

১। শুরুতে সীমিত সংখ্যক রিচার্জ স্টেশন থাকায় গ্রাহকদের অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছিল । এখন বিকাশ, রকেট এর মাধ্যমে রিচার্জ চালু করার পর এ সমস্যা দূর হয়েছে ।

২। মিটারে পর্যাপ্ত টাকা থাকার পরও অনেক সময় মিটার কাজ করছে না। এ সমস্যা নিয়ে বিদ্যুত অফিসে যোগাযোগ করলে লোড বাড়ানোর কথা বলা হয় । লোড বানানোর জন্য কোন টাকা নেয়ার কথা না, কিন্তু অসাধু বিদ্যুৎ কর্মচারীরা গ্রাহকদের কাছ থেকে নানা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ।

৩। বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ভাড়া বাসায় থাকা গ্রাহকদের কাছ থেকে ইলেকট্রিক বিলের সঙ্গে বিদ্যুৎ মিটারের দাম বাবদ প্রতিমাসে ৪০টাকা করে কেটে নিচ্ছেন। অথচ মিটারের দাম পরিশোধ করার কথা বাড়িওয়ালাদের।

৪। বালাদেশে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) স্পষ্ট করে বলে দিয়েছে যে, যারা নতুন প্রিপেইড সংযোগ নেবে, তাদের কাউকেই ডিপোজিট করতে হবে না। আর যারা পোস্ট পেইড মিটার বদলি করে প্রিপেইড মিটার নিচ্ছে, তারা পোস্ট পেইডের ডিপোজিট ফেরত পাবে। কিন্তু বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষগুলি আগের ডিপোজিটের টাকা ফেরতের কোন উদ্যোগ নেয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here