ফেলে দেওয়া চা পাতা বা টি ব্যাগের ১০টি ঘরোয়া ব্যাবহার

0
8

আমাদের দেশে যে পানীয় গুলো সবচাইতে বেশী প্রচলিত, তাদের মাঝে একটি হলো চা। সকাল বিকাল সন্ধ্যা যে কোনো সময়ে আমরা চা পান করে থাকি। কিন্তু চা তৈরির পর কী করেন? নিঃসন্দেহে চা-পাতা ফেলে দেন। আজ থেকে চা তৈরির পর টি ব্যাগ বা চা-পাতা গুলো ফেলে না দিয়ে বরং ঠাণ্ডা জলে ধুয়ে শুকিয়ে রাখুন। কেন? কারণ ই ফেলনা চা-পাতা ও টি ব্যাগগুলোই আপনার অর্থ সাশ্রয় করবে প্রতিদিন। জেনে নিন কেন ব্যবহার করা চা-পাতা ফেলে না দিয়ে ব্যবহার করা যায় দারুণ সব কাজে আর বাঁচানো যায় সময়-অর্থ সবই।

১)ক্লান্ত চোখকে আরাম দিতে-

কাজের চাপে হোক বা কম ঘুমের কারণে হোক, চোখের নিচে ফোলা ভাব বা চোখ লাল হয়ে যাওয়া আমাদের অনেকেরই সমস্যা। সেই সাথে কালো দাগের সমস্যা তো আছেই। এই সমস্ত সমস্যা থেকে আরাম পেতে টি ব্যাগ নিন, ঠাণ্ডা জলে ভিজিয়ে নিয়ে চোখের উপর রেখে শুয়ে থাকুন ২০ মিনিট। দেখবেন চোখের ফোলা বা লাল ভাব কমে গিয়ে কান্তি দূর হয়েছে অনেকটাই। নিয়মিত ব্যবহার করলে কালো দাগও চলে যাবে।

২) খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করতে:

রান্না খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করতে চা পাতা একটা চমৎকার উপাদান। ওভেনে মুরগী বা মটন রোস্ট করতে চাইলে ম্যারিনেট করার সময় আপনার পছন্দ মতন চমৎকার সুগন্ধ যুক্ত কোনও চায়ের লিকার দিতে পারেন । এছাড়াও জেসমিন টি আস্তই দিতে পারেন মেরিনেশনে। চা মাংসের সুগন্ধ বাড়ানোর সাথে সাথে মাংসের স্বাদ বাড়াতেও খুব চমৎকার একটা উপাদান।

৩) সফ্ট ড্রিঙ্কের ক্যালোরি কমাতে-

ভীষণ শরীর সচেতন আপনি, কিন্তু অন্যদিকে সফ্ট ড্রিঙ্ক খেতেও ভালোবাসেন? এই ধরনের সফ্ট ড্রিঙ্কে প্রচুর পরিমানে ক্যালোরি থাকে। সেই ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যবহার করুন ছোট্টও একটা উপায়। পছন্দসই যে কোনও চা পাতা জ্বাল দিয়ে হাল্কা লিকার করে নিন। তারপর ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করে অল্প লেবুর রস মিশিয়ে রাখুন। এরপর আপনার গ্লাসে অর্ধেক নিন যে কোনো সফ্ট ড্রিংক , আর অর্ধেক নিন এই ঠাণ্ডা চা। স্বাদ তো কমবেই না, বরং বাড়বে। সাথে ক্যালোরিও কমে যাবে অনেকটাই।

৪) ঘরদোর পরিষ্কার করতে-

ঘোলাটে বা ময়লা আয়না পরিষ্কার করতে চান? তাহলে একটা ব্যবহার হয়ে যাওয়া টি ব্যাগ ভালো করে ঘষুন আয়নায়। তারপর ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে নিন। কাঠের আসবাব থেকে ফাঙ্গাসের আক্রমণ কমাতে চায়ের লিকারের সাথে ভিনেগার মিশিয়ে আক্রান্ত স্থান মুছুন। মেঝে, গ্যাস ওভেন বা স্টিলের সিঙ্ক থেকে তেল চিটচিটে ভাব কমাতেও ব্যবহার করুন ভেজা টি ব্যাগ বা চায়ের লিকার। দাগ তোলা হয়ে গেলে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছে নিন। দেখবেন কি রকম চকচকে হয়ে উঠবে জিনিস গুলো।

তা ছাড়াও তেল চিটচিটে থালা বাসন বা হাঁড়ি কড়াই পরিষ্কার করতে চা-পাতার জুড়ি নেই। দামী ডিশ ওয়াসিং বারের বদলে রাতের বেলা বড় গামলায় জল দিয়ে তাতে কিছু ব্যবহৃত চা-পাতা দিয়ে দিন। তেল চিটচিটে বাসন এতে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে স্বাভাবিক ভাবেই ধুয়ে নিন। একদম ঝকঝকে হয়ে উঠবে।

৫) কাপড় ভালো রাখতে –

প্রতিদিনের ব্যবহৃত টি ব্যাগ রেখে দিন ফ্রিজে। লুজ চা-পাতা হলে টিস্যুতে মুড়ে রাখুন। এতে ফ্রিজ থাকবে সতেজ ও পরিষ্কার, কোন রকম ফ্রেশনার ছাড়াই। এছাড়াও কয়েক ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল টি ব্যাগ বা চা পাতার মোড়কে মধ্যে ছিটিয়ে – রাখতে পারেন বাথরুমে, আলমারিতে বা রাখতে পারেন স্কুল কলেজে যাওয়ার কাপড়ের ব্যাগেও। এতে কাপড়ে স্যাঁতসেঁতে ভাব যেমন হবে না তেমনই হবে না বাজে গন্ধও।

৬) কার্পেট পরিষ্কার করতে-

আধা ভেজা ব্যবহৃত চা পাতা কার্পেটে ছড়িয়ে দিন। সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেলে ঝাড়ু দিয়ে ফেলুন বা ভ্যাকুয়াম ক্লিন করে নিন। বাজে গন্ধ ও ময়লা সব গায়েব।

৭) গাছের সার হিসাবে-

গাছপালায় অনেক পোকামাকড়ের সমস্যা? ব্যবহৃত চা পাতা ধুয়ে গাছের গোঁড়ায় দিয়ে রাখুন। পোকামাকড় দূরে থাকবে, আবার গাছের সার হিসাবেও কাজ করবে।

৮) মাকড়সা বা ছোট পোকা তাড়াতে-

মাকড়সা এবং এই ধরণের ছোট পোকামাকড় চা খুবই অপছন্দ করে। ব্যবহৃত টি ব্যাগ বা চা পাতা ঘরের কোণায় কোণায় দিয়ে রাখুন, এরা আশেপাশেও ঘেঁষবে না।

৯) বাজে গন্ধ দূর করতে-

আদা, রসুন বা মাছ ধরার পর আপনার হাতে একটি বিশ্রী গন্ধ হয়। তাই এসব জিনিস ব্যবহারের পর টি ব্যাগ হাতে ঘষে হাত ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন হাতের গন্ধ অতি সহজেই দূর হয়ে গেছে।

মোজা ব্যবহারে যাদের পায়ে দুর্গন্ধ হয় তারা প্রতিদিন চা এর জলে ২০ মিনিট পা ভিজিয়ে রাখবেন এরপর ঠাণ্ডা জল দিয়ে পা ধুয়ে ফেলবেন। ছেলে মেয়ে সবার জন্যই প্রযোজ্য । পায়ের দুর্গন্ধ থাকবে না।

জুতোর ভিতরের বাজে গন্ধ দূর করার জন্য জুতো মধ্যে টি ব্যাগ রেখে দিন সারা রাত। গন্ধ চলে যাবে। টি ব্যাগ না পেলে ব্যবহৃত শুকনো চা পাতা, টিস্যু পেপারে বা পাতলা কাপড়ে মুড়িয়ে রাখতে পারেন।

১০) কাঠের ফার্নিচার পালিশ করতে-

আপনার কাঠের আসবাবগুলো ব্যবহৃত ও প্রায় শুকনো টি ব্যাগ দিয়ে ঘষে নিন। চকচকে হয়ে উঠবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here