ফিটনেস ব্যান্ডগুলি কিভাবে কাজ করে (কিভাবে হার্টবিট বা কত পা হাঁটলাম সেটা মাপে)?

0
7

হৃৎস্পন্দন (Heart Beat) : ফিটনেস ব্যান্ডগুলি হার্টবিট মাপার জন্য ফোটোপ্লেথিসমোগ্রাফি (Photoplethysmography) নামে একটি পদ্ধতি ব্যবহার করে। এই পদ্ধতিতে একটি LED থেকে একটি নির্দিষ্ট কম্পাঙ্কের আলোর (সাধারণতঃ সবুজ, কারণ লাল রক্ত সবুজ রঙ বেশি ভালো শোষণ করে) ঝলকানি (এটিও নির্দিষ্ট ফ্ল্যাশ রেট বিশিষ্ট) সরাসরি আপনার হাতের উপর ফেলা হয়। আপনার ত্বকের নিচে থাকা রক্তনালীতে রক্তের পরিমাণের উপর নির্ভর করে আলো প্রতিফলিত হয় যা একটি ফোটোডায়োড শনাক্ত করে। এখন হৃদপিণ্ডের সিস্টোলিক প্রেশারের সময় রক্তনালীগুলোয় সবথেকে বেশি রক্ত থাকে — এই সময় আলোর প্রতিফলন কম হয় কারণ অধিকাংশ আলো রক্ত শোষণ করে নেয়। অপরদিকে ডায়াস্টোলিক প্রেশারের সময় রক্তনালীগুলোয় রক্তের পরিমাণ কমে যায় — এইসময় আলো বেশি প্রতিফলিত হয়। ফিটনেস ব্যান্ডের সফ্টওয়্যার এই সময়ের পার্থক্য থেকে হার্টবিট মাপে।

ছবি : সবুজ LED এবং অপটিক্যাল সেন্সর-এর অবস্থান

আরো সহজে বোঝানোর জন্য একটি উদাহরণ দিই — আপনার মোবাইলের ফ্ল্যাশ লাইটটি জ্বালিয়ে ওতে আপনার আঙুল দিয়ে চেপে ধরুন। আঙুলটি লাল বর্ণের দেখাবে। এই লাল বর্ণের তীব্রতা নির্ভর করে আপনার আঙুলে থাকা রক্তের পরিমাণের উপর — যেটা খালি চোখে পার্থক্য না করা গেলেও ফোটোডায়োড করতে পারে।


স্টেপস্ : স্টেপস অর্থাৎ আপনি কত পা হেঁটেছেন, মাপার জন্য ফিটনেস ব্যান্ডগুলি যে যন্ত্র ব্যবহার করে সেটি হ’ল পেডোমিটার। সাধারণতঃ একটি অ্যাক্সিলারোমিটার (MEMS Accelerometer), জাইরোস্কোপ (MEMS Gyroscope) এবং জিপিএস ব্যবহার করে আপনার নড়াচড়া শনাক্ত করে এই যন্ত্রগুলি। আপনি যখন হাঁটেন বা দৌড়ান, অ্যাক্সিলারোমিটার এবং জাইরোস্কোপ-এর X, Y এবং Z অক্ষের পরিবর্তন হয় — এই পরিবর্তন থেকে আপনি কত পা হেঁটেছেন তা গণনা করে আপনার ফিটনেস ব্যান্ডটি। আপনার ব্যান্ডের/মোবাইলের জিপিএস ব্যবস্থা নিশ্চিত করে যে আপনি এক জায়গায় দাঁড়িয়ে নড়াচড়া করেননি — আপনি সত্যিই হেঁটেছেন/দৌড়েছেন।

ছবি : MEMS অ্যাক্সিলারোমিটার

এবার একটা প্রশ্ন আসতে পারে, তাহলে ইন্ডোর ওয়াক/রানিং (যেমন ট্রেডমিল এ হাঁটা বা দৌড়ানো) এর ক্ষেত্রে এই ফিটনেস ব্যান্ডগুলি কিভাবে স্টেপকাউন্ট করে? উত্তরটা খুবই সহজ — যখন আপনার ব্যান্ড দেখে এক জায়গায় বেশ কিছু সময় ধরে হাঁটা/দৌড়ানোর মত নড়াচড়া করছেন আপনি (অর্থাৎ অ্যাক্সিলারোমিটার ছন্দবদ্ধ ভাবে অক্ষ পরিবর্তন করছে), ব্যান্ডটি জিপিএস ট্র্যাকিং বন্ধ করে দেয় এবং শুধুমাত্র মোশন সেন্স করা শুরু করে।


এতো গেল হার্টবিট আর স্টেপস্ মাপার পদ্ধতি। এছাড়াও ফিটনেস ব্যান্ডগুলি আপনার ঘুমের অবস্থা ও পরিমাণ (Sleeping Pattern), স্বেদন (Sweating) ইত্যাদিও মাপতে পারে। যদিও এগুলি এই প্রশ্নের উত্তরের মধ্যে পড়েনা, আমি সংক্ষিপ্ত ভাবে একটু বলতে চাই।

স্লীপ প্যাটার্ন (Sleep Pattern) : হৃৎস্পন্দন এবং স্টেপস এর থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হ’ল আমাদের পর্যাপ্ত ঘুম হওয়া যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমরা উপেক্ষা করে থাকি। ২৪ ঘন্টায় অন্তত কতটা ঘুম হয়েছে তা জানা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া সুস্থ থাকার জন্য অত্যন্ত জরুরী।

যখন আপনি ঘুমিয়ে থাকেন, আপনার শরীর কোন স্থান পরিবর্তন করে না (অর্থাৎ অ্যাক্সিলারোমিটার কোন মোশন সেন্স করে না) এবং হৃৎস্পন্দন কমবেশি সাধারণ অবস্থায় থাকে (প্রসঙ্গতঃ হাঁটা এবং দৌড়ানোর সময় হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়) — আপনার ফিটনেস ব্যান্ডটি ঠিক এই বিষয়টি দেখে এবং তা থেকে আপনি ঘুমোচ্ছেন কিনা নিশ্চিত করে।

স্বেদন (Sweating) : এতটা অবধি পড়ার পর আপনার মনে হতে পারে, যাহ্ বাবা, বাকিগুলো তো ঠিক ছিল, ঘামের পরিমাণ মেপে আবার কী হবে? যাইহোক, শুনতে হাস্যকর হলেও আমাদের ঘামের পরিমাণ, সময়কাল, ঘামে উপস্থিত সোডিয়াম আয়ন (Na+), পটাশিয়াম আয়ন (K+) ও গ্লুকোজ-এর মাত্রা আমাদের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

বর্তমানে Sweat Sensor নামে একটি সেন্সর তৈরি করা হয়েছে যা আপনার শরীরে ঘামের উপস্থিতি, সান্দ্রতা এবং এতে উপস্থিত সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও গ্লুকোজের মাত্রা নির্ণয় করতে সক্ষম এবং আপনার শরীরের অবস্থা জানতে সক্ষম — যদিও এটি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা এই পরিসরে সম্ভব নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here