প্রতিদিন একটি করে আপেল খেলে কী হয়?

0
8

দিনে একটি আপেল শরীরের দূর্বলতা কমায়, কিছু ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়, বাতের লক্ষণগুলো কমায়, আপেলে আঁশ থাকার কারণে হজমে সাহায্য করে, নিয়মিত কোষ্ঠ পরিষ্কার করে এবং পাকস্থলি ভালো রাখে।

দিনে একটি আপেল সেইসাথে শাক সবজি’তে পূর্ণ খাবার কার্যকরী বলে ক্যান্সার প্রতিরোধী গবেষণায় দেখা গেছে। গবেষণাটি অ্যানুয়াল ফ্রন্টিয়ারস ইন ক্যান্সার প্রিভেনশন রিসার্চ কনফারেন্স ইন সিয়াটলে পেশ করা হয়। খবর-ওয়েব এমডি

গবেষণাগার এবং প্রাণীদের উপর চালানো এক গবেষণায় দেখা যায় আপেলে থাকা একটি কেমিক্যাল কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে বলে জানান, ফ্রেন্চ ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট ফর হেল্থ এন্ড মেডিক্যাল রিসার্চ এর গবেষণা পরিচালক ফ্রান্সিস রাউল, পিএইচডি।

দিনে তিন বা তার অধিকবার আলু ছাড়া শাক সবজি নন-হজকিন’স লিমফোমা এর ঝুঁকি ৪০% কমায় বলে জানান মায়ো ক্লিনিক কলেজ অব মেডিসিন এর প্রধান গবেষক লিন্ডা কেলেমেন, আরডি, এসসিডি। নন-হজকিন’স লিম্ফোমা’র সৃষ্টি হয় যখন লিম্ফ নোডস (ছোট প্রত্যঙ্গ যা ক্ষতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে) এ কোষগুলো বিভক্ত হয় এবং নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বৃদ্ধি পায়।

“ধারণা করা হচ্ছে আমরা যা খাই তার সাথে এক-তৃতীয়াংশ ক্যান্সার সম্পর্কিত…অনেক ক্যান্সারই প্রতিরোধযোগ্য,” কেলেম্যান সংবাদ সম্মেলনে জানান। ফলে এবং শাক সবজি’তে থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টস শরীরকে ফ্রি র্যাডিক্যালসের থেকে বাঁচায়।

আপেল নিয়ে চালানো গবেষণায় রাউল প্রথমে আপেলে পাওয়া অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষগুলো উন্মুক্ত করেন। তারা দেখেন প্রোসাইয়ানিডিনস নামে একটি অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট এক সিরিজ সেল সিগন্যাল ঘটায় যাতে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষগুলো মারা যায়।

গবেষণাগারে চালানো এক গবেষণায় ইদুরদের কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার উপাদান দেয়া হয় এরপরে তাদের প্রোসাইয়ানিডিনস মিশ্রিত পানি খাওয়ানো হয়। যেসব ইদুরকে ছয় সপ্তাহ ধরে “আপেল পানি” দেয়া হয়েছিল তাদের কোলনের ক্ষতিগ্রস্ত প্রিক্যান্সারাস কোষের সংখ্যা স্বাভাবিক খাবার দেয়া ইদুরদের তুলনায় অর্ধেকে নেমে যায় ।

রাউল বলেন, “এই গবেষণায় দেখা যায় “ছোলাসহ পুরোটা আপেলের হয়তো কিছুটা উপকারিতা (ক্যান্সার প্রতিরোধে) রয়েছে,”। প্রোসাইয়ানিডিনস রেড ওয়াইন এবং কোকোয়া’য় প্রচুর পরিমানে পাওয়া যায়।

আপেল না পেলে বিকল্প হিসেবে দেশি ফলগুলো খেতে পারেন। সব ফলেই অনেক অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট রয়েছে যা শরীরের ফ্রি র‌্যাডিক্যালগুলো হত্যা করে। এমনকি গাজর খেতে পারেন। গাজর অনেকগুলো ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। কয়েক টাকা দামের একটি লেবু অনেক উপকারি। যেকোন মৌসুমি ফল খেতে পারেন। পেঁপেও খুব ভালো। প্রতিটি ফলেরই আশ্চর্য সব গুণ আছে। আবার কিছু কিছু ফল কোন কোন রোগের জন্য না খাওয়া ভালো। যেমন: কিডনি’র সমস্যা যাদের আছে তাদের ডাবের পানি না খাওয়া ভালো। ডাবে প্রচুর পটাসিয়াম থাকে যা কিডনি নি:সরণ করতে পারে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here