নিরীহ দেখতে কিছু গাছপালা যা মানুষের ক্ষেত্রে মারাত্মক

0
5

১. ম্যানচিনেলা ট্রি – Manchineel (Hippomane mancinella), পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর এবং বিষাক্ত গাছ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, কারণ এই গাছ থেকে এক প্রকার বিষাক্ত রস নিঃসরিত হয়। এর বিস্তার ট্রপিক্যাল নর্থ এবং সাউথ আমেরিকায়। তবে খুব বেশি দেখা যায়, ফ্লোরিডা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে। এটি দেখতে খুবই সুন্দর ও আকর্ষণীয়, দেখেই মনে হতে পারে, রুপ দেখতে এতো সুন্দর, যদি সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে এই গাছের নীচে নিশ্চয় জিরানো যায়। আমরা সাধারণত কোনো গাছের নীচে বসলে মনের অজান্তেই পাতা ছিঁড়ি মনি করে থাকি। কিন্তু সেখানেই শুরু হয় মহাবিপদ, কারণ পাতা স্পর্শ করার সাথেই আপনার হাতে ডার্মাটাইটিস এর প্রদাহ শুরু হবে। এমনিতে কস নিঃসৃত হয় আর তখন যদি গাছে স্পর্শ করা হয়, তবে সাথে সাথে ফুসকা পড়ে যায়, চোখে গেলে অন্ধ হবারও সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টির সময় এই গাছের নীচে একদমই দাঁড়ানো যাবেনা। এই জন্য এই গাছকে tree of death বলা হয়।

এইতো গেলো গাছ, এইবার আসি ফলে, এর ফলগুলো দেখতে অনেকটা ম্যানগ্রোভ অয়াপলের মতো, এটিকে ডেথ অ্যাপল বা বিচ অ্যাপলও বলা হয়। এই ফল খেলে, আপনার ঠোট থেকে শুরু করে পেটের নাড়ীভুরি-পাকস্থলি সবই জ্বলতে থাকবে। এই জন্য deadliest tree হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড বুকে জায়গা করে নিয়েছে।

ছবিঃ ম্যানচিনেলা গাছ

ছবিঃ ম্যানচিনেলা গাছের ফল।

২. সুইসাইড ট্রি – Suicide Tree(Cerbera odollam), প্রাকৃতিকভাবেই এটি ভারতে জন্মায়। বিশেষ করে উপকূলীয় লবণাক্ত জলাভূমিতে দেখা যায়। পাতাগুলো দেখতে যেমন সাজানো ফুলও কিন্তু খুবই সুন্দর এবং আকর্ষণীয়, সহজেই ভালোবেসে ফেলার মতো। এই গাছের সারাগায়ে বিষাক্ত হুল রয়েছে, যেখানে কার্ডেনোলাইড এবং কার্ডিয়াক গ্লাইকোসাইড নামক বিষাক্ত উপাদান পাওয়া যায়, যা আমাদের হৃদপেশীর কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। এবং মানুষের গায়ে একবার যদি লাগে প্রায় দুবছর পর্যন্ত যন্ত্রণা হতে পারে।

ছবিঃ সুইসাইড ট্রি Cerbera odollam – Suicide Tree

. স্ট্রেচনিই ট্রি- Strychnine Tree (Strychnos nux-vomica), এটিও প্রাকৃতিকভাবে ভারতে জন্মায় তবে দক্ষিণপূর্ব এশিয়াতেও দেখা যায়। দেখতে কিন্তু বেশ লাগে। এইযে ছবিতে লোভনীয় ফলের ছবি দেখেই বুঝতে পারছেন হয়ত। এই গাছের পাতা, বাকল ও ফলে স্ট্রিকনিন ও বুসিন নামক বিষাক্ত টক্সিন রয়েছে, তবে বলা হয়ে থাকে ফল মারাত্মকভাবে বিষাক্ত। এই বিষ আমাদের স্নায়ুকার্য বন্ধ করে দেয়, ফলে দুশ্চিন্তা, অনিদ্রা, দুর্বলতা ও ধনুষ্টংকার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

ছবিঃ স্ট্রেচনিই ট্রি-

৪. মিল্কি ম্যানগ্রোভ- Milky Mangrove (Excoecaria agallocha), সাগরকুলের বাসিন্দা ইনি, পূর্ব, দক্ষিণপূর্ব এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ান উপকূলে জন্মায়। এই গাছ থেকে ধরণের মিল্কি লেটক্স বিষ-ক্ষরণ হয়, যার কারণে এটি স্পর্শ করা কখনোই উচিত নয়। যদি করেও থাকেন তবে ফলস্বরূপ সংগে সংগে জ্বালাপোড়া করে এবং দ্রুত ফোস্কা পড়ে যায়। অন্ধ হয়ে যেতে পারেন।

ছবিঃ মিল্কি ম্যানগ্রোভ

এছাড়াও ধুতরা, পোসামউড,গিম্পিগিম্পি, টেক্সাস বাকাটা, আগরা, ওয়াটার হেমলক,নীল করবী, ড্যাফোডিল, সার্বেরা অডলামসহ বহু ডেডলি প্রজাতি রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here