দেশে রেমডেসিভির দাম ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা হতে পারে

0
9

করোনা ভাইরাসের চিকিৎসায় কার্যকারিতার নিরিখে এখন পর্যন্ত যে ওষুধটিকে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় বলে মনে করা হচ্ছে, সেই ‘রেমডেসিভির’-এর উৎপাদন শুরু হয়েছে বাংলাদেশে। এরই মধ্যে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর কয়েকটি কোম্পানিকে এই ওষুধ তৈরির অনুমোদন দিয়েছে। কোম্পানিগুলো হলো বেক্সিমকো, এসকে-এফ, ইনসেপ্টা, স্কয়ার, বিকন, হেলথকেয়ার, অ্যাকমি ও পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস। এর মধ্যে বেক্সিমকো আর এসকে-এফের কাজ অনেকদূর এগিয়েছে। এই মাসের মধ্যেই হয়তো তারা ওষুধটি বাজারে ছাড়বে। তবে বিবিসি বলছে, বাংলাদেশে উৎপাদিত এই ওষুধ সাধারণ মানুষের কতটা ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এসকে-এফের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে ওষুধটির প্রতিটি ভায়ালের দাম পড়তে পারে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। ঔষধ প্রশাসন বলছে, তারা রেমডেসিভিরের দাম নিয়ন্ত্রণে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না।

রেমডেসিভির ওষুধটির পেটেন্ট যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বায়োফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি গিলিয়েড সায়েন্সেসের। ওষুধটি প্রথমে ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, নোভেল করোনা ভাইরাসসহ আরও কিছু ভাইরাস মানুষের দেহে প্রবেশ করে যেভাবে বংশবৃদ্ধি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ক্ষতগ্রস্ত করে, সেই প্রক্রিয়া কিছুটা হলেও থামানোর সক্ষমতা আছে এই ওষুধের। এমন গবেষণার তথ্য গিলিয়েড সায়েন্সেস প্রকাশ করার পর গত সপ্তাহে করোনা ভাইরাস আক্রান্তদের জরুরি ব্যবহারের উদ্দেশ্যে এই ওষুধ ব্যবহারের অনুমোদন দেয় যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। বলা হচ্ছে, এই ওষুধের প্রয়োগ বেশি অসুস্থদের হাসপাতালে থাকার সময়কাল চার দিন পর্যন্ত কমাতে পারে।

রেমডেসিভিরের পেটেন্টের মালিকানা গিলিয়েডের অর্থাৎ শুধু তাদেরই এটি তৈরির অধিকার রয়েছে। কিন্তু জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় নাম থাকায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতি অনুযায়ী এই ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে ওই নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশের ওপর প্রযোজ্য হবে না।

এসকে-এফের মার্কেটিং ও সেলস বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম বিবিসিকে বলেন, ‘ওষুধটি ইনজেকশনের মাধ্যমে রোগীর শরীরে প্রবেশ করাতে হয়। যেসব রোগীর অবস্থা গুরুতর, তাদের পাঁচ দিন ও দশ দিন এই দুই ধরনের মেয়াদে বা কোর্সে ওষুধটি প্রয়োগের অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ কর্তৃপক্ষ। পাঁচ দিনের মধ্যে যাদের রোগ সারবে না, তাদের ক্ষেত্রে দশ দিনের কোর্সের পরামর্শ দেওয়া হবে। যারা পাঁচ দিন ধরে চিকিৎসা নেবেন তাদের জন্য রেমডেসিভিরের ৬টি ভায়াল, আর দশ দিনের চিকিৎসা নেওয়াদের ক্ষেত্রে ১১টি ভায়াল প্রয়োজন হবে। প্রতিটি ভায়ালের দাম হবে বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে। অর্থাৎ যারা পাঁচ দিন চিকিৎসা নেবেন তাদের রেমডেসিভির ওষুধ কিনতে খরচ হবে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। আর যারা দশ দিন চিকিৎসা নেবেন তাদের খরচ পড়বে ৬০ হাজার টাকার মতো।’

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের চিফ অপারেটিং অফিসার রাব্বুর রেজাও জানিয়েছেন তাদের তৈরি করা রেমডেসিভিরের প্রতিটি ভায়ালের দাম ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে নির্ধারণ করা হবে। অর্থাৎ কোভিড-১৯ চিকিৎসায় রেমডেসিভির ব্যবহার করতে হলে বেশ বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করতে হবে।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মাহবুবুর রহমান বলেন, শুরুর দিকে শুধু সরকারি হাসপাতালগুলোতে এই ওষুধ সরবরাহের পরিকল্পনা থাকলেও পরে বেসরকারি পর্যায়েও বাজারজাতকরণের অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। তিনি বলেন, ‘যেহেতু বিভিন্ন জায়গায় এই ওষুধের প্রয়োজন হবে, তাই সীমিত পরিসরে এর জোগান দিলে হয়তো অনেক মানুষই ওষুধ পাবেন না। তাই আমরা এটি বাজারজাতকরণের অনুমোদন দিচ্ছি।’ তবে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ওষুধ যেন বিক্রি করা না হয়, এই শর্তে এটি বাজারজাত করা হবে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারিভাবে যেন এই ওষুধের বিপণন করা হয়, আমরা সেই পরামর্শ দিয়েছি। তবে তার মানে এই নয় এটি বেসরকারিভাবে দেওয়া যাবে না। নিয়ন্ত্রিতভাবে এই ওষুধ বাজারে ছাড়া হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও এটি সরবরাহ করতে পারবে। তবে ফার্মেসিতে খুচরা কিনতে সেভাবে পাওয়া যাবে না।’

এদিকে যেহেতু রেমডেসিভির বেশ উচ্চ মূল্যের ওষুধ হবে, তাই বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে তা থাকবে কিনা, সেটি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বাংলাদেশে রেমডেসিভিরের দাম নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে সরকার কোনো পদক্ষেপ না নিলেও সরকারি হাসপাতালগুলোতে এর দাম কিছুটা কম হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে ওষুধ তৈরির প্রতিষ্ঠানগুলো পণ্য বিক্রি করার সময় প্রস্তাবিত মূল্য ঘোষণা করে। সে সময় কোনো প্রতিষ্ঠান যদি কম মূল্য চায়, তখন ওষুধের দাম কমে আসবে। তবে এর বাইরে ওষুধের দাম নির্ধারণে প্রশাসন কোনো হস্তক্ষেপ করবে না।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here