চমকে দেওয়ার মতো কিছু সাইকোলজিকাল ট্রিকস

0
100

সাইকোলজিকাল ট্রিকস এর ক্ষেত্রে আপনার কিছু ভাবভঙ্গি, আচরণ, কথা, প্রতিক্রিয়া ইত্যাদি বিষয় ভূমিকা রাখে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে চলচিত্রের অনেক ভিলেনরাই এই সাইকোলজিকাল ট্রিকস ব্যবহার করে, তাদের শত্রুকে পথভ্রষ্ট অথবা পরাজয়িত করার জন্য। এখানে মোটেও তাদের শারীরিক শক্তি ব্যবহার হয় না, শুধু ব্যবহার হয় তাদের মানসিক শক্তি।

১. দৃষ্টি সংযোগ

আমরা সবাই জানি যে কথোপকথনের মাঝে দৃষ্টি সংযোগ কতটা জরুরি। আপনি যদি কারো সাথে কথা বলার সময় তার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলেন অথবা শোনেন, তাহলে ২য় জন ভাববে যে আপনি তার কথা মনযোগ সহকারে শুনছেন অথবা তার সাথে কথা বলার জন্য আপনার ইচ্ছা আছে। ফলে সে আপনার সাথে কথা স্বস্তিতে কথা বলবে।

আর এটি যদি আপনি আপনার চাকরীর ইন্টার্ভিউতে প্রয়োগ করতে পারেন, তাহলে তো কথাই নেই! কিন্তু তার মানে এই না যে সবসময় আপনি শুধু সবার চোখের দিকেই তাকিয়ে থাকবেন। তাহলে ব্যাপারটা অনেকটাই ঘুরে যায়…

২. হতাশা দূর

এটা আমারও অনেক পছন্দের একটি ট্রিক। আপনি যখন হতাশায় ভোগেন, অথবা যখন আপনার ভেতর কোন অনুপ্রেরণা থাকে না, তখন আপনি আপনার চিন্তাধারায় এমন কাউকে সৃষ্টি করতে হবে যে কিনা আপনার হতাশা দূর করতে সক্ষম। এটি কোন মেয়ে হতে পারে, অথবা অন্য কেউ। ফলে যখনই আপনি হতাশা অনুভব করবেন তখন আপনাকে ভাবতে হবে যে সে ব্যাক্তিটি আপনাকে শান্তনা দিচ্ছে অথবা অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে।

ঠিক যেমনটা জোকার ছবিতে আর্থার ফ্লেক তার চিন্তাভাবনায় একজন মেয়েকে কল্পনা করে, যে কিনা সবসময় তার পক্ষেই থাকে।

৩. মিল খোজা

কারো সাথে বন্ধুত্ব করতে হলে আপনাকে তার সাথে কথা বলার সময় কিছু বিষয়ে মিল খুজতে হবে অথবা এমন কিছু যা আপনাদের দুজনের কাছেই ভাল লাগে। যেমন:

A: আচ্ছা তুমি কোন ধরণের মুভি দেখতে পছন্দ করো?

B: এই তো, এডভেঞ্চার, হরর, এনিমেশন, সুপারহিরো, ইত্যাদি মুভিই বেশি দেখা হয়।

A: আরে! আমিও এই ধরণের মুভি দেখতেই পছন্দ করি। আমি অনেক ধরণের এনিমেশন মুভিই দেখেছি, যেমন মেগামাইন্ড, আইস এজ, য়্যুটোপিয়া, রিও ইত্যাদি

খেয়াল রাখতে হবে যেন আপনি কথার শেষের দিক দিয়ে কিছু উদাহরণ দিয়ে দেন, যেন ২য় জনের মনে কোন সন্দেহ না থাকে যে আপনি আসলেই এসব পছন্দ করে থাকেন।

৪. রক-পেপার-সিজার

রক পেপার সিজার খেলার আগে আপনার বন্ধুকে একটি এলোমেলো প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন এবং খেলা শুরু করুন। এতে বেশিরভাগ সময় ২য় জনের সিজার ওঠার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কারণ তার মন একটু অন্যদিকে চলে যায় এবং তার মস্তিষ্ক শারীরিক দিক দিয়ে একেবারে সহজ কিছু চিন্তা করে।

৫. অপরিচিত লোকের সাথে কথা শুরু করা

রাস্তাঘাটে, ভ্রমণকালীন কোন অপরিচিত লোকের সাথে কথা বলতে গেলে প্রথমেই আপনার কিছু একটা সম্পর্কে তাকে বলুন। যেমন:

A: আহ! আজকে মনে হচ্ছে যেতে যেতে একেবারে রাত হয়ে যাবে।

A: আরে! যে জ্যাম লাগছে, আজকে আর সময়মত অফিসে পৌছানো যাবে না!

A: আচ্ছা ভাই, আমার মোবাইলটার চার্জ শেষ, ঘড়িতে কয়টা বাজে বলবেন কি?

এর ফলে পাশে থাকা ব্যাক্তি আপনার সাথে কথা বলতে স্বস্তিবোধ করবে। কারণ লোকটা আপনার সম্পর্কে একটু হলেও জানে। তারপর আপনার পরবর্তী ধাপ হবে কিছু ছোটখাটো প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা, যেমন: আপনি কোথায় যাবেন? কিসে চাকরী করেন? আপনার গ্রামের বাড়ি কোথায়? ইত্যাদি ইত্যাদি। এভাবেই আপনাদের মাঝে একটি কথোপকথন তৈরী হবে।

৬. নাম

আপনি যদি কোন ব্যাক্তি (এখনো ভালভাবে কথাবার্তা বা পরিচয় হয়নি) বা স্কুলে নতুন ক্লাসমেটের নাম ধরে ডাকেন, তাহলে সে ব্যাক্তি নিজেকে আপনার একটু হলেও পরিচিত অনুভব করবে। তাই তখন তার সাথে আপনার কথা বলার সুযোগ বেশি থাকে।

৭. হাসি

হাসি এমন একটা জিনিস, যা আপনাকে অন্যান্যদের থেকে আলাদা করে রাখবে। হাসির একটা অদৃশ্য শক্তি আছে। আপনি সবসময় হাসিখুশি থাকবেন, আশেপাশের মানুষজন আপনাকে ভাল লাগা শুরু করবে। আবার, আপনি দূ:সময়েও যদি হাসার ক্ষমতা রাখেন, তাহলে এটাই শত্রুর আত্মবিশ্বাস ভাঙতে যথেষ্ট।

৮. ভাল ব্যবহার

হাসির মতন, আপনার ভাল ব্যবহার আপনাকে অন্যান্যদের ভাল ব্যবহার পেতে সাহায্য করে। কোন লোক যদি আপনার বিরুদ্ধে যায়, তাহলে পরিস্থিতি আরো খারাপ করার চেয়ে আপনি তার সাথে ভাল ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। যখন সে দেখবে যে অপমানের বদলে আপনি তার সাথে ভাল ব্যবহার করছেন, তখন তার মধ্যে অবশ্যই অনুশোচনা বোধ তৈরী হবে। এটা হয়তবা একদিনে আসবে না, কিন্তু করতে করতে একদিন অবশ্যই আসবে। আর এটাই আপনাকে অন্যান্য মানুষদের থেকে আলাদা করে রাখবে। আসল দুনিয়ায় এটি করা একটু কঠিন হলেও, সোশ্যাল মিডিয়ায় এটি অনেক সহজ।

৯. পজিটিভ চিন্তাভাবনা

এটিও আমার পছন্দের একটি বিষয়। প্রতিবছর আপনার জীবনে যা কিছু ভাল ঘটে (মনে রাখার মত ঘটনা), তা একটি নোটপ্যাডে বা আপনার ব্যক্তিগত ডায়রীতে লিখতে থাকুন। মনে রাখবেন, কেবল ভাল ঘটনাগুলোই…

এবার যখনই আপনার জীবনে খারাপ কিছু হবে বা ঠিকঠাক এগোবেনা, তখনই ডায়রী খুলে আপনার অতীতে ঘটে যাওয়া ভাল ঘটনাগুলোর উপর চোখ বুলাবেন। দেখবেন মন অনেকটাই শান্ত হয়ে গেছে। ঠিক একই ভাবে আমাদের প্রতিদিনে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা থেকে আমাদের কেবল পজিটিভ দিকটা তুলে নিয়ে নেগেটিভ দিক বর্জন করতে হবে। এভাবেই আমাদের মাঝে পজিটিভ চিন্তাভাবনা জন্মাবে।

১০. ফিরে তাকানো

যদি আপনি কখনো খেয়াল করেন যে কেউ একজন আপনার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে এবং আপনি তাতে অস্বস্তি অনুভব করছেন, তাহলে আপনি তার মুখের দিকে না তাকিয়ে তার পায়ের দিকে তাকান। দেখবেন সে আপনা আপনি দৃষ্টি সরিয়ে নিচ্ছে।

~

ছবি – ইন্টারনেট, ডাকডাকগো

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here