খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ আরো ছয় মাস বাড়ল

0
96
খালেদা বিদেশ যেতে চাচ্ছেন না

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ানো হয়েছে। গতকাল (বৃহস্পতিবার) এ কথা জানিয়েছেন- আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেছেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশে বাসায় থেকে চিকিৎসা নেয়ার পুরোনো শর্তে তার সাজা ৬ মাসের জন্য স্থগিত করার পক্ষে মতামত দেয়া হয়েছে। যদিও খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আবেদনে স্থায়ীভাবে তার মুক্তি চাওয়া হয়েছিল। আইন মন্ত্রণালয় তার স্থায়ী মুক্তির আবেদনটি বিবেচনা করেনি।

এছাড়া বিএনপি নেত্রী সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করানোর বিষয়েও তার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল। আইনমন্ত্রী বলেন, বিদেশ নিয়ে চিকিৎসার ব্যাপারে পরিষ্কারভাবে তারা এ আবেদনে চাননি। এছাড়া তারা স্থায়ী মুক্তির আবেদন করেছিলেন। সেখানে আমরা আইনগত দিক থেকে সাজা ৬ মাস স্থগিত করে এই সময় পর্যন্ত তার মুক্ত থাকার মেয়াদ বাড়ানোর মতামত দিয়েছি। আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি পাঠানো হবে। এর আগে চলতি বছর ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্তি পাওয়ার পর খালেদা জিয়া ঢাকার গুলশানের বাসায় ওঠেন।

বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ মার্চ শর্ত সাপেক্ষে সরকারের নির্বাহী আদেশে সাজা স্থগিত করে ৬ মাসের জন্য সরকার খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়েছিল। দু’টি পৃথক দুর্নীতির মামলায় ২ বছরের বেশি কারাভোগের পর মুক্তি পান খালেদা জিয়া। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সেই মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে।

এ প্রেক্ষাপটে গত ২৫ আগস্ট শামীম ইস্কান্দার পরিবারের পক্ষ থেকে স্থায়ী মুক্তি চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে যায় আইনগত মতামতের জন্য। গতকাল আইন মন্ত্রণালয় তার মুক্তির মেয়াদ আরও ৬ মাস বৃদ্ধির পক্ষে মতামত দিয়েছে-মর্মে জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, এটি প্যারোল বা জামিন মুক্তি নয়। ফৌজদারি কার্যবিধিতে সরকারের যে এখতিয়ার রয়েছে, সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করে সরকার সাজা স্থগিত করে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়েছে।

প্রসঙ্গত: ২০০৮ সালে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ মামলায় ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের কারাদন্ড দেয় বিশেষ আদালত। সরকারপক্ষের আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেন। এ মামলায় তিনি কারাগারে ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here