করোনাভাইরাস (করভিড -১৯) কী? করভিড -১৯ কীভাবে ছড়িয়ে পড়ে? আমাদের কী সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত?

0
53

করোনাভাইরাস (কোভিড ১৯) নিয়ে উত্তর লেখার আগে আরেকটু জানতে চাইছিলাম, তাই একাধিক অনুরোধ আসা সত্ত্বেও উত্তর লিখতে একটু দেরি হল। যেহেতু সবার মুখে মুখে ঘুরছে এর কথা তাই সংক্ষেপে জানার বস্তুগুলি সাজিয়ে লিখছি।

করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ কি? কিভাবে ছড়ায়?

  • করোনাভাইরাস একটি ভাইরাস গ্রূপের নাম। এর মধ্যে অনেকগুলি ভাইরাস আছে। সাধারণ ঠাণ্ডা লাগার পিছনেও করোনাভাইরাস থাকে, আবার সার্স (SARS) বলে কিছু বছর আগে যে মারণ রোগটি বেরিয়েছিল, তার পিছনেও ছিল আরেক করোনাভাইরাস।
  • এখন যে রোগটি নিয়ে সবাই আতঙ্কে আছে, তার নাম দেওয়া হয়েছে কোভিড ১৯ (COVID-Corona virus disease-19)। ভাইরাসটির পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে সার্স করোনাভাইরাস ২ (SARS-Cov -2), কারণ এটি আকার ও আচরণে সার্স ভাইরাসের কাছাকাছি।
  • এই ভাইরাস ড্রপলেট ইনফেকশনের মাধ্যমে ছড়ায়, অর্থাৎ আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর থেকে যে তরল বেরোয় হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে তাতে ভাইরাস থাকে, সেটি চোখ, নাক, মুখের ফুটো দিয়ে অন্য কারুর শরীরে ঢুকে ভাইরাস ছড়ায়।
  • রোগের লক্ষণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিতান্তই সাধারণ-হাঁচি, কাশি, নাক দিয়ে জল পড়া, গলা খুসখুস বা ব্যথা, হালকা জ্বর। ১-৩% ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, বা মাল্টি অর্গ্যান ফেলিওর হতে পারে-তখন প্রাণসংশয়ের আশঙ্কা থাকে। কম বয়সে প্রাণহানির আশঙ্কা খুবই কম। বৃদ্ধ বয়সে mortality র হার অনেক বেশি।

করোনাভাইরাসের চেহারা

কি সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত?

  • যে কোনো সংক্রামক রোগ যা ড্রপলেট ইনফেকশন দিয়ে ছড়ায়, সবার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বনের নিয়ম একই।
  • অন্যজনের থেকে ১ মিটার দূরত্ব রাখবেন, বিশেষতঃ তিনি যদি হাঁচি, কাশি বা সর্দিতে ভোগেন।
  • আপনি হাঁচলে বা কাশলে হাত দিয়ে মুখ ঢাকার বদলে কনুইয়ের ভাঁজ দিয়ে মুখ ঢাকুন বা শুকনো টিস্যু মুখের সামনে ধরুন। টিস্যু একবার ব্যবহার করে সাবধানে ফেলে দেবেন। ডাস্টবিন দেখে ফেলবেন, রাস্তায় অবশ্যই না।
  • নিয়মিত হাত পরিষ্কার রাখুন। সাবান জল সব চেয়ে ভালো, অন্ততঃ ২০ সেকেন্ড সাবান ঘষতে হবে। হাতের পিছন দিক, আঙুলের ফাঁকে, নখের তলায় পরিষ্কার করা প্রয়োজন। হাত পরিষ্কার থাকলে বা সাবান না থাকলে অ্যালকোহল দেওয়া স্যানিটাইজার দিয়ে ২০ সেকেন্ড ঘষবেন।
  • নোংরা জায়গায় হাত দিয়ে, বা ইনফেক্টেড কারুর সাথে হ্যান্ডশেক করে নিজের মুখে চোখে হাত দেবেন না।
  • এবার আসি একটি জরুরি কথায়। মাস্ক ব্যবহার করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ২-৩ কথা-
    • রোগী এবং তার আশেপাশের লোকের সার্জিক্যাল মাস্ক ব্যবহার করা প্রয়োজন যাতে হাঁচলে কাশলে ড্রপলেট বাইরে না ছড়ায়। স্বাস্থ্যকর্মী ডাক্তার, নার্স যারা রোগীদের দেখাশুনা করছেন, তাদের মাস্ক, গগলস, গ্লাভস পরা প্রয়োজন।
    • চীনের বাইরে অন্য দেশে সুস্থ লোকের এন-৯৫ ধরণের মাস্ক পরা অপ্রয়োজনীয়, এমনকি ক্ষতিকর। দয়া করে মাস্ক কিনে জমিয়ে দাম বাড়িয়ে কৃত্রিম অভাব সৃষ্টি করবেন না। উপরে বলা সতর্কতা গুলি অনুসরণ করুন।
    • এন-৯৫ মাস্ক দিনে ২৩-২৪ ঘন্টা পরে থাকলে সংক্রমণ এড়ানো সম্ভব, কিন্তু ব্যাপারটা ইমপ্র্যাকটিক্যাল ও ক্ষতিকর। রোগীরা এ ধরণের মাস্ক স্বাস্থ্যকর্মীদের পরামর্শে পরতে পারেন। শুধু শুধু সার্জিক্যাল মাস্ক পরে ঘুরে কোনো লাভই নেই।
  • বাড়িতে যদি কোন সর্দি কাশির রোগী এসে থাকেন, তাহলে যাওয়ার পর ভালো করে টেবিল চেয়ার স্যানিটাইজার দিয়ে মুছে নেবেন।
  • যদি সর্দি কাশি হয়, বাইরে বেরোবেন না। চটপট ডাক্তার দেখান। কোভিড ডায়াগনসিস করতে পি সি আর টেস্ট করা হয়, খুব কম জায়গায় পাওয়া যায়। খোঁজ নিয়ে রাখুন।
  • সেরকম কোনো ভ্যাকসিন বা ওষুধ বেরোয়নি। সাপোরটিভ চিকিৎসা চলে-জ্বরের ওষুধ, ফ্লুইড ইত্যাদি দিয়ে।

সবার শেষে এবং সবার চেয়ে জরুরি কথা: অযথা প্যানিক করবেন না। কোভিড এর fatality rate খুব কম -১-৩%। ঠাণ্ডা লাগলেই কোভিড ভাবার কারণ নেই। যথাযথ চিকিৎসা করান।

এন ৯৫ মাস্ক

তথ্য সূত্র: WHO ও CDC ওয়েবসাইট।

চিত্র সূত্র:

Coronavirus – Wikipedia

Novel Coronavirus 2019 (COVID-19) – Columbia/Boone County Public Health and Human Services

How are N95 masks different from dust masks?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here