কতদিন জীবিত থাকে করোনাভাইরাস?

0
29

বিশ্বব্যাপী তাণ্ডব চালাচ্ছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস (যা আন্তর্জাতিকভাবে কোভিড-১৯ নামে পরিচিত)। এরই মধ্যে বিশ্বের ১৭৯টি দেশ ও অঞ্চলে হানা দিয়েছে চীনের উহান থেকে উৎপত্তি এই ভাইরাস। বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৪৯ জন। মৃত্যু হয়েছে ১০ হাজার ৪৬ জন।

বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও এই ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে ১৮ জন আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণের ঝুঁকিতে সবচেয়ে বিপজ্জনক হয়ে উঠছে গণপরিবহন (বাস, ট্রেন), রাস্তাঘাট, বাজার, মসজিদ ও পার্কের  মতো স্থান। বিশ্বের বহু দেশে এসব স্থানে স্প্রে করে সেগুলো জীবাণুমুক্ত করার চেষ্টা চলছে। একই উপায়ে পরিষ্কার করা হচ্ছে অফিস আদালত, হাসপাতাল, দোকানপাট, রেস্তোরাঁও।

করোনাভাইরাসের আয়ু

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, আরও যেসব করোনাভাইরাস আছে, যেমন সার্স ও মার্স, সেগুলো লোহা, কাঁচ এবং প্লাস্টিকের গায়ে ৯ (নয়) দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। কোনও কোনও ভাইরাস ঠাণ্ডা জায়গায় ২৮ দিনও বেঁচে থাকতে পারে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, কোভিড-১৯ এর জন্যে দায়ী ভাইরাসটি কতক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে তা নির্ভর করে এটি কোন ধরনের বস্তুর গায়ে পড়েছে তার ওপর।

দরজার শক্ত হাতল, লিফটের বাটন এবং কিচেন ওয়ার্কটপের মতো শক্ত জিনিসের গায়ে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা টিকে থাকতে পারে। তবে এর আগের গবেষণায় দেখা গেছে সহায়ক পরিবেশে সব ধরনের করোনাভাইরাস এক সপ্তাহও বেঁচে থাকতে পারে। কাপড়ের মতো নরম জিনিসের গায়ে এটি এতো লম্বা সময় বেঁচে থাকতে পারে না। ফলে আপনি যে কাপড়টি পরেছেন এবং তাতে যদি ওই ভাইরাসটি থাকে, জামাটি একদিন কিম্বা দুদিন না পরলে সেখানে ভাইরাসটি জীবিত থাকার আর সম্ভাবনা নেই।

ড্রপলেট কী

করোনাভাইরাস ছড়াতে পারে আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে যে জলীয় কণা বা ড্রপলেট বাতাসে বের হয়ে আসে তার মাধ্যমে। মাত্র একবারের কাশি থেকেই বের হতে পারে এরকম ৩,০০০ ড্রপলেট।

ড্রপলেটের এই কণা গিয়ে পড়তে পারে আরেকজনের গায়ে, কাপড়ে এবং আশেপাশের জিনিসের উপর। তবে কিছু ক্ষুদ্র কণা থেকে যেতে পারে বাতাসেও।

দেখা গেছে এই ভাইরাস মল-মূত্রের মধ্যে আরো বেশি সময় বেঁচে থাকতে পারে। টয়লেট থেকে ফিরে ভাল করে হাত না ধুলে তার হাতের স্পর্শের সাহায্যে আরো অনেক কিছুতেই এই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন বলছে, ভাইরাসটি লেগে আছে এরকম কোন বস্তু স্পর্শ করার পর হাত দিয়ে যদি মুখ স্পর্শ করা হয় তাহলে ভাইরাসটি ছড়াতে পারে। তবে এটিই এই ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার প্রধান উপায় নয়। এর চেয়েও বিপজ্জনক হচ্ছে মানুষের হাত।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অন্যান্য কর্তৃপক্ষও বলছে যে, বার বার হাত ধুয়ে এবং একই সাথে যেসব জিনিস ধরা হচ্ছে সেগুলো বার বার জীবাণুমুক্ত করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

হাত দিয়ে নাক, মুখ, চোখ ধরবেন না

মনে রাখতে হবে, কোভিড-১৯ এর ভাইরাসটি লেগে আছে এরকম জিনিসে শুধু স্পর্শ করলেই আপনি আক্রান্ত হবেন না। স্পর্শ করার পর আপনি যদি হাত দিয়ে মুখ, নাক অথবা চোখ স্পর্শ করেন তাহলেই এই ভাইরাসটি আপনার শরীরে ঢুকে পড়বে। তাই এই ভাইরাসটি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ একটি করণীয় হচ্ছে হাত দিয়ে নাক, চোখ বা মুখ স্পর্শ না করা। সূত্র : বিবিসি বাংলা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here