ওয়াইফাই কলিং কি?

0
9

বর্তমানে ভারত সহ বিভিন্ন দেশে যে ‘ওয়াইফাই কলিং” (VOWIFI) চালু হয়েছে তাতে কি মোবাইল টাওয়ারগুলির গুরুত্ব অনেকখানি কমে যাবে? মোবাইল টাওয়ার থেকে বিকিরণের ফলে মানবদেহে যে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে তা কিছুটা হলেও কি কমবে?

WiFi calling হলো বর্তমান নেটওয়ার্ক ক্যারিয়ার কলিং পদ্ধতির বিকল্প মাধ্যম। এই পদ্ধতিতে ওয়াইফাই এর মাধ্যমে ভয়েস কল আদান-প্রদান করা যাবে। যেসব যায়গায় সাধারণ নেটওয়ার্ক সিগন্যাল কম থাকে সেসব যায়গায় ওয়াইফাই কলিং এর মাধ্যমে সুবিধাজনকভাবে কল করা সম্ভব।

কোথায় WiFi Calling প্রথম শুরু হয়? :

গত ২০১৮ সালের শেষ দিকে গুগল প্রথম তার Google-Fi product তৈরি করে। প্রোডাক্টটি কয়েকটি ফোনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো। এদের মধ্যে স্যামসাং, আইফোন ৬,৭,৮,এক্স,এক্স এস, স্প্রিন্ট, হরিযোন ছিলো।

Wi-Fi calling Architecture (গঠন) :

ভারতে WiFi Calling :

বেশ কিছুদিন আগেই Airtell সর্বপ্রথম ভারতে ওয়াইফাই কলিং সাপোর্ট শুরু করে। যদিও Airtell শুধুমাত্রই Airtell Broadband ব্যাতিত অন্য কোনো ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক এ কাজ করে না এবং এর ফিচার ৫ টি ফোনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখে।

তবে এই বছর প্রথম দিন থেকে JIO Network ওয়াই-ফাই কলিং সার্ভিস দিতে শুরু করে। এমনকি ১৫০ টি ফোনে বা ক্যারিয়ারে জিও ওয়াইফাই কল সম্ভব।

উভয় ✆ ফোনই তাদের সার্ভিস পুরো বছরের জন্য ফ্রি অব কস্ট (free of cost) দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

Wi-Fi Calling এর সুবিধাঃ

  1. এধরনের কলিং পদ্ধতিতে সর্বনিম্ন 1Mbps ডাটা সিগন্যালেই সুবিধাজনক কল আদান-প্রদান সম্ভব।
  2. যেকোনো ট্রাভেলিং স্পটে যেখানে নেটওয়ার্ক ক্যারিয়ার সিগনাল খুব কম সেখানে ওয়াইফাই এর সুবিধা থাকলেই যে কেউ ফোন কল করতে পারবে।
  3. দ্রুত এবং HD Voice Call করা যায়।

অসুবিধা সমূহঃ

নিরাপত্তা ত্রুটিঃ এই ধরনের সিগনাল সম্পূর্ণ বিপজ্জনক গোপনীয়তার ক্ষেত্রে। কেননা এতে করে ওয়াই-ফাই এর মাধ্যমে একে অন্যের সকল তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব। এক ওয়াইফাই সিগনালে যতজন ব্যবহারকারী আছেন তারা সবাই একই IP Address এ অবস্থান করায় যেকোনো তথ্য সহজেই হ্যাক হতে পারে। এর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালায় যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক এবং ফলাফল হিসেবে খুবই নেতিবাচক কিছু প্রভাব দেখতে পাওয়া যায়।

বর্তমানে যেসকল ওয়াই-ফাই কলিং পদ্ধতি প্রচলিত সবগুলোই 3GPP WiFi network selection mechanism দিয়ে তৈরি। তাই কানেক্টিভিটি নিয়ে শক্তিশালী হলেও ওয়াইফাই কলিং সিকিউরিটি রিস্ক নিয়ে অতটা তৎপর নয়।

উপরের চিত্রটিতে একটি ওয়াইফাই কলিং ট্রেস চালানো হচ্ছে ARP spoofing এর মাধ্যমে।

এবারে ক্যারিয়ার নেটওয়ার্কএর জন্য ঝুকিসমূহঃ

ক্যারিয়ার নেটওয়ার্ক হচ্ছে ট্রেডিশনাল ক্যারিয়ার নেটওয়ার্ক। এই নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমেই আমরা সবসময় ফোনে কথা বলে থাকি। এ নেটওয়ার্ক টাওয়ারের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক রেডিয়েশন ধারণ করে। এই রেডিয়েশন এর মাধ্যমে এক ফোন থেকে অন্য ফোনে ডিজিটাল সিগনাল ট্রান্সমিট করে ফলে আমরা একে অপরের কথা শুনতে পাই।

ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক আসার ফলে ক্যারিয়ার নেটওয়ার্ক এর ব্যবহার অনেকটাই কমে যাবে ঠিক। কিন্তু তথ্য নিরাপত্তার উপর ভিত্তি করে অনেক ক্ষেত্রেই এর প্রসার ঠিক থাকতেও পারে। ক্যারিয়ার সিগনাল খুবই ধীরগতির হয়ে যায় মাঝে মাঝেই। এ থেকে উত্তরন পেতে চাইলে অবশ্যই সবাই ওয়াইফাই কলিংটাকেই বেছে নেবে।

তবে সকল দেশে এবং অঞ্চল ভিত্তিক এই ওয়াইফাই কলিং সাপোর্ট আপাতত সম্ভব নয়। উপযুক্ত ক্ষেত্র এবং ডিভাইস এর প্রয়োজন এর জন্য। সেক্ষেত্রে অবশ্যই ক্যারিয়ার নেটওয়ার্ক এর আওতায় থাকতেই হচ্ছে!

মানবদেহের উপর প্রভাবঃ

আপনার প্রশ্ন অনুযায়ী বলতে হয়, হ্যাঁ মানবদেহের উপর ক্যারিয়ার সিগনাল টাওয়ার থেকে রেডিয়েশন এর ফলে যে ঝুঁকি তা অনেকটাই ত্বরান্বিত হবে ওয়াই-ফাই কলিং পদ্ধতির কারণে।

তবে এই ধারণা ভুল যে ওয়াইফাই সিগনাল এ কোনো প্রভাব পড়বে না। ওয়াইফাই সিগনাল অপেক্ষাকৃত কম ক্ষমতা সম্পন্ন ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে মানবদেহের উপর। তবে নেটওয়ার্ক কে কাজে লাগাতেই হচ্ছে ডাটা ট্রান্সমিশন এর ক্ষেত্রে। তা না হলে কোনো সিগনাল আদান প্রদান সম্ভব হতোনা।

তাই যতই পরিবর্তন আসুক না কেন! যেকোনো একদিক থেকে ক্ষতিকর প্রভাব থাকবেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here