এবার বাংলা দখলের ডাক দিলো অমিত শাহ

0
8

রবিবার কলকাতায় সভা করেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেখান থেকেই আগামী বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজালেন তিনি।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বললেন, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে ক্ষমতায় আসবে।

কিন্তু অমিত আশ্চর্যজনকভাবে দিল্লিতে চলমান সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নিয়ে কোনো কথা বলেননি। অমিতের কলকাতা সফরের প্রতিবাদে এদিন শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ হয়েছে।

তাঁকে কালো পতাকা দেখানোর কর্মসূচিও নেওয়া হয় নানা জায়গায়। রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস প্রথম থেকেই সিএএর বিরোধিতা করে এলেও এদিন তাদের কোনো কর্মসূচিতে দেখা যায়নি।

এদিন বিজেপির সমর্থকরাও মিছিল করে কলকাতায়। তাদের সেই মিছিল থেকেই ফের উঠল দিল্লির হিংসার সঙ্গে এক হয়ে যাওয়া সেই স্লোগান, ‘গোলি মারো…, দেশ কে গদ্দারো কো, গোলি মারো সালো কো’।

গতকাল অমিত শাহ বলেন, ‘লোকসভা নির্বাচনের আগে দিদি (মমতা) বলেছিলেন বিজেপি কিছুই পাবে না; কিন্তু বাংলার ৪২টি আসনের মধ্যে ১৮টি আমরা পেয়েছি। এবার বিধানসভা দখল করব দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে।’ অমিত শাহর এবারের পশ্চিমবঙ্গ সফরের উদ্দেশ্য যে আগামী নির্বাচনে বাংলা দখল, তা বোঝা গেছে তাঁর বক্তব্যের নির্যাস থেকে।

তাঁর বক্তব্যের বেশির ভাগ অংশ জুড়ে ছিল বিজেপি কিভাবে অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণ করবে এবং ৫০০ বছরের পুরনো স্বপ্ন পূরণ হবে। কাশ্মীরে ৩৭০ ধারার বিলোপ নিয়েও অনেক কথা বলেন অমিত। কয়েক দিন ধরে সিএএকে ঘিরে হিংসার আগুনে রক্তাক্ত হচ্ছে ভারতের রাজধানী। চার দিনে সেখানে মারা গেছে ৪২ জন মানুষ। আহত হয়েছে আড়াই শতাধিক।

সিএএর প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে ভারতের অন্যান্য রাজ্যেও। কিন্তু সেই বিক্ষোভ এবং তা নিয়ে সহিংসতার ঘটনা নিয়ে মুখ না খুলে অমিত এদিন সিএএবিরোধী আন্দোলনে বাংলায় যে হিংসা ছড়িয়েছিল তা নিয়ে মমতাকে আক্রমণ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দিদি অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রীর মদতেই এই হিংসা।

তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘আমি মমতা দিদিকে প্রশ্ন করতে চাই, আপনি কেন উদ্বাস্তুদের আবেগে আঘাত হানছেন? আপনি শুধু অনুপ্রবেশকারীদের স্বার্থ দেখেন। উদ্বাস্তুরা ভীত ও অবাঞ্ছিত। আমাদের প্রতিবেশী দেশ থেকে যেসব হিন্দু ধর্ষিত হয়ে, সব হারিয়ে এ দেশের শরণে এসেছেন, তাঁরা কি নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য নন?’ সিএএবিরোধীদের সতর্ক করে অমিত শাহ আরো বলেন, ‘সিএএতে কোনো মুসলিম নাগরিকের নাগরিকত্ব যাবে না।

মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে ভোটব্যাংকের রাজনীতির কারণে। আমি আবার বলছি, আমরা সারা দেশে সিএএ প্রয়োগ করব।’ অমিতের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এক রাজনৈতিক বিশ্লেষক জানান, এটা পরিষ্কার যে অমিত সিএএ, রামমন্দির এবং কাশ্মীর প্রসঙ্গ উত্থাপন করে ধর্মীয় মেরুকরণের ক্ষেত্র প্রস্তুত করছেন।

তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৩০ শতাংশ ভোটার মুসলমান, যারা সিএএবিরোধী। এ কারণে বিজেপি ধর্মীয় মেরুকরণের চেষ্টা করছে, যাতে অধিকাংশ হিন্দু ভোট তাদের ঝুলিতে আসে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here