এক মাস পর মসজিদে নামাজে মুসল্লিরা

0
11

করোনাভাইরাসের ভয়কে দূরে ঠেলে মসজিদে নামাজ আদায় শুরু করেছেন মুসল্লিরা। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে প্রায় এক মাস পর শারীরিক দূরত্ব রক্ষার শর্তসাপেক্ষে গতকাল জোহর থেকে রাজধানীসহ সারা দেশে মসজিদগুলোয় শুরু হয় জামাতে নামাজ আদায়। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদে মুসল্লিদের প্রবেশ ও অজু করার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশনা মেনে সংক্রমণ প্রতিরোধে সাবান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে দেখা গেছে। বায়তুল মোকাররমসহ রাজধানীর প্রায় প্রতিটি মসজিদে নিয়ম মেনে নামাজ আদায় করতে দেখা গেছে। সারা দেশের চিত্র ছিল প্রায় অভিন্ন। মুসল্লিরা জানান, সংক্রমণ প্রতিরোধে কেবল ফরজ নামাজ মসজিদে আদায় করবেন তারা।

অন্যদিকে মসজিদ কমিটির সদস্যদের দাবি, করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী জীবাণুনাশক স্প্রে করার পাশাপাশি সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছেন। সরেজমিনে দেখা যায় নির্দেশনা মেনে সকাল থেকেই বায়তুল মোকাররম মসজিদ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুনাশক সামগ্রী দিয়ে ধোয়ামোছা করা হয়। মসজিদে প্রবেশপথেই জীবাণুনাশক, স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করে তবে প্রবেশ করানো হচ্ছে। সরকারের সব নিময় মেনে জোহর থেকে নামাজ আদায় করতে দেখা যায়। বায়তুল মোকাররমে জোহরের নামাজ পড়ে মাহবুব নামে একজন মুসল্লি বলেন, মসজিদ আল্লাহর ঘর। মসজিদে নামাজ পড়ে যে শান্তি পাওয়া যায়, ঘরে নামাজ পড়ে সে শান্তি পাওয়া যায় না। করোনা নিয়ে ভয় থাকলেও মসজিদে নামাজ পড়তে এসেছি। সরকারের নির্দেশনা মেনেই মসজিদে নামাজ আদায় করা হয়েছে। লালবাগের ঐতিহ্যবাহী শাহী মসজিদে জোহরের ১০ মিনিট আগেই ভিতরে তিন প্রবেশপথে জীবাণুনাশক স্প্রে হাতে দাঁড়িয়ে তিনজন দায়িত্ব পালন করেন।

ভিতরে দেখা যায় শতাধিক মুসল্লি। কেউ নামাজ পড়ছেন কেউ বা কোরআন তিলাওয়াত করছেন। তবে যারাই ভিতরে প্রবেশ করছেন হাতে জীবাণুনাশক স্প্রে করেই তাদের ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। মোহাম্মদ হানিফ জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন এরশাদুল হক বলেন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনেই তারা জোহরের ওয়াক্ত থেকে মুসল্লির জন্য মসজিদের প্রবেশপথ খুলে দেন। বনশ্রী, রামপুরা, বাসাবো, পল্টনসহ রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদেও মুসল্লিদের জামাতে নামাজ আদায় করতে দেখা গেছে। সালামবাগ জামে মসজিদে নামাজ আদায় করে মহিউদ্দিন নামে এক ব্যক্তি বলেন, সরকারের থেকে নিষেধাজ্ঞা থাকায় অনেকদিন মসজিদে নামাজ আদায় করা হয়নি। এখন সরকার মসজিদে নামাজ আদায় করার অনুমতি দিয়েছে। মসজিদে জোহরের নামাজ আদায় করলাম। অনেক ভালো লাগছে।

এর আগে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে সারা দেশে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করলে ধর্ম মন্ত্রণালয় গত ৪ ও ২৩ এপ্রিল বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুমা এবং রমজানের তারাবি জামাত সীমিত আকারে আদায়ের জন্য নির্দেশনা দেয়। এরপর দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামারা রমজানুল মুবারকের গুরুত্ব বিবেচনা করে মসজিদে নামাজ আদায়ের শর্ত শিথিল করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানান। তারই পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল জোহরের ওয়াক্ত থেকে মসজিদে জামাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার অনুমতি দেয় সরকার।

মসজিদে নামাজ পড়তে মানতে হবে যেসব শর্ত : মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। মুসল্লিরা প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন। মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা সাবান-পানিসহ হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং আগত মুসল্লিদের অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে। প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসা থেকে অজু করে সুন্নত নামাজ আদায় করে মসজিদে আসতে হবে। অজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।

কাতারে নামাজে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব অর্থাৎ তিন ফুট পরপর দাঁড়াতে হবে। এক কাতার অন্তর অন্তর কাতার করতে হবে। শিশু, বয়োবৃদ্ধ, যে কোনো অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি জামাতে অংশ নিতে পারবেন না। সংক্রমণ রোধ নিশ্চিতকল্পে মসজিদের অজুখানায় সাবান বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না। সর্বসাধারণের সুরক্ষা নিশ্চিতকল্পে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে। মসজিদে ইফতার ও সাহরির আয়োজন করা যাবে না।

উল্লিখিত শর্ত পালনসাপেক্ষে প্রত্যেক মসজিদে সর্বোচ্চ পাঁচজন নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ইতিকাফের জন্য অবস্থান করতে পারবেন। খতিব, ইমাম এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটি বিষয়গুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here