ঈদের আগে সীমিত আকারে শপিংমল খোলার ইঙ্গিত

0
11

পবিত্র রমজান ও করোনার প্রাদুর্ভাবে পণ্যমূল্য যেন অস্থিতিশীল না হয় সে জন্য টিসিবির কার্যক্রম সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া অসাধু ব্যবসায়ীরা যেন পণ্যমূল্য নিয়ে কারসাজি করতে না পারে সে জন্য মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং কার্যক্রম এবং ভোক্তা সংরক্ষণ অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান জোরদার করা হয়। ফলে রমজানে বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। আসন্ন ঈদ এবং কোরবানির ঈদে নিত্যপণ্যের বাজার অস্থিতিশীল না হয় এবং সারাবছর স্থিতিশীল থাকে এ জন্য টিসিবির কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে টিসিবির জনবল বাড়ানো এবং সরাসরি পণ্য আমদানি করতে পারে সে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এ জন্য আগামী সাত দিনের মধ্যে সরকার গঠিত দ্রব্যমূল্য পর্যালোচনা সেল এবং ট্যারিফ কমিশন মিলে মতামত দেবে। সেই মতামতের আলোকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। গতকাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গঠিত টাস্কফোর্স কমিটির পঞ্চম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। খবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রের।

জানা গেছে, দেশের ক্ষুদ্র, খুচরা এবং পাইকারি দোকানদারদের আয়ের বড় উৎস রমজান ও ঈদ। এই ঈদকে কেন্দ্র করে চলে বছরব্যাপী প্রস্তুতি। কিন্তু মহামারী করোনায় সারাদেশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। কীভাবে এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করা যায় সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। তবে পর্যায়ক্রমে বিপণিবিতান খোলা হবে। মহল্লার দোকান খোলার সময় বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া বর্তমানে ছোট পরিসরে রেস্টুরেন্ট চালু করা হয়েছে।

এ ছাড়া কাপড়ের মার্কেট খোলার চিন্তা চলছে। বিশেষ করে ঈদের সময় মানুষ পরিজনকে নতুন পোশাক উপহার দেয়। সেখান থেকে যাতে তারা বঞ্চিত না হয় সে জন্য অনলাইনে পোশাক ডেলিভারি চালু করা হতে পারে। বাণিজ্য সচিব টাস্কফোর্স কমিটির বৈঠকের পাশাপাশি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন গতকাল আমাদের সময়কে বলেন, মার্কেট খোলার বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। শুধু মার্কেটই খোলা নয় দেশের অর্থনৈতিক কর্মকা- নিয়ে শিগগিরই একটি সিদ্ধান্ত আসবে। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অভাব নেই। তবে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে টাস্কফোর্স। আদা ও রসুন ছাড়া অন্য পণ্যের দাম স্বাভাবিক রয়েছে। আদা ও রসুনের হঠাৎ দাম বৃদ্ধির বিষয়টি উঠে আসে বৈঠকে। সেখানে পর্যালোচনা করে জানানো হয়, দেশে শবেবরাতের সময় আদা আসার কথা। কিন্তু লকডাউনে আটকে যায় আদার চালান। ফলে অস্বাভাবিক দাম বাড়ে। পরবর্তী সময়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে আদার দাম নিয়ন্ত্রণে আসে।

বৈঠক সূত্র আরও জানিয়েছে, শুধু রমজান ও ঈদকেন্দ্রিক নয়, সারাবছর পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে উদ্যোগ নিচ্ছে টাস্কফোর্স। বর্তমানে টিসিবি পণ্য আমদানি করে না। দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে পণ্য কিনে তা বাজারজাত করে। কিন্তু আগামীতে টিসিবি সরাসরি বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি করবে। দ্রব্যমূল্য পর্যালোচনা সেল এবং ট্যারিফ কমিশন এ বিষয়ে মতামত দেবে। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে আমদানিকারকদের নিয়ে বৈঠক করা হবে। আগাম আমদানির চিন্তাও করছে টাস্কফোর্স। এ ছাড়া টিসিবির জনবল বাড়ানোর বিষয়ে প্রস্তাবনা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি টিসিবির গুদাম সুবিধা বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, রমজানে পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে প্রতিদিন ৫০০ ট্রাকে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিদিন এসব ট্রাকে মাল লোড করা হয়। ডিলাররা বিপাকে পড়ে। অবিক্রীত পণ্য সংরক্ষণ নিয়ে ডিলার কোথায় রাখবে তাদের পণ্য। কারণ এসব পণ্য রাখলে মনিটরিং সেল মনে করে কালোবাজারি করার। আবার মিডিয়াও সক্রিয়। এ জন্য গুদাম সুবিধা কীভাবে বাড়ানো যায় সে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here