ইতিহাসের যত ভয়ংকর ভাইরাস

0
86

পৃথিবীর ইতিহাসে অনেক কঠিন ও জটিল রোগে ভরপুর, অনেক যন্ত্রণাদায়ক মহামারী রোগের ইতিহাস রয়েছে এখানে।
ইতিহাসে এর আগে যেসব রোগ মহামারী রূপ নিয়েছিল সেগুলো নিয়ে তুলে ধরা হলো-

১। প্লেগ রোগঃ উৎপত্তি ১৩৪৬ (মৃত ৭৫-২০০ মিলিয়ন মানুষ)

মহামারী প্লেগ ইরসিনিয়া পেস্টিস নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংগঠিত হয়েছিলো। এটা এতোই ভয়ংকর ছিলো যে এটাকে কালো মৃত্যু বলা হয়েছিলো। ইঁদুর ছিল এই রোগের প্রধান জীবাণুবাহক। এই ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করার ৩-৫ দিনের মধ্যে বগলে বা দেহে কোন স্থানে ফোঁড়া হতো, ৭-১০ দিনের মধ্যেও ফোঁড়া থেকে রক্ত-পুজ বের হয়ে মানুষ মারা যেত। দেশ থেকে মানুষ পালানো শুরু করেছিলো। ইউরোপের ৩০-৬০% মানুষ মারা গিয়েছিলো প্লেগ রোগে।

চিত্রঃ সময়ের সাথে যেভাবে বেড়েছিলো কালো মৃত্যুর হার

২। ভ্যারিওলা ভাইরাসঃ উৎপত্তি যীশু খ্রিস্ট জন্মপূর্ব (মৃত আনুমানিক ৫০০ মিলিয়ন মানুষ)

ভ্যারিওলা ভাইরাসের কারণে গুটিবসন্ত বা স্মল পক্স রোগ হয়ে থাকে। এটি অত্যন্ত মারাত্মক এক ব্যাধি ছিল। পূর্ব যুগে এই মহামারীতে লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা যেত। মানবদেহে প্রথমে এক ধরনের গুটি বের হয় যা পরবর্তী সময়ে তিল বা দাগ, কুড়ি, ফোস্কা, পুঁজবটিকা এবং খোসা বা আবরণ ইত্যাদি পর্যায়ের মাধ্যমে দেহে লক্ষণ প্রকাশ করে।
গুটিবসন্তের টিকা আবিষ্কৃত হয়েছিল ১৭৯৬ সালে। অথচ টিকা আবিষ্কারের প্রায় ২০০ বছর পরও এই রোগে আক্রান্ত হয়ে হাজার হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করে ভারত উপমহাদেশে। ১৯৭০ সালে লক্ষাধিক মানুষ রাতারাতি এ রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে।

পরবর্তী কয়েক বছরে ভারত সরকার এবং জাতিসংঘের সহায়তায় গঠিত একটি স্বাস্থ্য বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠনের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ১৯৭৫ সালেই বাংলাদেশ, ভারত গুটিবসন্ত মুক্ত ঘোষণা করা সম্ভব হয়।

চিত্রঃ ১৯৭৩ সালে গুটি বসন্তে আক্রান্ত একটি শিশু।

৩। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসঃ উৎপত্তি খ্রিস্ট জন্মপূর্ব, (মৃত ৫০ মিলিয়ন মানুষ)

ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস অর্থোমিক্সোভিরিডি ফ্যামিলির একটি ভাইরাস, যা ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগের জন্য দায়ী। বিভিন্ন সময়ে এটা লাখ লাখ মানুষের মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে এসেছে। ১৯১৮ থেকে ১৯১৯ সাল সময়ে ইনফ্লুয়েঞ্জাতে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৫ কোটি মানুষ মারা যায়। ভয়াবহ এই মহামারীকে তখন নাম দেওয়া হয় ‘‘স্প্যানিশ ফ্লু’’।

এটি ‘দ্য ইনফ্লুয়েঞ্জা প্যানডেমিক’ নামেও পরিচিত। গ্রিক বিজ্ঞানী হিপোক্রেটিস প্রথম ২৪,০০ বছর আগে ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগের লক্ষণ লিপিবদ্ধ করেন। এরপর বিশ্বব্যাপী ইনফ্লুয়েঞ্জা ঘটিত নানা মহামারী ঘটার প্রমাণ রয়েছে। মাত্র এক বছরেই ইনফ্লুয়েঞ্জা প্যানডেমিক কেড়ে নেয় কোটির বেশি মানুষের প্রাণ! সে সময় দেশে দেশে সরকার সাধারণ মানুষকে মাস্ক পরিধানের জন্য আইন পাস করে, দীর্ঘদিনের জন্য বড় জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়।

৪। পোলিও ভাইরাসঃ উৎপত্তি ১৯০৯ (মৃত ২৭০০০ যুক্তরাষ্ট্রে)

পোলিওমাইলিটিজ এক ধরনের ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ। সচরাচর এটি পোলিও নামেই সর্বাধিক পরিচিত। এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তি এ ধরনের ভাইরাসের মাধ্যমে আক্রান্ত হন। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি সাময়িক কিংবা স্থায়ীভাবে শারীরিক ক্ষতির সম্মুখীন হন ও তার অঙ্গ অবশ বা পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। ১৯১৬ সালে পোলিও রোগ প্রথম মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ে। সে বছর নিউইয়র্কে ৯ হাজার মানুষ পোলিওতে আক্রান্ত হয় যার মধ্যে ৬ হাজার মানুষই মৃত্যুবরণ করে! নিউইয়র্ক শহর থেকে ক্রমে পোলিওর প্রাদুর্ভাব বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। প্রতি বছর বিশ্বে কত শত মানুষ পোলিওতে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় তার কোনো সঠিক তথ্যও পাওয়া যায় না। অবশেষে ১৯৫০ সালে জোনাস সাল্ক পোলিও টিকা আবিষ্কার করেন।

চিত্রঃ বাংলাদেশে পোলিও টিকা খাওয়াচ্ছে একজন সমাজকর্মী

৫। আরভিএফ ভাইরাসঃ উৎপত্তি ১৯৩১ (মৃত ২০০০ প্রায়, এবং শত শত পশু মারা গিয়েছে)

RVF বা রিফট ভ্যালি ফিভার মশা বা রক্ত খেয়ে থাকে এমন পতঙ্গ থেকে এই ভাইরাসের সূচনা হয় যা গরু বা ভেড়াকে আক্রান্ত করে থাকে। কিন্তু এটিও পরে মানবশরীরে সংক্রমিত হতে পারে। বেশী আক্রান্ত হলে মানুষের নানা অঙ্গ প্রত্যঙ্গ অকার্যকর হয়ে যেতে পারে। মূলত আক্রান্ত পশু থেকে এটি মানুষের শরীরে আসে। এমনকি আক্রান্ত গরু বা ভেড়ার দুধ থেকেও এটি সংক্রমিত হতে পারে। ১৯৩১ সালে কেনিয়ার রিফট ভ্যালিতে প্রথম এ ভাইরাসটি চিহ্নিত হয়।

৬। ডেঙ্গু ভাইরাসঃ উৎপত্তি ১৯৪৩, মৃত( ৪০৩২ জন), আক্রান্ত রয়েছে ৩০০ মিলিয়ন মানুষ

গত বছরে এশিয়ার কয়েকটি দেশে এডিস মশা বাহিত রোগ ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ে। ফিলিপাইনে প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ মানুষ মারা গেছে। বাংলাদেশের মতো থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়াতেও ছড়িয়ে পড়ে ডেঙ্গু। বাংলাদেশে ১১৯ জন মারা গিয়েছে। এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ভাইরাস সংক্রমণের ৩-১৫ দিনের মধ্যে সচরাচর ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গগুলো দেখা দেয়। উপসর্গগুলোর মাঝে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা, বমি, পেশিতে ও গাঁটে ব্যথা এবং গাত্রচর্মে ফুসকুড়ি।

৭। সিসিএইচএফ ভাইরাসঃ উৎপত্তি ১৯৪৪ (মৃত ৪৫০ জন)

CCHF বা ক্রাইমিয়ান কঙ্গো হেমোরেজিক ফিভার এক ধরনের এঁটেল পোকা (টিকস পতঙ্গ) থেকে ছড়ায়, যা মানুষের মধ্যে বড় প্রাদুর্ভাবের কারণ হতে পারে। এতে মৃত্যু হার ৪০ শতাংশ। ক্রাইমিয়াতে ১৯৪৪ সালে প্রথম ও পরে কঙ্গোতে এটি চিহ্নিত হয়। ভাইরাসটি পুরো আফ্রিকা, বলকান অঞ্চল ও মধ্যপ্রাচ্য এবং এশিয়ার কিছু এলাকায় পাওয়া গিয়েছিলো। এই রোগে হঠাৎ করেই কেউ আক্রান্ত হতে পারে যার লক্ষ্মণ মাথাব্যথা,বেশি জ্বর, মেরুদণ্ড ব্যথা, পাকস্থলীতে ব্যথা ও বমি।

৮। জিকা ভাইরাসঃ উৎপত্তি ১৯৪৭ (আক্রান্ত হয়েছে অনেকে, কেও মারা যায়নি)

মশার মাধ্যমে দ্রুত এ ভাইরাসটি ছড়ায়। মশা এক ব্যক্তিকে কামড় দিয়ে অন্য ব্যক্তিদের মাধ্যমেই ভাইরাসটির বিস্তার ঘটতে থাকে। তবে যৌন সংসর্গের মাধ্যমেও রোগটি ছড়াতে পারে। উগান্ডার জিকা ফরেস্ট এলাকায় বানরের মধ্যে ১৯৪৭ সালে এটি আবিষ্কৃত হয়। তবে আফ্রিকা ও এশিয়ায় এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এ পর্যন্ত এর টীকা আবিষ্কার করা যায়নি।

৯। মারবুর্গ ভাইরাসঃ উৎপত্তি ১৯৬৭ (মৃত ৪০০ জন)

মারবুর্গ ভাইরাস এটি প্রায় ইবোলার কাছাকাছি একটি ভাইরাস। আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে অন্য কেউ এতে সংক্রমিত হতে পারে। ইবোলার মতোই এর উৎস হিসেবে বাদুড়কেই ভাবা হয়। এতে আক্রান্ত হলে আট থেকে নয় দিনের মধ্যেই কারও মৃত্যু হতে পারে। জার্মান শহর মারবুর্গের নামে এর নামকরণের কারণ হলো ১৯৬৭ সালে এখানে প্রথম ভাইরাসটি শনাক্ত হয়। পরে তা ফ্রাঙ্কফুর্ট ও সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডেও ছড়িয়ে পড়ে।

১০। ইবোলা ভাইরাসঃ উৎপত্তি ১৯৭৬ (মৃত ১০০০ জন)

ইবোলা ১৯৭৬ সালে এ ভাইরাসের অস্তিত্ব আবিষ্কৃত হয়। মার্বুগ ভাইরাসের সাথে এ ভাইরাসের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ভয়ংকর এই ইবোলাভারাসে মৃত্যু হার ৫০-৯০% শতাংশের মতো। ২০১৪ ও ২০১৬ সালের মধ্য আফ্রিকায় বড় প্রাদুর্ভাবে অন্তত ১১ হাজার মানুষ মারা গেছে। ইবোলা ভাইরাসে সংক্রমিত হলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মৃত্যুই অবধারিত। তবে এটি সংক্রামক নয়। সাধারণত এর পর গা গোলানো, বমি, এবং ডাইরিয়া হয়,সাথে লিভার ও কিডনীর কর্মক্ষমতা হ্রাস পেতে থাকে। এই জায়গাতে এসে কিছু মানুষের রক্তপাতজনিত সমস্যা শুরু হয়।

চিত্রঃ ইবোলা ভাইরাস

১১। এইচআইভি ভাইরাসঃ উৎপত্তি ১৯৮১ (মৃত ২ কোটি ৫০ লাখ) ২০০৬ সাল পর্যন্ত

HIV- এইচআইভি ভাইরাসে সংক্রমণে মানবদেহে এইডস রোগের সৃষ্টি হয়। মূলত এইডস একটি রোগ নয় এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার অভাব জনিত নানা রোগের সমাহার। এইচআইভি ভাইরাস মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়, ফলে নানা সংক্রামক রোগ ও কয়েক রকম ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে রোগী মৃত্যু মুখে ঢলে পড়ে। বাংলাদেশে বর্তমানে ৩৬৪৭ জন ব্যক্তি এই ভাইরাসে আক্রান্ত রয়েছে।

এইচআইভি ভাইরাস শরীরে ঢোকার পর তা সম্পূর্ণ একটিভ হতে কিছু বছর সময় লাগে। তবে বর্তমানে এইডস হলে মৃত আল্লাহ্‌ না চাইলে মৃত অবধারিত কেননা এর প্রতিষেধক এখনো আবিষ্কৃত হয়নি।

১২। হেনিপা ভাইরাসঃ উৎপত্তি ১৯৯৪ (মৃত ৭০ টি ঘোড়া, ৪ জন মানুষ)

হেনড্রা ভাইরাস প্রথম চিহ্নিত হয় অস্ট্রেলিয়ায়। এটাও বাদুড় থেকেই থেকেই হয় এবং ঘোড়া ও মানুষ ভয়াবহ আক্রান্ত হতে পারে। ১৯৯৪ সালে ব্রিসবেনের একটি শহরতলীতে এটির প্রথম প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। এর পর থেকে অন্তত ৭০টি ঘোড়া এতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আর আক্রান্ত সাত জনের মধ্যে চার জন মারা গেছে।

১৩। নিপাহ ভাইরাসঃ উৎপত্তি ১৯৯৮ (মৃত ১০০ জন)

নিপাহ ভাইরাস বাদুড় থেকে পশুপাখি ও মানুষের মধ্যেও সংক্রমিত হতে পারে। জ্বর, বমি কিংবা মাথা ব্যথা এ রোগের লক্ষ্মণ। মানুষ কিংবা পশুপাখি কারও জন্যই কোন প্রতিষেধক এখনো বের হয়নি। এ রোগে মৃত্যুর হার ৭০ শতাংশ। ১৯৯৮ সালে মালয়েশিয়ায় শূকরের মধ্যে প্রথম এ রোগ চিহ্নিত হওয়ার পর সেখানকার কৃষি শহর নিপাহ’র নামে ভাইরাসটির নামকরণ হয়েছে। পশুপাখি থেকে প্রায় তিনশ মানুষের এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে যার মধ্যে অন্তত ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২০১১ সালে বাংলাদেশের লালমনিরহাটেও ১৭ জন মারা গিয়েছে।

১৪। সার্স ভাইরাসঃ উৎপত্তি ২০০২ সাল, (মৃত ৭৭৪ জন)

SARS বা সিভিয়ার একিউট রেসপিরেটরি ভাইরাসের উৎপত্তি চীনে। বিজ্ঞানীরা বলছেন খাটাশ জাতীয় বিড়াল থেকে ভাইরাসটি এসেছে। তবে এটিও বাদুরের সঙ্গে সম্পর্কিত। ২০০২ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে দু’বার এর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। আট হাজারের বেশি আক্রান্তের মধ্যে ৭৭৪ জনের মৃত্যু হয়। ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হলে ভয়াবহ শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। তবে ২০০৪ সালের পর থেকে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

১৫। সোয়াইন ইনফ্লুয়েঞ্জাঃ

সোয়াইন ইনফ্লুয়েঞ্জা বা সোয়াইন ফ্লু নামে পরিচিত, যেটা শুকরের দেহ থেকে পাওয়া গেছে। ২০০৯ সালের এপ্রিল মাসে পৃথিবীর কয়েকটি দেশে মানব মৃত্যুর কারণ বলে চিহ্নিত হয়েছে। ইউরোপ ও আমেরিকা সহ পৃথিবীর ৭৪ টি রাষ্ট্রে এই রোগ ছড়িয়ে পরেছিলো। মারা গিয়েছিলো ২৩২১ জন মানুষ। ভারতে ৬০ জন মৃত বরণ করেছিলো ও বাংলাদেশে অনেকে আক্রান্ত হয়েছিলো।

১৬। মার্স ভাইরাসঃ উৎপত্তি ২০১২ সাল, (মৃত ৬০০ জন)

এটি সার্স (Severe Acute Respiratory Syndrome বা শ্বাসযন্ত্রের তীব্র কিছু লক্ষণ) গোত্রীয় একটি ভাইরাস। ২০১২ সালে প্রথম সৌদি আরবে এই ভাইরাসের অস্তিত্ব আবিষ্কৃত হয় এবং সেখানে আক্রান্তদের ৩৫শতাংশ মারা গেছেন।

এই রোগের নাম দেয়া হয় মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সিনড্রোম বা সংক্ষেপে মার্স। সৌদি আরব ছাড়াও এর উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে ওমান, আরব আমিরাত, মিসর ইত্যাদি মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কটি দেশে। ধারণা করা হচ্ছে,উট থেকে মানবদেহে এই ভাইরাস এসেছে এবং বাদুরের রক্তেও এই ভাইরাস পাওয়া গিয়েছিলো। মানুষ থেকে মানুষে ভাইরাস ছড়িয়েছে হাঁচি, কাশি, নিকট অবস্থান ইত্যাদি থেকে।


১৭। করোনা ভাইরাসঃ উৎপত্তি ২০১৯ (মৃত ৬০৬৯ জন, ১৫ মার্চ-২০২০ পর্যন্ত)

১৯৬০ আবিষ্কৃত করোনা ভাইরাস প্রথমদিকে মুরগির মধ্যে সংক্রামক ব্রঙ্কাইটিস ভাইরাস হিসেবে এটি প্রথম দেখা যায়। এর আসল নাম COVID-19 বা করোনা ভাইরাস ডিজেস ২০১৯। এই ধরনের ভাইরাস চীন থেকে চারিদিকে ছড়িয়ে পরছে। করোনাভাইরাসের থাবায় লাফিয়ে লাফিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে চীনে। ইতিমধ্যেই এই ভাইরাস ১৩১ টি দেশে পৌঁছে গেছে বলে ধারণা গবেষকরা।

চিত্রঃ করোনা ভাইরাসের চিত্র

ভাইরাসটিকে পরীক্ষা করে মনে করা হচ্ছে, করোনাভাইরাসের উৎস হতে পারে বাদুড় ও সাপ। বেইজিংয়ের ‘চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্স’ এমনই মনে করছে। আক্রান্তদের জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট, গলা ফুলে যাওয়া কিংবা সর্দির মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে সার্স ভাইরাস আক্রান্তদের মতোই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here