আমরা কেন একটি নতুন রঙ কল্পনা করতে পারি না?

0
31

নিজের চোখ বন্ধ করুন। বড় করে একটা নিশ্বাস নিন, এবং মনে স্বস্তি আনুন।

এবার, চিন্তা করুন একটি খুবি নতুন রঙ এর, যা কিনা এর আগে আপনি কখনই দেখেননি।


কিন্তু নাহ! আপনি কতটাই বা সফল হয়েছেন? আপনি যাই চিন্তা করেছেন না কেন, ঘুরেফিরে সেই সবকিছুই লাল, নীল, এবং হলুদের মাধেই সীমাবদ্ধ আছে।

কিন্তু এমনটা কেনই বা হয়? কেন আমরা একটি সম্পূর্ণ নতুন রঙ কল্পনা করতে পারি না?

সহজ কথায় বললে, এর পেছনে মানুষের চোখ কিভাবে আলো ও রঙ দেখতে পায়, সেটির উপর নির্ভর করে।

চোখের বাহিরের বা প্রথম দিকের অংশ হচ্ছে “কর্ণিয়া”, যেটি কিনা আমাদের চোখের জন্য একপ্রকার গ্লাসের মত আচরণ করে। এর পেছনেই আছে আইরিশ, যা আমাদের রঙ দেখাতে সাহায্য করে এবং এর মাঝখানেই পিউপিল-এর অবস্থান।

পিউপিলের নিচে থাকা লেন্স, শেষ হয় রেটিনার সাথে। এই রেটিনার ভেতরেই দুই ধরণের কোষ বা সেল আছে। একটি হচ্ছে “রড (Rod) সেল“, অপরটি “কোন (Cone) সেল“। “রড সেল”-এর ক্ষেত্রে এটি রঙ গ্রহণ করতে পারলেও, আলোর ক্ষেত্রে এটি বেশ সেনসিটিভ হয়। যার কারণে রাতে বেশকিছুক্ষণ অন্ধকারে থাকলে আমরা অনেক কম আলোতেও দেখতে পারি।

অন্যদিকে “কোন সেল” দিনের বেলায় আলো এবং রঙ ভালভাবে গ্রহণ করতে পারে। “কোন সেল” তিন ধরণের হয়, এবং তিনটিই নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্য-এর (লাল, নীল ও সবুজ) মাধ্যমে রঙ গ্রহণ করে থাকে।

তাই যখন আমরা এই তিনটি রঙ পেয়ে যাই, তখন আমাদের মস্তিষ্ককে নতুন রঙ চিন্তা করতে বললে সে ঐ তিনটি রঙ দিয়েই নতুন রঙ তৈরী করার চেষ্টা করবে।


কিছুদিন আগে রান্নাঘরে যাওয়ার সময় হাত থেকে পিরিচ’টা পড়ে গিয়ে বেশ কয়েকটা টুকরোতে (৫-৭) পরিণত হল। এখন আপনি কি বলবেন যে কেন পিরিচটা ৫-৭ টি টুকরোই হলো? অথবা এর বেশি কেন হলোনা?

mantis shrimp has 13–16 photoreceptors in their eyes.

এমন আরো অনেক রঙ আছে, যা হয়তবা মানুষ হিসেবে আমরা কখনই দেখতে পাব না, কিন্তু এমন অনেক প্রাণী রয়েছে, যাদের কিনা ১৩-১৬টি রঙের “কোন সেল” রয়েছে।

কিন্তু কি হবে যদি আমি একটি নতুন রঙ চিন্তা করে ফেলি?

কখনই না! আর যদি কোনমতে করেই ফেলেন, তাহলে আপনি সরাসরি পদার্থবিজ্ঞানের নিয়মকে ভেঙে ফেলেছেন!

গটফ্রায়েড লেইবনিজ বলেন – “কোনকিছুই কোনকিছুকে ছাড়া তৈরী করা যেতে পারে না” (nothing can be created out of nothing)

~

ছবি – ইন্টারনেট

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here