আপনি কি জানেন বিভিন্ন ধরণের পোকা বাল্বের কাছ দিয়ে ঘোরাঘুরি করে এটা কেন হয়?

0
10

বিজ্ঞানীরা এর কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চত নন।বিভিন্ন রকমের থিওরি রয়েছে। কীটপতঙ্গের আলোর দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার ধর্মকে বলা হয় phototaxis। যদি কোন পতঙ্গ আলোর দিকে ধাবিত হয় তাহলে সেটা positively phototactic (এদের মধ্যে বেশির ভাগই নক্টটারনাল এবং মাইগ্রেটরি) আর যদি আলোর বিপরীতে যায় তাহলে সেটা negatively phototactic. আলোর দিকে কেন আর্কিষত হয় তা নিয়ে বিভিন্ন থিওরির মধ্যে একটা হলো কীটপতঙ্গ চাঁদের সাথে কোণের একটি নিদিষ্ট পরিবর্তন বজায় রেখে চলে ফলে চিত্রের মতো

লগারিদমিক স্পাইরাল সৃষ্টি করে সামনের দিকে অগ্রসর হয়।একে বলা হয় transverse orientation.চাঁদ দূরে অবস্থান করার কারণে কীটপতঙ্গ কখনোই তার কাছে পৌঁছাতে পারে না কিন্তু পথ ঠিকই পার হয়ে যায়।তবে সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় বর্তমানে কৃত্রিম লাইটের উদ্ভবের কারণে।আলোর রিফ্লেশন এরা কনফিউজ হয়ে যায় ফলে দেখা যায় বাল্বের আশপাশ দিয়ে ঘোরাঘুরি করে।কীটপতঙ্গ চাঁদের দিকে ডিরেক্ট যায় না কিন্ত লাইটের উপর সরাসরি ঝাঁপিয়ে পড়ে কেন এই থিওরি তার ব্যাখা দিতে পারে না। অন্য একটি থিওরি বলে কীটপতঙ্গ short term protection than long term distance navigation এই মতবাদে বিশ্বাসী। আপনি মনে করুন রাতের বেলা বাস বা সিএনজির অপেক্ষা করছেন।অন্ধকার ঘুটঘুটে রাত। আপনি কি করবেন তখন? স্ট্রীট লাইটের আলো কিংবা অন্য কোনো আলোর কাছাকাছি দাঁড়িনোর ট্রাই করবেন।চোর, ছিনতাইকারী সম্মুখীন আপনি আলোতেও হতে পারেন অন্ধকারেও হতে পারেন কিন্তু আলোতে আপনি নিজেকে বেশি সেইফ মনে করছেন। তেমনি কীটপ্রতঙ্গ মনে করে আলো হলো বাধাহীন পথের সাইন। তাই তারা ডিরেক্ট সেখানে যেতে চাই কিন্তু দুঃখের বিষয় সেখানে তারা অন্য কারো শিকারে পরিণত হয়।এখন আপনার চোখে হঠাৎ যদি কোনো উজ্জ্বল কোনো উজ্জ্বল আলো এসে পড়ে তাহলে কিছুক্ষণের জন্য ব্লাইন্ড হয়ে যান কিছুই দেখতে পান না। তেমনি কীটপতঙ্গ উজ্জ্বল আলোর সামনে এলে হঠাৎ কিছুই দেখতে পায় না তখন চারপাশে শুধু ঘোরে কিন্তু সময় আলোর সাথে মানিয়ে নেয় এবং সেখান থেকে বের হয়ে আসে। ১৯৭০ সালে পুরোপুরি ভিন্ন একটি থিওরি প্রস্তাব করা হয়। বলা হয় মোমবাতি থেকে নির্গত ইনফ্রারেড স্প্রেকটামে স্ত্রীলিঙ্গের ফেরোমনের সেইম ফ্রিকোয়েন্সি থাকে তাই পুরুষ প্রতঙ্গ মনে করে স্ত্রীলিঙ্গের প্রতঙ্গ মেটিং এর জন্য তাদের সিগমান দিচ্ছে যেটা তাদের ভুল ধারণা। এই থিওরিতেও ফাঁক রয়েছে কারণ আলট্রাভালোয়েট লাইটের প্রতিই বেশি আর্কষিত হয় কিন্তু সেটা তো ফেরোমন বা সেক্স হরমোনের সেইম ফ্রিকোয়েন্সি বহন করে না।

একদল এন্টোমলজিস্ট দাবি করেন, পূর্নিমার সপ্তাহে কীটপতঙ্গ কৃত্রিম আলোর দিকে কম আকর্ষত হয়। কিন্তু এর পক্ষে কোনো জোরালো প্রমাণ নেই। এটাকে অনেকে হাস্যকর বলেছেন।এর পরবর্তী সময় আপনি যখন লাইটের সামনে কীটপতঙ্গ দেখবেন তখন এটাকে হালকাভাবে নিবেন না করাণ এই রহস্যময়তার ব্যাখা বিজ্ঞানীরা উন্মোচন করতে পারেননি রয়ে গেছে পর্দার আড়ালো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here