অবৈধ লাইনের ছড়াছড়ি

0
49

রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশ জেলাগুলোতে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাসলাইনের ছড়াছড়ি। গ্যাস নেটওয়ার্কভুক্ত অন্য জেলাগুলোতেও অবৈধ সংযোগ কম নয়। কিন্তু অজানা কারণে গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলো এই অবৈধ লাইন স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ করতে পারে না। বছরের পর বছর অভিযান চলে। সাময়িকভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্নও হয়। আবার সে সংযোগ পুনঃস্থাপিত হয়। এ কারণে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ লাইন বেড়েই চলেছে।
নারায়ণগঞ্জের মসজিদে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ম্ফোরণে বহু হতাহতের পর সরব হয়েছিল গ্যাস বিতরণের দায়িত্বে নিয়োজিত রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি তিতাস। জ্বালানি বিভাগও বিতরণ কোম্পানিগুলোকে কড়া নির্দেশ দিয়েছিল অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের।

    
মঙ্গলবার থেকে সারাদেশে জোরালো অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছিল তিতাসসহ অন্যান্য কোম্পানি। অথচ এখনও নির্বিকার বিতরণ কোম্পানিগুলো। গতকাল সারাদিন দেশে কয়েকটি জায়গায় উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এছাড়া আর কোথাও অবৈধ লাইন উচ্ছেদে জোরালো অভিযান হয়নি। এসব অবৈধ লাইন থেকে যে কোনো সময় আবারও ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশজুড়ে অবৈধ সংযোগ ও পাইপলাইন :তথ্যমতে দেশে সাতটি গ্যাস বিতরণ কোম্পানি রয়েছে। ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে পাইপলাইনের সাহায্যে গ্যাস সরবরাহের মাধ্যমে ১৯৬০ সালে বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ শুরু হয়। বাসাবাড়িতে গ্যাস সরবরাহ শুরু ১৯৬৭ সালের দিকে। প্রথমে দেওয়া হয় ঢাকায়। এরপর দেশজুড়ে গ্যাসের নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি পেয়েছে। সারাদেশে গ্যাস নেটওয়ার্কের পরিমাণ ২৪ হাজার ২৮৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে বিতরণ ও সার্ভিস লাইন প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার। এই লাইনের ৭০ শতাংশই ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে ঢাকা, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের পাইপলাইনের অবস্থা বেশ খারাপ। ঢাকা বিভাগে গ্যাস সরবরাহের দায়িত্বে নিয়োজিত তিতাস গ্যাসের ১২ হাজার ২৫৩ কিলোমিটার পাইপলাইন রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় রয়েছে সাত হাজার কিলোমিটার, যার অধিকাংশই ঝুঁকিপূর্ণ। তিন-চার দশকের পুরোনো এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লাখ লাখ অবৈধ সংযোগ। একইসঙ্গে অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়িতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এই গ্যাস নেটওয়ার্ক। এভাবে জরাজীর্ণ গ্যাস পাইপলাইনগুলো দিন দিন হয়ে উঠছে প্রাণঘাতী। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা, যাচ্ছে প্রাণ। দগ্ধ অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
    
সূত্র জানিয়েছে, তিতাসের বিতরণ ব্যবস্থায় প্রায় ২৫০ কিলোমিটার অবৈধ লাইন রয়েছে। এরমধ্যে শুধু নারায়ণগঞ্জে রয়েছে ১৮০ কিলোমিটার অবৈধ পাইপলাইন। এরপর রয়েছে গাজীপুর, সাভার, নরসিংদী ও ঢাকায়। কুমিল্লা ও চট্টগ্রামেও অবৈধ সংযোগ ও পাইপলাইন রয়েছে বলে জানা গেছে। চট্টগ্রামে দেড় লাখ রাইজারের মধ্যে ১৫ হাজারই ঝুঁকিপূর্ণ।
    
পাইপলাইন যেন মৃত্যুফাঁদ :বিশেষজ্ঞদের দাবি কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবেই গ্যাস বিতরণ ব্যবস্থা মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, পাইপলাইন লিকেজ সম্পর্কে জানানো হলেও সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এসব অবহেলার ফলেই নারায়ণগঞ্জের মসজিদে ভয়াবহ বিস্ম্ফোরণ হলো। গ্যাসলাইনের লিকেজ থেকে শুক্রবার রাতে সংঘটিত এ দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন আরও অনেকে।
ফায়ার সার্ভিসের পরিসংখ্যানে বলা হচ্ছে, রাজধানীতে অগ্নিদুর্ঘটনার এক-তৃতীয়াংশ গ্যাসের পাইপলাইনের লিকেজ থেকে হয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, গত এক বছরে সংঘটিত এক হাজার অগ্নিকাণ্ডের জন্য দায়ী এই ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাস সংযোগ ও লাইন।
    
অভিযান ঢিলেঢালা :নারায়ণগঞ্জের ঘটনার পর সরব হয়ে ওঠে জ্বালানি বিভাগ। অবৈধ গ্যাস লাইন ও সংযোগের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। সোমবার অনুষ্ঠিত জ্বালানি বিভাগের এক ভার্চুয়াল সভায় মঙ্গলবার থেকেই উচ্ছেদ অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়ার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারী, ঠিকাদার ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে ফৌজদারি মামলা দায়ের করার কথা বলা হয় ওই বৈঠকে। বাস্তব চিত্র ভিন্ন। বিতরণ কোম্পানিগুলো এখনও সেভাবে অভিযান শুরু করেনি। সবচেয়ে বেশি অবৈধ লাইন রয়েছে তিতাসে। তিতাস গতকাল দুটি অভিযান পরিচালনা করেছে। তবে সেগুলো নিয়মিত অভিযানের অংশ। অন্য বিতরণ কোম্পানিগুলো থেকেও বিশেষ অভিযানের তেমন তথ্য মেলেনি। নিয়মিত অভিযান চলমান রয়েছে বলেই দায় সেরেছে এই বিতরণ সংস্থাগুলো। যদিও সোমবার সন্ধ্যায় জ্বালানি বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আনিছুর রহমান সমকালকে বলেছিলেন, মঙ্গলবার থেকে বিশেষ অভিযান শুরু হবে।
    
গাজীপুরে দিনে উচ্ছেদ, রাতেই ফের সংযোগ :গাজীপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, দিনের বেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। কিন্তু ওই রাতেই আবার সেসব এলাকায় দেওয়া হয় সংযোগ। এভাবেই এখানে লুকোচুরি খেলা হয়। গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিক এই অবৈধ গ্যাস সংযোগের সঙ্গে জড়িত। জড়িত রয়েছেন তিতাসের এক শ্রেণির অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারী। তিতাসের জয়দেবপুর জোনাল অফিস সূত্র জানায়, গত এক বছরে এ এলাকায় ৩০টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৯৫টি স্থানে প্রায় দেড়শ’ কিলোমিটার এলাকায় হাজার হাজার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। মামলা করা হয়েছে অন্তত ২২টি। এতে আসামি করা হয়েছে শতাধিক মানুষকে। কিন্তু গ্যাসচোররা থেমে থাকেনি। দিনের বেলায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর রাতে আবার সংযোগ নিয়ে নেয় তারা।
    
এ জোনের উপ-ব্যবস্থাপক মির্জা শাহনেওয়াজ লতিফ বলেন, শ্রীপুর পৌরসভার আনসার রোড এলাকায় গত এক বছরে ৯ বার অভিযান চালানো হয়। কিন্তু স্থায়ীভাবে তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব হয়নি। জয়দেবপুর জোনাল অফিসের ব্যবস্থাপক এরশাদ মাহমুদ জানান, অবৈধ সংযোগের ১৬৪টি স্টট তারা চিহ্নিত করেছেন। মঙ্গলবার মহানগরের শিমুলতলী ও মণিপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। প্রায় তিনশ’ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। জানা গেছে, টঙ্গী বিসিক এলাকায়, আউচপাড়া, দত্তপাড়া, সাতাইশ, দেওড়া ও গাজীপুরা এলাকায় একাধিকবার তিতাস কর্তৃপক্ষ অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ আবাসিক গ্যাস সংযোগ উচ্ছেদ করলেও তা পুনরায় চালু হয়েছে। টঙ্গী তিতাস গ্যাসের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. এমদাদ জানান, গত সোমবার হোসেন মার্কেট এলাকায় তিনটি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
    
নরসিংদীতে অবৈধ গ্যাস সংযোগে বাড়ছে ঝুঁকি :নরসিংদী প্রতিনিধি জানিয়েছেন, তিতাস গ্যাস সূত্রে জানা যায়, নরসিংদীতে তিতাসের অবৈধ সংযোগ রয়েছে পাঁচ হাজারেরও বেশি। গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জেলা শহরের সংগীতা মোড়, হাজীপুর, ভরতেরকান্দী, পাঁচদোনা ইউনিয়নের নলুয়া গ্রামের বাবুরবাড়ী এলাকা, পাঁচদোনা বাজারের পশ্চিম পাশের এলাকা, মাধবদী পৌরসভার বীরামপুর, মেন্ডতলা, কান্দাপাড়া, দড়িপাড়া, কুতোয়ালিরচর, আলগী, খোসপাড়া (নতুনবাজার), মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বিবিরকান্দি, মেনুরকান্দি, দড়িকান্দি, নূরালাপুর ইউনিয়নের ছোট রামচন্দ্রি ও শিমুলেরকান্দি গ্রামজুড়েই রয়েছে অবৈধ সংযোগ। এতে বিতরণ ব্যবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
    
সাভারেও অবৈধ গ্যাস :সাভার থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানিয়েছেন, সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে হাজার হাজার অবৈধ গ্যাস থাকলেও ওই এলাকায় গতকাল কোনো অভিযান পরিচালিত হয়নি। গত শুক্রবার সাভারের নামা গেন্ডা এলাকায় দুটি পোশাক কারখানা এবং যাদুরচর এলাকার একটি রাসায়নিক ও একটি মিষ্টান্ন কারখানার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এ অবৈধ গ্যাস সংযোগকে ঘিরে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও তিতাসের অসাধু কর্মকর্তাদের একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাভারের গেন্ডা, রাজাশন, সিটিলেন, উলাইল, কর্ণপাড়া, হেমায়েতপুর, আশুলিয়ার কবিরপুর, বারৈপাড়া, জিরানী, শ্রীপুর, বাইপাইল, বুড়িরবাজার, ডেন্ডাবর, পল্লী বিদ্যুৎ, শ্রীখন্ডিয়া, গাজীরচট, জামগড়া, বেরন, নিশ্চিন্তপুর, ঘোষবাগ, নরসিংহপুর, জিরাব, ইয়ারপুর, টঙ্গাবাড়ি, দুর্গাপুর, কাঠগড়াসহ আশুলিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়িতে ও সাভার পৌর এলাকাসহ গোটা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অবৈধভাবে গ্যাসের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এসব অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে অভিযান না হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে গ্যাস বিতরণ কার্যক্রম। সূত্র জানিয়েছে, সাভার এলাকায় সম্প্রতি গ্যাস বিস্ম্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। চলতি বছরের ৫ জুলাই আশুলিয়ার দুর্গাপুরের পূর্বচালা গ্রামের এক বাড়ির রান্নাঘরে গ্যাস সংযোগের লিকেজ থেকে বিস্ম্ফোরণ ঘটে। এতে দগ্ধ হয়ে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়। আশুলিয়ার নরসিংহপুরে তিতাস গ্যাসের পাইপ লাইনে বিস্টেম্ফারণের হাসিনা বেগম নামের এক নারীর মৃত্যু হয়। এতে দগ্ধ হন আরও বেশ কয়েকজন। সাভারে ভাগলপুরে গ্যাসলাইন বিস্ম্ফোরণে স্বামী ও স্ত্রী নিহত হন। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন অগ্নিদগ্ধ হয়। তিতাস সাভার এলাকার ডেপুটি ম্যানেজার আব্দুল মান্নান জানান, গত এক বছরে ২৬৫টি স্থানে ৭০টি অভিযানের মাধ্যমে ২০৭ কিলোমিটার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও ৪২টি স্থানে ৫৮ কিলোমিটার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
    
চট্টগ্রামে ১৫ হাজার ঝুঁকিপূর্ণ রাইজার :চট্টগ্রাম ব্যুরো জানিয়েছে, গত বছরের ১৭ নভেম্বর চট্টগ্রামের পাথরঘাটা এলাকায় একটি রাইজার বিস্ম্ফোরণে উড়ে যায় পাঁচতলা ভবনের একটি দেয়াল। এতে মৃত্যু হয় নারী-শিশুসহ সাতজনের। আহত হন আরও প্রায় ২৫ জন। ভয়াবহ সেই বিস্ম্ফোরণের পর কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (কেজিডিসিএল) জানায়, তাদের আওতাধীন দেড় লাখ রাইজারের মধ্যে ১৫ হাজার কমবেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
বাখরাবাদেও অবৈধ সংযোগের ছড়াছড়ি :কুমিল্লাসহ আশপাশের জেলাতেও হাজার হাজার অবৈধ সংযোগের তথ্য মিলেছে। কুমিল্লার কুটুমপুর, দেবিদ্বার, বুড়িচংসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘুষের বিনিময়ে বাসাবাড়িতে দেওয়া হয়েছে অবৈধ সংযোগ।
    
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের স্বল্পতা :বিতরণ কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, অভিযান পরিচালনা করতে গেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। না হলে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল কর্তৃক বাধার সম্মুখীন হতে হয়। কিন্তু বিতরণ কোম্পানিগুলো বারবার চেয়েও প্রশাসনের তেমন সহযোগিতা পায় না। স্থানীয় মাঠ প্রশাসন মাঝেমধ্যে তাদের ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে সহযোগিতা করে। সবচেয়ে বড় কোম্পানি তিতাস জানিয়েছে, তাদের নিয়মিত বড় অভিযানে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও ঢাকা অফিসের জন্য একজন করে নিজস্ব নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রয়োজন। জ্বালানি বিভাগের একজন উপসচিবকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে তাদের সঙ্গে ন্যস্ত করা হয়েছে। এভাবে বড় অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। এ ছাড়া জেলা শহরগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শিডিউল অনুসারে অভিযান পরিচালনা করতে হয়।
    
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য :জানতে চাইলে তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আলী মো. আল মামুন সমকালকে বলেন, গতকাল ঢাকার কাঞ্চনব্রিজ এলাকা ও গাজীপুরে একাধিক টিম অভিযান চালিয়েছে। তিনি জানান, তারা প্রতিটি জোনের জনবলকে ছয়টি টিমে ভাগ করে অভিযান পরিচালনা করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া দ্রুত বড় অভিযানে নামবেন।
বাখরাবাদ গ্যাস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শঙ্কর মজুমদার সমকালকে জানান, তাদের নিয়মিত অভিযান চলমান। বুধবার কুটুমপুর ও দেবিদ্বারে বড় অভিযানে নামবেন। এ ছাড়া আগামী ১০ ও ১৪ তারিখেও তাদের বিশেষ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হবে। তিনি জানান, গত আগস্টে ছয় দিনের অভিযানে ২১ কিলোমিটার অবৈধ লাইন উচ্ছেদ করা হয়। তিনি জানান, র‌্যাব ও পুলিশের সূচির সঙ্গে মিল রেখে অভিযানের সময় নির্ধারণ করতে হয়।
সিলেটে গ্যাস বিতরণের দায়িত্বে নিয়োজিত জালালাবাদ গ্যাস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. হারুনুর রশীদ মোল্লাহ সমকালকে বলেন, তার এলাকায় অবৈধ সংযোগ তেমন নেই। তারা যখনই অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের সংবাদ পান, তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তা বিচ্ছিন্ন করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here