অনেক ভালবাসি কিন্ত তাকে ভুলে যেতে চাই। কী করতে হবে?

0
22

আপনার হাতে নিশ্চয়ই স্মার্টফোন আছে বা ধরুন ফিচার ফোনই। কখনো এসবের ম্যামোরী কিংবা পিসির স্টোরেজে নিয়ে খেলার সুযোগ হয়েছে? কখনো ভুল করে প্রিয় কোনো ছবি ডিলেট করে দিয়েও নির্লিপ্ত থেকেছেন?

সামান্য এসব যন্ত্রই যেখানে একেবারে সবকিছু ভুলে যেতে পারে না। আপনি যেখানে মানুষ হয়ে কিভাবে চাইছেন ভুলে যেতে?

যারা জানেন না তাদের জন্য- ডিলেট করে দিলেই ডেটা একেবারে মুছে যায় না। ডিলেট করে দিলে সেটা শুধু আনরিডেবল হয়ে যায়, বিশেষ ধরনের সফটওয়ার ব্যাবহার করে সেসব খুব সহজেই ফিরিয়ে আনা যায়।

অনেক ভালোবাসেন, এরপরও স্রষ্টা মুখ তুলে তাকাননি। হয়তো শেষ পর্যন্ত সমীকরণটা মেলেনি, অথবা তার কিংবা আপনার বাবা বা মায়ের খুশির জন্য তাকে উৎসর্গ করে দিলেন। হতে পারে শেষে ভালো রাখতে পারবেন না ভেবে সরে যেতে চাচ্ছেন। জানেন, বিয়ের পর ভালোবাসার মানুষকে ভালো না রাখতে পারার কিংবা যে মেয়েটা আপনার ভরসায় আপনার কাছে এসেছে তার চাহিদা পূরণ করতে না পারার মতো ব্যথা হয়তো আর কিছুতেই হয় না। প্রেমের বিয়েতে অপরজনের কাছে আমাদের খুব বেশি ভালোবাসার দাবী থাকে, সেটুকু পূরণ না হলে ভালোবাসা খুব অসহায় হয়ে পরে।

দেখুন আমরা মানুষ। আমাদের এক্সপেকটেশন থাকে, চাহিদা থাকে, স্বপ্ন থাকে, কামনা-বাসনা থাকে। ভালোবাসার মানুষটার পাশাপাশি হাঁটতে ইচ্ছে করে, বৃষ্টিতে ভিজতে ইচ্ছে করে, একটা সুন্দর সংসারের স্বপ্ন থাকে, প্রিয় মানুষটার সাথে দুষ্টুমি কিংবা হুটহাট জড়িয়ে ধরা, তার কপাল কিংবা ঠোঁটে একটুখানি ছুঁয়ে যাওয়া- কখনো এসবের ঊর্ধ্বে নিজেকে নিতে পেরেছেন?

আমাকে হয়তো গালি দিবেন, পাগল ঠাওরাবেন। বলবেন, প্রত্যাশা ছাড়া ভালোবাসা যায় নাকি আবার! আপনি তাকে ভালোবাসেন, তাই তাকে পেতে হবে- কেনো এমনই হতে হবে? না পেলে কেনো ভালোবাসা যাবে না? কেনো কেউ চলে গেলেই তার সবটুকু ছুঁড়ে ফেলে দিতে হবে? ভুলে যেতে হবে!
 কেউ চলে গেলে আমাদের কষ্ট হয়। আমরা কষ্ট পাই। বুকের ভেতর বোবা কান্না চেপে আসে, অথচ কান্না করা যায় না। মরে যেতে ইচ্ছে করে। এটাই কিন্তু স্বাভাবিক। কারণ আমরা মানুষ। তবে কি জানেন, এই কষ্ট আপনার সারাজীবন থাকলেও, সারাজীবন একইভাবে ভোগাবে না। সেরকম না হলে সন্তান মারা গেলে বাবা/মা বেঁচে থাকতে পারতো না, কিংবা বাবা/মা মারা গেলে সন্তানের বেঁচে থাকা কষ্টকর হয়ে উঠতো। সৃষ্টিকর্তা অতি যত্নে আমাদের বানিয়েছেন, আমাদের মধ্যে প্রেম দিয়েছেন। নিশ্চই সেটা একেবারে ঠুনকো নয়?
 আমি মূল বিষয় থেকে হয়তো দূরে সরে যাচ্ছি, লেখা বড় হচ্ছে। কিন্তু বিশ্বাস করুন আমি আপনাকে কাউকে ভুলে যাওয়ার ১০টি উপায় বলতে আসিনি বা বলছিও না কিংবা বলবোও না। প্রতিটা মানুষ আলাদা। প্রতিটা মানুষের দুঃখবোধ আলাদা। দুঃখ পাওয়ার গল্প আলাদা। এজন্য সার্বজনীন কোনো নিয়মে আমরা কাউকে ভুলে যেতে পারিনা।
 তবে চাইলেই কিন্তু সার্বজনীন নিয়মে ভালোবাসা যায়। গোপন ফর্মুলা, শুধু আপনার জন্যই বলছি (হেহে)।
 নিজের সবটুকু উজার করে ভালোবাসুন। আমাদের সবারই একটা চিন্তার জগত থাকে, আপনারও আছে। আপনার ভালোবাসার মানুষটিকে ফিজিক্যাল এপেয়ারেন্স থেকে বিদায় করে আপনার সেই নিজের জগতে নিয়ে আসুন। খুব সহজ একটা কাজ কিন্তু। ধরুন, খুব ভালো একটা রোমান্টিক উপন্যাস পড়লেন, কিংবা দুইলাইন কবিতা পড়লেন- আপনার কল্পনার শহরে তাকে নিয়ে হাঁটতে বের হয়ে যান, আলতো করে হাতটা ধরে পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে তাকে কবিতাটা শোনান। একটুখানি মেঘ নিয়ে আসুন। চিন্তা নিয়ন্ত্রণ করার একছত্র অধিকার আপনাকে দেয়া হয়েছে, কেনো সেটা ব্যাবহার করছেন না বলুন তো? নিজের সৃষ্টি করা মেঘে একটু রঙ মেশান, বৃষ্টিতে ভিজুন। কে মানা করেছে আপনাকে?
 আমাদের সব শহরে রোদ নামে না, সব মেঘে বৃষ্টি হয় না। আমাদের সব ইচ্ছে পূরণ হয় না। ছোটবেলার প্রিয় খেলনাটা হারিয়ে ফেলার কিংবা ভেঙে যাওয়ার দুঃখটা কি এখনো মনে আছে?

একটা গল্প বলি-
ছোটবেলায় কাকিমা আমাকে একটা মাটির ঘোড়া দিয়েছিলেন। আমার খুব পছন্দের ছিলো ঘোড়াটা। ক্লাস ২তে পড়ি তখন। রোজ সে ঘোড়া নিয়ে খেলতাম। একদিন হাত থেকে পড়ে গিয়ে ভেঙে গেলো। হাহা। আমার খুব প্রিয় খেলনা ছিলো। এতোই প্রিয় ছিলো যে একসপ্তাহ পরই আমি কাকিমাদের এলাকায় গিয়ে আবার সেই একই লোকের হাতে বানানো একই রকম একজোড়া ঘোড়া কিনে আনি।
 অথচ প্রথমদিন ভালো গেলেও দ্বিতীয়দিন থেকে আমি আর সেগুলো ছুঁয়েও দেখিনি।

সৃষ্টিকর্তার উপর বিশ্বাস হারাবেন না কখনো। সৃষ্টিকর্তা যেটা করেন ভালোর জন্যই করেন। প্রার্থনা করুন, নিজেকে সামলে রাখুন আর তার জন্য দোয়া করুন। দেখবেন কষ্টটা তেমন আর থাকবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here